ইমাম মাহদি কে কবে আসবেন | ইমাম মাহদি দাবির পোস্টমর্টেম | ইমাম মাহদি নিয়ে হাদিস

ইমাম মাহদি কে কবে আসবেন | ইমাম মাহদি দাবির পোস্টমর্টেম | ইমাম মাহদি নিয়ে হাদিস


লেখাটি Kaisar Ahmad ভাই এর ওয়াল থেকে নেওয়া।
জাজাকাল্লাহ

সময় যত গড়াবে আমরা তত ফিতনার সমুদ্রের গভীর থেকে গভীরে ডুবতে থাকব। কুর'আন হাদিসের নূর ছাড়া আমরা এই গভীর অন্ধকারে ফিতনা হতে বাঁচতে পারব না। হতে পারে আমরা ভুল করে আমাদের বহুল প্রত্যাশিত সত্য ইমাম মাহদিকে না চিনে ভন্ডকে ইমাম মাহদি মেনে নিব। যুগে যুগে এমন হয়েছে। অসংখ্য ভন্ডরা নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করেছিল। আমরা যেহেতু ইমাম মাহদির আগমনের নিকটবর্তী সময়ে অবস্থান করছি তাই এই সময়ে এমন ভণ্ডদের সংখ্যা আরো বাড়বে, তাদের দাবি আরো জড়ালো হবে। অতএব আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। 

পথভ্রষ্ট করতেও কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। প্রতিভাহীন ব্যক্তি দ্বারা মানুষকে ধোঁকায় ফেলা যায় না। যে কেউ গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি হতে পারে না। কাদিয়ানীর ব্যক্তিত্ব ছিল বলেই সে এত বেশি লোককে পথভ্রষ্ট করতে পেরেছে। শয়তানের বিভিন্ন অস্ত্র রয়েছে। রাস্তার একজন সাধারণ ফকির নিজেকে মাহদি দাবি করবে না, কেননা সে তেমন ক্ষতিকর নয়। মানুষরা তাকে ত্যাগ করবে। তাই শয়তান এমন অকেজো অস্ত্র ব্যবহার করে না। শয়তান ভালো করে জানে কোন অস্ত্র কেমন ক্ষতিকর। যে ব্যক্তি যত বড় পদে আসিন, সে ব্যক্তি দ্বারা শয়তান তত বেশি ফিতনা ছড়াতে পারে। তাই আমরা দেখি অতীতে যত লোক নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করেছেন তাদের মধ্যে প্রত্যেকের কিছু না কিছু প্রতিভা ছিল। অধিকাংশরাই প্রথম জীবনে ভালো মুসলিম ছিলেন। তারা সমাজে জনপ্রিয় ছিলেন। প্রথমে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করতে চাই। ইমাম মাহদি দাবি করা লোকদের মধ্যে তিনি হলেন অন্যতম। 

ফিতনায়ে মাহদুবি

সাইয়েদ মুহাম্মাদ ছিলেন একজন উঁচু মাপের ব্যক্তি। সব সময় উম্মাহ নিয়ে ফিকিরে থাকতেন। দরদের সাথে আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের আমল করতেন, তাই তাকে 'আসাদুল উলামা' খেতাব দেয়া হয়েছিল। তাসাউফের লাইনে তিনি বড় সাধন করেছেন। একাকীত্বে ধ্যান করতেন। বিভিন্ন কারামত তার থেকে প্রকাশ পেত, যা দেখে গভীর জ্ঞান ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিরাও ধোঁকায় পড়ে যেত। আসলে তা ছিল তার তেলেসমাতি। তার বয়ান শ্রোতাদের বিমোহিত করত। রাজা-বাদশা ও জনসাধারণ সবাই হয়ে পড়ত আত্মবিস্মৃত। আত্মনিয়ন্ত্রণ শক্তি শ্রোতারা হারিয়ে ফেলত। তার মায়াজালে মানুষ এমন ভাবে আঁটকে যেত যে নিজ পরিবার পরিজন সব ছেড়ে তার কাছে নিজেকে সোপর্দ করত। তার সহযাত্রায় শামিল হয়ে যেত। সে একের পর এক শহরে গিয়ে বয়ান করত। আর মানুষদের এত ভিড় হত যা শহররক্ষীরা থামাতে পারত না। শাসকরাও ভক্ত হয়ে যেত। এভাবে কিছু কাল চলে। অতঃপর সে নিজেকে 'প্রতিশ্রুত মাহদি' বলে দাবি করে। তার উপর সকলকে ঈমান আনার দাওয়াত দেয়া শুরু করে। সে বায়তুল্লাহর প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নিজেকে ইমাম মাহদি বলে দাবি করে। তার ভাষণটা ছিল- 

