বাংলা ইসলামিক ইতিহাস। যুদ্ধের কৌশল ও পাকিস্তানের পরাজয়। আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়, সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ

বাংলা ইসলামিক ইতিহাস। যুদ্ধের কৌশল ও পাকিস্তানের পরাজয়। আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়, লেখক সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ


আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়
সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ
প্রি-অর্ডার - https://bit.ly/2UKrv2W
- Iftekhar Sifat

হিন্দুকুশের কয়েকটি ছোট পর্বতশ্রেণি (ইসপিনগড়, তোরা-বোরা পাহাড়, সুলেমান পর্বতশ্রেণি এবং টোবা কাকড়) মিলে একটি রাস্তা সৃষ্টি করে, যেটি পাকিস্তানের গোত্রীয় এলাকা এবং আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী প্রদেশ হয়ে বেলুচিস্তানের নিকটবর্তী এলাকায় গিয়ে বের হয়। 

এটি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরানের সীমান্তে আরব সাগর ও ভারত সাগর পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে আছে। 

এটি এমন বিস্ময়কর জায়গা যেখানে পুরো পৃথিবীই লুকোতে সক্ষম। এই এলাকা দিয়ে যে কেউই অনায়াসে নিরাপত্তাবাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে আফগানিস্তান, ইরান ও পাকিস্তানে আসা-যাওয়া করতে পারবে।

 এই এলাকায় সোভিয়েতের বিরুদ্ধে মুজাহিদরা সফলতার সাথে যুদ্ধ করেছেন। এরপর এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল আফগানিস্তানের তালেবান শাসনামলে তালেবান সরকারের অধীনস্থ ছিল।

 আর এখন এটি তালেবান আর আল-কায়েদার একটি নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পাকিস্তানের সাতটি গোত্রীয় এলাকা ব্রিটিশ আমলে আফগান ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী নিরপেক্ষ রাষ্ট্র (buffer state) হিসেবে ছিল।

 কাগজ কলমে তাদের শাসন করতো একজন ‘পলিটিকাল এজেন্ট’, যিনি ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের (বর্তমান খাইবার পাখতুনখোয়া) গভর্নরের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। 

ভারত বিভাগের পরও সামান্য কম-বেশি সীমানা নিয়ে এই এলাকাগুলো নিরপেক্ষই থেকে যায়। 

নির্ধারিত ‘পলিটিকাল এজেন্ট’ তখন উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের স্থলে খাইবার পাখতুনখোয়া গভর্নরের প্রতিনিধিত্ব করা শুরু করে।


কিন্তু আগের মতোই গোত্রীয় এলাকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন আইনই প্রয়োগ হতে থাকে। এখানে শাসনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ছিল গোত্রের সর্দাররাই।


২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের পিছু হটার পর আমেরিকা ও তার মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সফলতার সাথে লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে আল-কায়েদা তার সামরিক, আদর্শিক ও অর্থনৈতিক সকল শক্তি এই অঞ্চলে প্রভাব-প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করেছিল।

 আল-কায়েদা নেতৃবৃন্দ আত্নবিশ্বাসী ছিল যে, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী আর উন্নত অস্ত্রসজ্জিত সেনাবাহিনীও এই দুর্গম এলাকাতে তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে না। 

৯/১১-এর আগে পাকিস্তান কখনও পশ্চিম সীমান্তের এই গোত্রীয় এলাকায় সেনাবাহিনী নামানোর প্রয়োজনও মনে করেনি। 

কিন্তু ৯/১১-এর পর আমেরিকা চাপ সৃষ্টি করে এখানে ৮০,০০০ সেনা পাঠাতে বাধ্য করেছিল।

 আর সময়ের সাথেসাথে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আল-কায়েদা নেতৃবৃন্দ বুঝতে পেরেছিল, ৯/১১-এর পর এখানকার অবস্থা বদলে যাবে এবং পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। 

এজন্য ২০০১-এর পরবর্তী সময়ে আল-কায়েদা এই অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। ২০০২-২০০৪ পর্যন্ত এজন্যই তাদেরকে আফগানিস্তানের যুদ্ধের ময়দানে তেমন দেখা যায়নি।


আল-কায়েদা এই এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরেই আফগানিস্তানে ন্যাটোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনযোগ দেয়। আল-কায়েদা আফগানিস্তানে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য পুরো দুই বছর ব্যয় করে। 

