যুদ্ধবাজ আমেরিকা বনাম চীন | "করোনা" ভাইরাস নাকি চীনের তৈরি জৈব অস্র "উহান ভাইরাস" স্পেনিশ ফ্লু বনাম করোনাভাইরাস

করোনা পরবর্তী যুদ্ধ | খুদা মহামারী মারামারি | আমেরিকা বনাম চীন  স্পেনিশ ফ্লু বনাম করোনাভাইরাস




ট্রাম্প প্রথম থেকেই বলে আসছিল, "এটা করোনাভাইরাস নয়; উহান ভাইরাস।" আমরা বাংলাদেশে থেকে ট্রাম্পকে পাগল বললেও সে আদতে পাগল নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, সে সবচেয়ে প্রভাবশালী এক রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। করোনা চীনের জৈবাস্ত্র—তা আমি বলছি না বা বলার মতো তেমন কোন প্রামাণ্য তথ্যও নেই। তবে অবজ্ঞা করে বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে নির্ভারও থাকছি না। 'হতে পারে' ক্যাটাগরিতেই রাখছি। কারণ, পৃথিবীর ইতিহাসে অসংখ্যবার জৈবাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। এই চীনও জাপানের ছড়ানো জৈবাস্ত্রের শিকার। সুতরাং আগে যদি হয়ে থাকে, এখন কেন হবে না? সাম্রাজ্যবাদীরা কি বেঁচে নেই। ওরা কি পীরে কামেল হয়ে গেছে?
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হাই প্রোফাইল গোয়েন্দা সংস্থা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, "চীন মৃত এবং আক্রান্তের সংখ্যা প্রথম থেকেই গোপন করেছে। এ পর্যন্ত চীনে মারা গেছে ৫০ হাজার মানুষ।" চীনকে ধরতে এগুলো কাজে দিবে। বুঝতে হবে, এতো এতো পৃষ্ঠার রিপোর্ট এমনি এমনিই করছে না। যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য এগুলোর বড্ড প্রয়োজন। আর সে কারণেই রাতদিন পরিশ্রম করে ড্যাটা তৈরি করা হচ্ছে।
গত পরশুও ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছে, "কোনোমতে যদি প্রমাণ হয়, করোনা উহানের ভাইরোলজি ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে তাহলে চীনকে কঠিন পরিণাম ভোগ করতে হবে।" উচ্চ আওয়াজের সাইরেন এটা।
তারমানে সেটির প্রমাণ দাঁড় করাতে তারা মরিয়া। এমনকি নানাবিধ তথ্যপ্রমাণ প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছে হয়ত। তারা এসবে সিদ্ধহস্ত। তাই হুংকার ছুঁড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন একটি প্রযুক্তি আছে যদ্দ্বারা যেকোনো ব্যক্তি বা স্থানকে ক্লোন করে হুবহু ভিডিও বানাতে পারে। যেমন: চীনের প্রেসিডেন্টের কমান্ড দেয়ার কোন এক ভিডিওতে তারা জাস্ট বানানো কথা ঢুকিয়ে দিবে। কন্ঠের কোনো পরিবর্তন হবে না। দীর্ঘ মেয়াদী তদন্ত ছাড়া ভিডিওকে মিথ্যা বলার সুযোগ নেই। সেই প্রযুক্তি কি যুক্তরাষ্ট্র কাজে লাগাবে না?
স্বার্থের জন্য সবই করতে পারে তারা। ইরাকে যখন বুশ আক্রমণ করতে যায় তখন কি তাদের হাতে কোনো প্রমাণ ছিল? না। এমনকি ৪০০ গোয়েন্দা রিপোর্টেও টুইনটাওয়ারে হামলার পিছনে সাদ্দামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবুও রাতারাতি স্যাটেলাইট ইমেজ তৈরি করে সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে হামলা করেছে। আমেরিকা কোনো যুদ্ধেই সুনিশ্চিত কারণে জড়ায়নি। যুদ্ধ করেছে জাস্ট নিজেদের স্বার্থ আদায়ের জন্য। তারা কারণ তৈরি করে তারপর যুদ্ধ করে। চীনের সাথে হয়ত তাই হতে যাচ্ছে।
চীন ডলারের বিরুদ্ধে। ডলার ব্যবস্থা ভেঙে ফেলতে সচেষ্ট। নিজেদের ইয়ানে ব্যবসা করার জন্য গুটি চালাচালি করছে। তেল কারবারিদেরকে ইতোমধ্যে বলে দিয়েছে, ইয়ানে বেচতে হবে, ইয়ানে। ডলার বাদ। আর ডলারের প্রভাব কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্র মুহূর্তে তলিয়ে যাবে। সুতরাং এমন ভয়ানক শত্রুকে ঝোপ বুঝে কোপ মারবেই।
এই কোপ মারাটা এখন আরও সহজ। ইউরোপও চীনের ওপর মারাত্মক ক্ষেপা। যুক্তরাজ্যও বিশ্বাস করে, এটা উহান ভাইরাস। করোনা ভাইরাসের কারণে চীনের কাছে ১৩০০০ কোটি পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ চেয়েছে জার্মানি। জার্মানির 'বিল্ড- পত্রিকার প্রতিবেদন তাই বলছে। ক্ষোভ ঝেড়েছে ফ্রান্সও।
এসব রাষ্ট্রের সংঘবদ্ধ ক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র কাজে লাগিয়ে আধিপত্যের লড়াইয়ে যে নামবে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত।
পেটে ভাত না থাকলে মানুষ ডাকাতি শুরু করে। বিশ্বের ক্ষমতাধরদের দশা কিন্তু এমনই হয়েছে। ভাতের পাতিলে আগুন লেগেছে। সুতরাং যুদ্ধ একটা হবেই—হোক সেটা স্নায়ুযুদ্ধ বা ভারি অস্ত্রের যুদ্ধ।
আর যুদ্ধ লাগলে আমাদের পরিস্থিতিও এমন থাকবে না। আরও খারাপ হতে পারে। সুতরাং সম্পদ হাতে রাখি। পরিশ্রমী হই। সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত হই।

