বাংলা ইসলামিক পোস্ট | বরিষে করোনা-ধারা | লেখক Shamsul Arefin Shakti

বাংলা ইসলামিক পোস্ট | বরিষে করোনা-ধারা | Shamsul Arefin Shakti 




বরিষে করোনা-ধারা পর্ব-১


পদ্যখানা কোন কবি লিখেছেন, জানিনা। যে উদ্দেশ্যেই লিখে থাকুন, আমি কথাটার সাথে কয়েকশো ভাগ একমত। 

যদি মসজিদকে মন্দিরের কাতারে নামিয়ে আনা হয়, তবে সেই মসজিদের তো আসলেই জাগতিক কোনো ভূমিকা নেই। মন্দির পুরোদস্তুর একটা আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান, জাগতিক ভূমিকা শূন্য বা ঊনশূন্য। মান্নত, পার্থিব উদ্দেশ্য পূরণের জন্য মনের সান্তনা, পার্বণের আনুষ্ঠানিকতা। এখন মসজিদও তা-ই। সংখ্যাগুরু মুসলিম সপ্তাহান্তে হাজিরা দেয়। মুষ্টিমেয় মুসলিম ৩ ওয়াক্ত। এক চিমটি মুসলিম ৫ ওয়াক্ত আধ্যাত্মিকতাহীন উঠবস করে আসে। হাতেগোনা কিছু মানুষ আধ্যাত্মিকতার খোঁজ পায় এখানে এসে। একটাই জাগতিক ভূমিকা হতে পারত, জুমুআর পূর্বে আধঘণ্টা জনসংযোগ। ওটুকুও সময় কই, সবাই আসে আরবি খুতবার মাঝে। 

বিজ্ঞানের কাজই জাগতিক। প্রকৃতিবাদ-কে ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়া বিজ্ঞানের সামনে খোদ স্রষ্টা এলেও বিজ্ঞান মুখ ফুটে বলতে পারবে না, ইনি স্রষ্টা। সে রাস্তা শুরুতেই বন্ধ করে নিয়েই বিজ্ঞান হাঁটে। প্রতিটি বিষয়ের জাগতিক ব্যাখ্যা দেবার মধ্যেই বিজ্ঞান সীমাবদ্ধ। বস্তু দিয়ে ব্যাখ্যা। তার চোখে মন জাস্ট কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া। পৃথিবী-আমি-আপনি সব উদ্দেশ্যহীন এবং পরিণতিহীন। যা কিছু বস্তু দিয়ে ব্যাখ্যা হয় না, তা বিজ্ঞানের চোখে কুসংস্কার। মহামারি একটা ইহজাগতিক বস্তুগত বিষয়। সুতরাং, বিজ্ঞান এখানে কাজ করবে, এটাই স্বাভাবিক। এখানে আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা থাকবে না, এটাও স্বাভাবিক। 

"মনে রেখো তুমি, বিশ্বকাপের আঙিনায়
শচীন মেরেছিল ছক্কা, লতা মুঙ্গেশকর নয়"। 
কবিতাটা হয়ে গেছে এরকম। আমার পয়েন্ট হল, যদি মসজিদ-মন্দিরকে 'স্পিরিচুয়াল বীল্ডিং' ক্যাটাগরিতে ফেলেন, ইসলাম-হিন্দুধর্মকে 'ধর্ম' হেডিং-এ ফেলে বলেন, মহামারিতে ধর্মের কোনো ভূমিকা নেই। গুড, সহমত। 

এবার আসেন। হিন্দুধর্ম 'অজানা-উৎস' থেকে হাজার বছরের মানবসমাজের সৃষ্টি। আর ইসলাম ঐতিহাসিকভাবে সত্য ও নির্দিষ্ট উৎস থেকে আগত। টেক্সট প্রজন্মান্তরে সুরক্ষিত। সরাসরি স্রষ্টার প্রত্যাদেশ ও বিধান। আপনি বলবেন, সেটা তো হিন্দুধর্মও দাবি করে। কার দাবি সত্য, কারটা মিথ্যা, এটা ভিন্ন আলাপ। হিন্দুধর্ম কিছু আধ্যাত্মিকতা, নীতিকথা ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সমষ্টি। বিপরীতে ইসলাম টোটাল একটা সিস্টেম। আধ্যাত্মিকতা মেইন সফটওয়্যার; সাথে নীতিকথা-ব্যক্তিক লাইফস্টাইল, পরিবার কাঠামো, সমাজব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, রাষ্ট্রচিন্তা, স্বাস্থ্যনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও সমরনীতি, বিচারব্যবস্থা ও দর্শন। ইসলাম ধর্ম নয়, ধর্ম ইসলামের একটা অংশ। ইসলাম ইহলৌকিক ও পারলৌকিক মিলিয়ে টোটাল সিস্টেম। এখন ইসলামের হাত-পা ছেঁটে দিয়ে আপনি বলছেন, ইসলাম দৌড়তে পারেনা। সব জাগতিক কর্মকাণ্ড, জাগতিক বিষয়াবলীর সাথে ইসলামের সব সম্বন্ধ আপনি 'ধর্মনিরপেক্ষতা'র কাঁচি দিয়ে চেঁছে এখন এসেছেন মহামারিতে ইসলামের কোনো ভূমিকা নেই কাব্য নিয়ে। 