"লোক সকল বুঝে নাও, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের মতো আমার নামও মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ। আমার মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা রাসুলের খিলাফতের ইতি টেনে দিয়েছেন, আমাকে নির্বাচন করেছেন নিজ নবির সম্মানিত উম্মতের খলিফা হিসেবে। আমি হলাম প্রতিশ্রুত মাহদি। যার সুসংবাদ নবিজি সা. দিয়ে গেছেন। 

তাই আমি জেনে শুনে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি যে, আমি বেহুশ নয়, বাহুশ। চেতনা বা অবচেতনা আমার বেলায় প্রযোজ্য নয়। কারণ আল্লাহর পক্ষ হতে আমাকে পবিত্র রিযিক দেয়া হয়। আল্লাহ ছাড়া আমার অন্যকোন জিনিসের প্রয়োজন নেই। আমি রাজা রাজত্ব চাই না। নেতৃত্বের কোনো খাহেশ আমার নেই। আল্লাহর পক্ষ হতে আদিষ্ট হয়েছি বলেই এতটা গুরুত্বের সাথে আমি তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছি। আমার প্রতি অনুগত থাকা আল্লাহ তা'আলা সকলের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। আমাকে অস্বীকার করা মানে আল্লাহকে অস্বীকার করা। নিজেদের মুক্তির জন্য আমার প্রতি ঈমান আন। অনতিবিলম্বে আমাকে মান, নতুবা তোমাদের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। আল্লাহর শপথ, একমাত্র আমিই উম্মতে মুহাম্মাদির হালাকত টলিয়ে দিতে পারি, দূর করতে পারি অমানিশার আঁধার। ভ্রষ্টতা হতে আমিই তোমাদের বাঁচাতে পারি। আমার আচারণ-উচ্চারণ-কর্মকৌশল কুর'আনের সাথে মিলিয়ে দেখ, কুর'আন অনুযায়ী হলে আমাকে মান, নতুবা আমাকে হত্যা কর। সব বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর।..।" 

এই ভাষণটা বিশ্বাসযোগ্য ও সম্মানিত কোনো ব্যক্তির মুখে শুনলে ইলম না থাকা লোকেরা সহজে বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন, এটা স্বাভাবিক। এই চতুর লোক অনেক বুঝে শুনে এমন ভাষণ তৈরি করেছিল। এই ধরণের লোকেরা কুর'আন সুন্নাহ দিয়ে দলিল দিতে পারে না। তাদের প্রধান দলিল হয় স্বপ্ন-কাশফ-ইলহাম কিংবা তেলেসমাতি ও চোখের ধোঁকা। মাঝে মধ্যে এরা অপব্যাখ্যা, রূপক ব্যাখ্যা, কিংবা জাল বানোয়াট হাদিসের সাহায্যে দলিল দেবার কোশেশ করে। 

স্বপ্ন-কাশফ-ইলহাম 

স্বপ্ন, কাশফ-ইলহাম কখনই দলিল নয়। বরং শরিয়তের দলিল দিয়ে এগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হয়। যদি শরিয়তের মাপকাঠিতে স্বপ্ন-কাশাফ ঠিক হয় তবে শরিয়ত আমল করতে বলেছে বলেই তাতে আমল করা যাবে, স্বপ্নে নির্দেশ এসেছে সে জন্য নয়। একই ভাবে ইলহাম বা ফয়েযরূপে প্রদত্ত ইলকা কোনো কিছুর সঠিকত্ব জানার মাধ্যম নয়। 

একজন বিচারকের নিকট দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দিল। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে গেলেন, স্বপ্নে দেখলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলছেন, 'তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করো না। ঐ সাক্ষ্য বাতিল।' এমতাবস্থায় উক্ত বিচারকের কী করা উচিত তা ইবনে রুশদ কুরতুবি রহিমাহুল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করা হল। তিনি জবাবে বললেন, ঐ বিচারকের দায়িত্ব হচ্ছে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে সে মোতাবেকই ফয়সালা করা। যদি তিনি তা না করেন তাহলে এটা স্বপ্নের মাধ্যমে শরিয়তের বিধান বাতিলের নামান্তর হবে। 

ধরুণ, এক ব্যক্তি স্বপ্ন দেখল অমুক লোক ইমাম মাহদি। কিংবা স্বপ্নে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে ইমাম মাহদি বলে চিহ্নিত করলেন। তখন এই স্বপ্নের দলিল দিয়ে কাউকে ইমাম মাহদি সাব্যস্ত করা যাবে না। বরং দলিল দ্বারা ঐ লোককে যাচাই করতে হবে। কেননা হতে পারে উক্ত স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে ছিল। হাদিসে এসেছে স্বপ্ন তিন প্রকারের হয়ে থাকে। ভালো স্বপ্ন আল্লাহর তরফ থেকে, মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে অথবা মানুষের কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন। কোন স্বপ্ন ভালো আর কোনটা মন্দ তা নির্ণয় করব কীভাবে? একমাত্র উপায় শরিয়তের দলিল। অনেক সময় মানুষ ভালো স্বপ্ন দেখে কিন্তু ঘুম থেকে জাগার পর তার তা মনে থাকে না, শয়তান খারাপ কিছু তাকে মনে করিয়ে দেয়। 