একই সময় তারা লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ নিজেদের সুবিধাজনক ভূমি তৈরি করে নেয়; যাতে প্রয়োজনে আমেরিকা এবং পাকিস্তান উভয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই লড়াই করতে পারে।


প্রথমদিকে আল-কায়েদার প্রভাব-প্রতিপত্তি কেবল উত্তর-দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান আর বাজাউরের সামান্য অংশেই সীমাবদ্ধ ছিল। 

কিন্তু আল-কায়েদা অত্যন্ত সতর্কতা ও কৌশলের সাথে এমন অবস্থা তৈরি করে যে, রাষ্ট্রের নির্ধারিত পুরোনো রাজনৈতিক এজেন্টদের বদলে স্থানীয় যোদ্ধাদেরকে দেখা গেল। 

এরপর আল-কায়েদা একই কৌশল পাকিস্তানের অন্যান্য গোত্রীয় এলাকায় প্রয়োগ করলো। ২০০৮-এর মধ্যে পাকিস্তানের সাতটি গোত্রীয় এলাকাই আল-কায়েদা সমর্থিত যোদ্ধাদের অধীনে চলে এল।


২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আল-কায়েদা তার প্রচেষ্টা জারি রাখলো। এই সময়টায় পাকিস্তান নিজ গোত্রীয় এলাকায় আল-কায়েদার অবস্থান শক্ত করা থেকে সময়ে সময়ে বাঁধা দিতো; 

তাছাড়াও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম নিঃসন্দেহে একটি সংগঠনের কার্যক্রমের চেয়ে সবসময় উন্নতই হতো।

 কিন্তু আল-কায়েদার মতো আদর্শভিত্তিক আন্দোলনকে রাজনৈতিক কার্যক্রম ছাড়া 

কেবল সামরিক আক্রমণ চালিয়ে পরাজিত করা যে সম্ভব না — এই বাস্তবতা পাকিস্তান সরকার বুঝতে পারেনি।



 ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান বেশ কয়েকবার সামরিক অভিযানও চালিয়েছে। 

কিন্তু সেইসব সামরিক কার্যক্রমে দূরদর্শী চিন্তাধারা ও সঠিক কৌশলের অভাব ছিল। 

একদিকে মোশাররফ সরকার কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ও জাতীয় সাহায্য-সহানুভূতি ছাড়াই এই জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণ করে চলছিল,

 অপরদিকে আল-কায়েদা ইসলামের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে সেটাকেই নিজেদের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছিল।

 এই কারণেই তারা প্রাথমিক পরাজয় ও পিছু হটার পরও দ্বিতীয়বার উত্থান ঘটাতে সক্ষম হয় এবং বাজাউর, ওরাকযাই, কুররাম, মোহমান্দ ও খাইবার এজেন্সিতে সফলভাবে সাহসিকতার সাথে অগ্রসর হয়।

 সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে, জঙ্গিগোষ্ঠী দূরদর্শী কৌশল ও চিন্তাধারা মাথায় রেখে কাজ করেছে। 



অপরদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সীমাবদ্ধ চিন্তা ও কর্মকৌশল নিয়ে অভিযান চালিয়েছে। এর সাথে আরেকটা বিষয় ছিল, যা শেষপর্যন্ত আল-কায়েদার জন্য লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।


৯/১১-এর পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্ণধারেরা ভেবেছিল যে, আমেরিকা হয়তো পাঁচ বছরের মধ্যেই পরাজিত হয়ে ফিরে যাবে।

 এইরকম চিন্তা মাথায় রেখে মোশাররফ সরকার জিহাদি এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ চালু রেখেছিল।

 তাঁদের মধ্যে মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা সামিউল হক হাক্কানি, হাফিয সাঈদ, কাযী হুসাইন আহমাদ এবং মাওলানা ফজলুর রহমান খলিলের মতো বড় বড় উলামায়ে কেরামগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

মোশাররফ এই আলেমগণকে পাঁচ বছর নীরব থাকার অনুরোধ করে বললো যে, পাঁচ বছরের মধ্যে অবস্থা বদলে যাবে। 

মোশাররফ ভেবেছিল, আমেরিকা সুবিধা করতে না পেরে আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে।