কি হবে কি হবে না তা আমরা শিউর জানিনা, ধারনা করতে পারি।
সব জানেন আল্লাহ্‌ ।




স্পেনিশ ফ্লু বনাম করোনাভাইরাস


১৯১৮-১৯ সালে স্পেনিশ ফ্লুর আক্রমণ। প্রায় পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছিল ভয়ংকর সেই ফ্লু। শুধু ভারতবর্ষেই মারা যায় ১২-১৫ মিলিয়ন মানুষ। পুরো বিশ্বময় মারা যায় অন্তত ৫০ মিলিয়ন লোক। যদিও বিশেষ কারণে মৃতের সংখ্যাটি ছোট করে দেখানো হয়। প্রকৃতপক্ষে ৫ কোটি মানুষ মারা যায় স্পেনিশ ফ্লু-তে। আর আক্রান্ত হয় বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ। আজকাল নানানজনের মুখে বা লেখায় সেই স্পেনিশ ফ্লুর কথা শুনি। কিন্তু ঐ ফ্লুর নাম কেন স্পেনিশ ফ্লু করা হল সেই প্রশ্নও বারবার উঁকি দেয়। দেয় না আপনাদের?

তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকা আকাশে বাতাসে। শক্তিশালীরা আগ্রাসী। শক্তিহীনরা শরণার্থী। ঠিক এমন সময়েই মহামারি ফ্লুর হানা। ১৯১৮ সালের মার্চের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কানসান মিলিটারি ক্যাম্পে প্রথম শনাক্ত হয়। একজন সেনা হঠাৎ ঠাণ্ডাজ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে সাধারণ ট্রিটমেন্ট দিয়েই নির্ভার হয়ে যায় সেনা চিকিৎসকরা। এরপর খুব দ্রুতই একের পর এক সেনারা ঠাণ্ডাজ্বরে আক্রান্ত হতে থাকে। চিকিৎসকরাও ভাবতে থাকে। গবেষকগণ রিসার্চ করতে থাকেন। জটিল কিছু পেয়েও যায়। কিন্তু তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকায় তা শুধু সর্বোচ্চ মহলেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিপরীতে সেনাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে ডাক্তাররা অতি সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বলে চালিয়ে দেয়।
কানসান ক্যাম্প থেকে পরের এক মাসে প্রায় দুই লাখ সেনা ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন সাব ক্যাম্পে স্থানান্তরিত হয়। সাথে নিয়ে যায় ভয়ংকর রোগ স্পেনিশ ফ্লু। মে মাসে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়া সর্বত্র ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ যুদ্ধ নিয়ে কি ভাববে, রোগ নিয়েই ছিল পেরেশান। যুদ্ধকালীন সময়ে স্পেনের নীতি ছিল অন্যান্যদের থেকে একটু ব্যতিক্রম। ইউরোপ-আমেরিকা যখন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা টোটালি বন্ধ করে দিয়েছিল সেখানে স্পেনের মিডিয়া ভোগ করছিল অবাধ স্বাধীনতা। সে সুবাদে মে মাসের শেষের সপ্তাহে স্পেনের জাতীয় পত্রিকায় মহামারি বিষয়ে লিডিং