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন- ‘তুমি মদ পান করো!’ তখন শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে ইরাক রহিমাহুল্লাহর কাছে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি মদ পান করবে না।’ কিন্তু সে শুনতে ভুল করেছে। কারণ, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে স্পষ্ট ভাষায় মদ পান করতে নিষেধ করেছেন। এমন স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার পর তিনি কখনো স্বপ্নে পুনরায় মদপানের পক্ষে (শরিয়তের বিপরীত) আদেশ করতে পারেন না। সুতরাং শয়তান তাকে ভুল শুনিয়েছে বা নিজে ভুল শুনেছে। অথবা জাগ্রত হবার পরে শয়তান তাকে আসল কথা ভুলিয়ে দিয়ে ভুল কথা মনে ঢুকিয়ে দিয়েছে। 

সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা

সংখ্যাতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বা বর্ণনা কখনই সালাফদের পথ নয়। তারা কখনো ইসলামের কোনো কিছু বা কুর'আন হাদিসের কোনো বিষয়কে সংখ্যার দ্বারা উপস্থাপন করেননি যেভাবে আজকের নির্বোধদের আমরা করতে দেখি। সংখ্যা নিয়ে খেলা তো কাব্বালা শাস্ত্রতে দেখা যায়, ইসলামিক শারিয়া-তে নয়। ব্লাক ম্যাজেক চর্চাকারী, শয়তানের উপসনাকারীরা শয়তানকে খুশি করতে এই শয়তানী বিদ্যা প্রয়োগ করে। তারাই এগুলো দিয়ে দলিল দেয়। সূর্যের আলোর মত স্পষ্ট কুর'আন হাদিসের দলিল আমাদের কাছে আছে, যা দিয়ে আমরা এই শয়তানী দলিল ছুড়ে ফেলি, রদ করি। এটা গ্রহণ করার কোনো অবকাশ নেই।

হাদিসের আলোকে ইমাম মাহদির বর্ণনা (প্রাথমিক পর্ব) 

শেষ যামানায়(১), চারদিকে অন্যায়-অত্যাচার-যুলুম ও মানুষের মধ্যে বিবাদ ও বিভেদ বেড়ে যাবে। ঘন ঘন ভূমিকম্প দেখা দিবে(২)। আরবের অবস্থাও হবে শোচনীয়। আরবের এক খলিফা বা শাসকের মৃত্যুর পরে খলিফার পদ নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হবে। তখন মদিনার এক বাসিন্দা মক্কায় যাবেন(৩)। আল্লাহ তাকে এক রাতে খলিফার উপযুক্ত বানিয়ে দিবেন(৪)। তিনি হবেন ইমাম মাহদি। যার সুসংবাদ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিয়েছেন (২)। 

ইমাম মাহদি হবেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের একজন অর্থাৎ আহলে বাইত(৫), ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার(৬) সন্তান ইমাম হাসান রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর(৭)। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম-নামী(৮), তার পিতার নামও হবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতার নামে(৯)। অর্থাৎ মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল হাসানি আল মাহদি। তিনি হবেন প্রশস্ত ললাট ও উন্নত নাকবিশিষ্ট (১০)।

যাইহোক, খলিফার মৃত্যুর পর বিরোধ দেখা দিলে, তাকে খলিফার আসনে বসানো হবে এই ভয়ে তিনি গোপনে মদিনা থেকে মক্কায় আসবেন। বায়তুল্লাহয় আশ্রয় নিবেন(১১)। মক্কার লোকেরা তাকে চিনতে পারবে। তারা তাকে খুঁজে বের করবে, এবং ইমাম মাহদির অনিচ্ছা সত্ত্বেও বায়'আত গ্রহণ করবে(১২)। রুকন ও মাকামে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে বায়'আত নেয়া হবে (১৩)।