 তখন পাকিস্তান আবার আফগানিস্তানে ইসলামপন্থীদেরকে সাহায্য করার পুরোনো পলিসি গ্রহণ করবে আর তখন সেটি কাশ্মীরে পাকিস্তানের ভারতবিরোধী আন্দোলনকে এক অনন্য শক্তিশালী করে তুলবে। 

এই ধরনের সৈনিকসুলভ চিন্তাধারার কারণে পাকিস্তান গোত্রীয় এলাকায় জিহদি গোষ্টীগুলোর বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তি দিয়ে লড়াই করা থেকে বিরত থেকেছিল।


 আর পাকিস্তান সেনাবাহিনীও জিহাদি গোষ্ঠীর সাথে মারাত্নক ধরনের শত্রুতা করার প্রয়াস চালায়নি।

তারা এই চিন্তায় বিভোর ছিল যে, আমেরিকা চলে গেলেই গোত্রীয় এলাকায় আরেকবার সম্পর্ক স্থাপন করবে।

কিন্তু এমন চিন্তাধারা আদৌ উত্তপ্ত হতে থাকা পরিস্থিতির সঠিক ব্যাখ্যা ছিল না। আমেরিকা কোনোভাবেই পাঁচ বছরের মধ্যে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পাত্র ছিলনা। 

আর বাস্তবেও পাঁচ বছর পর যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে; আর আমেরিকার জন্য নিকট ভবিষ্যতে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার চিন্তা করাটাও মুশকিল হয়ে যায়।

 ধীরে ধীরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সকল আধুনিক রাজনীতিপন্থীরা ইসলামপন্থী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জড়িয়ে যায়।

 বিশেষত পাকিস্তান সরকার এই পরিস্থিতিতে এসে এমনভাবে ফেঁসে যায় যে, লড়াই করা ব্যতীত কোনো পথই খোলা থাকে না।

 কিন্তু ততদিনে জল অনেকদূর পর্যন্ত গড়িয়ে গেছে। সময় এবং সুযোগ উভয়টিই হাতছাড়া হয়ে গেছে। 


যোদ্ধারা প্রতিরক্ষা শক্তিতে এমন উন্নতি করেছিল যে, তারা নিজস্ব কৌশলে লড়াই করতে এবং শত্রুকে ইচ্ছেমতো ময়দানে নামিয়ে আনতে সক্ষম ছিল।

 প্রথমদিকে তারা তাদের কার্যক্রম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ এবং বেলুচিস্তান প্রদেশের কিছু শহর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছিল। 

যখন পাকিস্তান সেনাবাহিনী সামরিক কার্যক্রম বিস্তৃত করলো, তখন আল-কায়েদাও তাদের কার্যক্রম শহরে বিস্তার ঘটালো। 

জিহাদি নেটওয়ার্কের এই সামরিক কৌশল পাক সেনাবাহিনীর নেতৃবন্দকে চিন্তায় ফেলে দিল। 

আল-কায়েদার যোদ্ধারা প্রাদেশিক জেলার বড় বড় শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে সেখানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করলো। 

এমনকি ২০০৮-০৯-এর দিকে তো লোকেরা বলাবলিও করতে লাগলো যে, পেশোয়ারেও তালেবানের শাসন এসে যাবে।
.

|| দারিদ্র বিমোচন বনাম প্রচলিত যাকাত ||


যাকাত বিতরণ চলছে। রুহুল মিয়া ছুটেছেন পাশের গ্রামের উদ্দেশ্যে। প্রভাবশালী নেতা রবিউল সাহেব প্রতিবছর এই দিনে যাকাত দেন।

যথাসময়ে সিএনজি থেকে নেমে দ্রুত লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন রুহুল। সকাল ন'টা থেকে দুপুর একটা—দীর্ঘ চার ঘন্টার যুদ্ধ শেষে একখানা লুঙ্গি আর পাঁচশো টাকা হাতে বিজয়ী বেশে ফিরলেন তিনি। মুখে তখনও তার হাসি। সে হাসি প্রাপ্তির। মাঝে বাধ সাধলেন মুখলিস মিয়া।


_কি মিয়া, এই সুমায় এইখানে?
_আম্নের কুনো সমিস্যা? রুহুল মিয়ার চেহারায় বিরক্তি
_ঐ গেরামের মানুষ এই গেরামে ক্যান?
_কাইলকা তো মোতালেব মিয়া দিবো। দেহুম ক্যামনে আহেন আমগো গেরামে।