নিউজ ছাপা হয়। পুরো বিশ্বে হইচই শুরু হয়ে যায়। সেনারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী দেশের শাসকরা চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঠিক সে সময়ে আমেরিকা রাখঢাক না করে স্পষ্টত ঘোষণা করে, "এটা স্পেনিশ ফ্লু"। অথচ ফ্লুর জন্মভূমি কিন্তু আমেরিকার কানসান সেনা ক্যাম্প। তারা শনাক্তও করে। কিন্তু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কারণে তা গোপন রাখে। ফলে খুব সহজেই বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে। স্পেনের দোষ, কেন সেটা গণমাধ্যমে প্রচার করল। ব্যাস, রোগের নাম দেয়া হল স্পেনিশ ফ্লু।
করোনাভাইরাস বিশ্বে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পিছনেও সেই একই কারণ আছে। করোনাভাইরাস চীনে প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। অথচ প্রচারে আসে জানুয়ারিতে। যে ডাক্তার প্রথম শনাক্তের খবর অনলাইনে নিয়ে আসে তার ওপর চায়না কর্তৃপক্ষ চড়াও হয়। চাকরি থেকে সাসপেন্ড করে। নজরবন্দী করে রাখে। শেষমেশ সেই ডাক্তারও মারা যায়। চিন করোনাভাইরাসকে গোপন রাখতে এমন কোনো হীন কাজ নেই যা তারা করেনি। যখন নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় এবং বিশ্ব মিডিয়ার নজরে চলে আসে তখন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ততোদিনে সব মহাদেশেই ভাইরাস চলে যায়। এমনি তারা আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা প্রকাশ নিয়েও করে নয়ছয়।
চিনের করোনা গোপন রাখার কারণ হচ্ছে, বহির্বিশ্বে তাদের বাণিজ্যিক ধারা যাতে ব্যাহত না হয়। কারণ উহান হচ্ছে কমার্শিয়াল শহর। বিশ্বের সব বাঘাবাঘা ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে কাঁচামাল আমদানি করেন। করোনার কারণে বন্ধ করে দিলে আর্থিক ক্ষতিতে পড়বে চিন। মানুষ মরে মরুক তবুও অর্থের ক্ষতি না হোক—এই নীতিই ছিল চিনের। ফলে আজ সবাই আমরা বন্দী কারাগারে। আগুন লেগেছিল চিনের ঘরে সেই আগুন একটু একটু করে সবার ঘরেই লাগিয়ে দেয়া হল।
সুতরাং আজও এই ভাইরাসকে করোনা না বলে চায়না ভাইরাস বলাই যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্র ট্রাম্প তার পূর্বসূরিদের ইক্তেদা করে বলেই দিয়েছেন, "এটা করোনাভাইরাস নয়; উহান ভাইরাস।" এমনটিই অন্তত চিনের মতো মারাত্মক নিপীড়ক এবং অনৈতিক জাতির জন্য যুতসই। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এদের অসভ্যতা, পশুত্ব, রাক্ষুসে মনোভাব এবং হায়েনা চরিত্র থেকে শিক্ষা নিতে পারে।


Powered by Blogger.