ইমাম মাহদির আত্মপ্রকাশ ও বায়'আত গ্রহণ পর্যন্ত এই বর্ণনা আমরা হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি। এখানের প্রতিটি বিষয় পুরোপুরি আমাদের প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদির সাথে মিলতে হবে, যদি কোনো একটিও না মিলে তাহলে সে আসল মাহদি নয়, সে হল ভণ্ড, প্রতারক। আমরা এই বর্ণনাকে ইমাম মাহদি চিহ্নিতকরণের এসিড টেস্ট বলতে পারি। এটা হল প্রাথমিক ধাপ। হাদিসে ইমাম মাহদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে। বায়'আতের পর কী কী হবে, তা হাদিসে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সুফিয়ানির সৈন্য প্রেরণ, বায়দায় ভূমিধ্বস, মালহামা, কুন্সতান্তিনোপোলের বিজয় ইত্যাদি। প্রাথমিক বর্ণনা যদি মিলে যায় কিন্তু পরবর্তী বর্ণনা না মিলে তাহলে সে প্রতিশ্রুত মাহদি হবে না। বায়দার ভূমিধ্বস হল ইমাম মাহদি সনাক্তের একটি বড় আলামত। 

উপরের বর্ণনাকে একটু পর্যালোচনা করা যাক- 

• ইমাম মাহদি হবেন আহলে বাইতের একজন। আহলে বাইতের সদস্য হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, আর এর প্রতিটা বংশধর লিনিয়েজ অবশ্যই সংরক্ষণ করবে। যদি কোনো ইমাম মাহদি দাবিদারের কাছে বংশ তালিকা (লিনিয়েজ) না থাকে, তাহলে তাকে আমরা গ্রহণ করতে পারব না। 

• হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি কোনো অখ্যাত লোক হবেন না। তাকে ক্ষমতায় বসানো হতে পারে এমন আশংকা তিনি করবেন তাই তিনি পালিয়ে চলে যাবেন মক্কায়। এটা স্বাভাবিক কোনো উগান্ডা দেশের লোকের আরবের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবয়ার শঙ্কা হবে না। 

• ইমাম মাহদি খলিফা হতে চাইবেন না, খলিফার পদ থেকে পালাবেন। এখন কোনো দাবিদার যদি পদের লোভে উগান্ডা থেকে পালিয়ে হিজাযে চলে যান তাহলে তিনি ইমাম মাহদি নন। 

• ইমাম মাহদি এবং তার অনুসারীরা আগে থেকে কেউই জানবেন না যে তিনি ইমাম মাহদি। এক রাতে তাকে আল্লাহ মাহদির যোগ্যতা দান করবেন। এখন যদি কেউ নিজ মুরিদের কাছে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে ইমাম মাহদি হবার কথা জানান দেন, বা তার মুরিদরা দাবি করলে তিনি রদ করেন না তাহলে বুঝা যায় তিনি ইমাম মাহদি নন। 

• হাদিসে এসেছে ইমাম মাহদির জন্ম হবে মদিনায়, তিনি মদিনার বাসিন্দা হবেন। উগান্ডা, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশের নয়। 

• মক্কার বাসিন্দাদের কিছু লোক ইমাম মাহদিকে চিনতে পারবে। কোনো উগান্ডার লোক প্লান করে মদিনায় যাবে আর তার অনুসারীরা প্লান করে মক্কায় থাকবেন অতঃপর ইমাম মাহদি হবার নাটক রচনা করবেন এমনটা হবে না। 

আপাতত এতটুকু পর্যালোচনা যথেষ্ট মনে করছি। ভবিষ্যতে হাদিসের অন্যান্য বর্ণনা এবং আরো পর্যালোচনা আলোচনা করব ইংশাআল্লাহ। 

রেফারেন্সঃ

(শুধু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছি, হাদিস নাম্বার বা পৃষ্টা নাম্বার উল্লেখ করিনি। আগ্রহীরা নিজ উদ্যোগে খুঁজে নিবেন)

(১) মুস্তাদরাকে হাকিম। সিলসিলাতুল হাদিস আল সহিহহাহ। 
(২) মুসনাদে আহমাদ; মাজমা উয যাওয়াঈদ। 
(৩) সুনানে আবু দাউদ।
(৪) মুসনাদে আহমাদ; সুনানে ইবনে মাজাহ; সাহিহ আল জামি। 
(৫) সুনানে আবু দাউদ; মুসনাদে আহমাদ। 
(৬) সুনানে আবু দাউদ; সুনানে ইবনে মাজাহ; সাহিহ আল জামি। 
(৭) সুনানে আবু দাউদ।
(৮) মুসনাদে আহমাদ। 
(৯) সুনানে আত তিরমিযী; সুনানে আবু দাউদ। 
(১০) সুনানে আবু দাউদ।
(১১) সহিহ মুসলিম।
(১২) সুনানে আবু দাউদ।
(১৩) মুসনাদের আহমাদ।
ইমাম মাহদি কে কবে আসবেন | ইমাম মাহদি দাবির পোস্টমর্টেম | ইমাম মাহদি নিয়ে হাদিস ইমাম মাহদি কে কবে আসবেন | ইমাম মাহদি দাবির পোস্টমর্টেম | ইমাম মাহদি নিয়ে হাদিস Reviewed by Dr.Mira Hasan on April 23, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.