এক দফা ঝগড়া হয়ে গেল। পরদিন নামধাম করে যাকাত দিলেন মোতালেব সাহেব। শিল্পপতি ও দানশীল হিসেবে গ্রামে তার বেশ নামডাক আছে। যথাসময়ে চুপিসারে পৌঁছে গেলেন মুখলিস মিয়া। একখানা লুঙ্গি আর হাজার খানেক টাকা নিয়ে ফিরে এলেন নিজ গ্রামে।
.
.
কাজের মেয়ে নিতু। গত দু'মাস থেকে সে রেহানা বেগমের ঘরে রান্নাবান্না ও ঘর মোছার কাজ করে। এর আগে আরেক বাসায় কাজ করতো। কিন্তু কর্ত্রী মহিলাটি কর্কশভাষী হওয়ায় সেখান থেকে চলে আসতে হয়। এখানে সে বেশ ভালোই আছে।

 নিজের পারিবারিক কথাও রেহানা খালাকে মন খুলে বলতে পারে সে।


মাস ছয়েক আগে নিতুর স্বামী এক্সিডেন্টে ডান পা হারান। পেশায় তিনি ছিলেন ভ্যানচালক। এরপর আজ ছ'মাস তিনি পঙ্গু। 

তার এই অচলাবস্থার দরুণ পরিবারও অচল হয়ে পড়ে। শেষমেশ পেটের দায়ে নিতুকে বাসাবাড়ির কাজ বেছে নিতে হয়।


রেহানা খালা আজ হঠাৎ কী মনে করে যেন বললেন—কাল সকালে তোমার স্বামীকে নিয়ে এসো। তোমার আঙ্কেল মানে নুহার আব্বু তার সাথে কথা বলতে চান।

পরদিন সকালে স্বামীকে নিয়ে এলো নিতু। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করার পর ঘরকর্তা জাভেদ সাহেব জানতে চাইলেন, ছোটখাটো ব্যবসায় তার আগ্রহ আছে কিনা?

নিতুর স্বামী হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লেন। আর তখনই জাভেদ সাহেব তাকে একটি ছোট দোকান খোলার কথা বললেন। দোকানের আর্থিক জোগান হিসেবে এই বৎসর যাকাতের পুরো টাকাটা তাকে দিয়ে দিলেন।
.
.
যাকাত প্রদানের উপরোক্ত দুটি পদ্ধতির মধ্যে কোনটা আপনার কাছে অধিক যুক্তিযুক্ত মনে হয়? বস্তুত যাকাতের উদ্দেশ্য দারিদ্র বিমোচন। 

সমাজের ধনী ও গরিব শ্রেণির মাঝে ভারসাম্য তৈরি করণ। ধনীদের অর্থের কিছু অংশ গরিবদের দেয়ার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করণ। কিন্তু আমাদের সমাজে প্রচলিত যে যাকাত পন্থা, সেটা কোনোভাবেই ইসলাম সম্মত নয়।

দেখা যায়, দুই যুগ আগে যারা যাকাত নিত, আজও তারা যাকাত নিয়েই যাচ্ছে। সেই যে গরিব ছিল, আজও তারা গরিব। প্রতিবছর যাকাত দেয়ার মাধ্যমে ওদের 'দরিদ্র' সত্তাকে জিইয়ে রাখা হয়েছে। কীভাবে?

গরিবরা যখন দেখল, এর ওর যাকাত-ফিতরার টাকা দিয়ে ওদের দিনকাল ভালোই যাচ্ছে, তখন 'স্বনির্ভর' হওয়ার চিন্তা ওদের মাথা থেকে বেরিয়ে গেল।

 ধনীদের কাছে হাত পাতাকেই ওরা নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিল। এক দুই হাজার টাকায় একটা ফ্যামিলি কীই-বা করতে পারে?

 ভিক্ষার মতো করে প্রতিবছর এই টাকাগুলো ওদের দেয়া হয়। কিন্তু এটার ফায়দাটাই বা কী, যদি না ওরা এতে স্বাবলম্বী হয়?
আবুল হাসানাত কাসিম

বাংলা ইসলামিক ইতিহাস। যুদ্ধের কৌশল ও পাকিস্তানের পরাজয়। আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়, সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ বাংলা ইসলামিক ইতিহাস। যুদ্ধের কৌশল ও পাকিস্তানের পরাজয়। আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়, সাইয়্যেদ সেলিম শেহজাদ Reviewed by Dr.Mira Hasan on May 23, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.