ইসলাম তো বলেছিল, রোগ (pathogenesis) সংক্রামক নয়; রোগের কারণ (pathogen) সংক্রমণ-ক্ষম। তাই:
১. সুস্থ উট আর অসুস্থ উট একসাথে রেখো না। (social distance)
২. মহামারি উপদ্রুত এলাকায় যেওনা, মহামারির এলাকা থেকে বের হয়ো না, মরে গেলে শহীদের ভিআইপি মর্যাদা পাবে ওপারে( lockdown)
এই শিক্ষাটা তো আপনারা আমাদের শেখাতে দিলেন না। ইটালি-প্রবাসীদের শেখাতে ব্যর্থ আপনাদের সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা। নারায়ণগঞ্জের অধিবাসীরা জলপথে ত্যাগ করছে নিজ জেলা, আপনার সেক্যুলার শিক্ষা ব্যর্থ। আর ইসলামকেও আপনি শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব দেননি। আবার দায়ীও করছেন। বেশ। 

মসজিদ তো আসবাবপত্রহীন এক বিরাট রুম। পিপিই, ভেন্টিলেটর, ভ্যাক্সিন রিসার্চ আধুনিক যন্ত্রপাতির নাভিশ্বাস উঠে গেছে, সেখানে মহামারিতে কী ক্ষমতা থাকতে পারে একটা খালি রুমের? যে রুমটার শিক্ষা কার্যক্রম কেড়ে নিয়েছেন, বিচারকার্য কেড়ে নিয়েছেন, বাজার-নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছেন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিনিয়ে নিয়েছেন, সমাজচর্চা কেড়ে নিয়েছেন। এখন বলছেন জাগতিক কোনো ভূমিকা নেই। যে রুমটা সুশিক্ষিত, আত্মসংযমী সোনার মানুষ তৈরি করত তার হাত-পা বেঁধে দিয়ে দুর্নীতিবাজ-লোভী পুঁজিবাদী মানুষ তৈরির কারখানা বানিয়ে এখন এসব ন্যাকামো, পারেনও বস। 

দিন বদলাবে। সেক্যুলার সংসদে তওবা হয়েছে। করোনার বহুরূপী রঙবদলে দিশেহারা বিজ্ঞান অপেক্ষা করছে একটা 'মিরাকেল'-এর। WHO জানিয়ে দিয়েছে, ভ্যাক্সিন আবিষ্কার সম্ভব না-ও হতে পারে। নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থা হাতছানি দিচ্ছে। কী সেটা, সেটা নিয়ে আপনারা অনিশ্চিত, অস্থির। আমরা নিশ্চিত, কী হবে তা আমরা জানিই, আমাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। 

বিশ্বাস এমন একটা ইন্দ্রিয়, এটা যার আছে, সে চিরটাকালই স্থির, শান্ত, নিশ্চিন্ত।





বরিষে 'করোনা'ধারা (মুসলিমদের জন্য শুধু) পর্ব ২


রাশিয়া প্রবাসী নাস্তিক না** ই***  এই ক'দিন আগে স্ট্যাটাস দিয়েছিল: আল্লাহ-য় বিশ্বাস না করলেও 'প্রকৃতির প্রতিশোধ'- এ তিনি বিশ্বাস করেন। হ্যাঁ, নতুন কিছু না। প্রকৃতিপূজা, মাদার নেচার, প্রেতাত্মাপূজা, ভূত, এলিয়েন ইত্যাদি অদৃশ্য কাল্পনিক সব সত্তাই ওনারা বিশ্বাস করেন। শুধু স্রষ্টা ছাড়া। কারণ স্রষ্টা যে কিছু নিয়ম-কানুন বেঁধে দেন। প্রকৃতি-প্রেত-এলিয়েনদের মানলে আত্মপূজায় বাদ সাধে না। স্রষ্টা আবার যে ধর্মেই মানেন, কিছুটা কৃচ্ছ্রতা, কিছুটা আত্মসংযম, কিছুটা নৈতিকতা আরোপ করেন যে। ওখানেই সমেস্যা। সে যাকগে, আমার আলোচনা মুসলিমদের উদ্দেশ্যে যেহেতু, ওদিকপানে আজ গেলাম না। 

ফেসবুকে ঢুকে সাধারণত করোনা আপডেট নিই। নতুন কোনো রিসার্চ এলো কি না। কে কী বললো, কর্তৃপক্ষ কী বললো, ডাক্তারদের গ্রুপে তাদের প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে। পুরো টকশো দেখিনা, নেট কিনে কিনে চালাচ্ছি তো, টকশোর ছোট ক্লিপ সামনে পেলে দেখি। কোনোখানে কেউ ভুলেও উচ্চারণ করছেনা এটা আল্লাহর গযব। সেকুলারিজমের পবিত্রতা নষ্ট হয়। নেহায়েত ধার্মিক কেউ খুব সাবধানে ধর্মনিরপেক্ষ কিছু শব্দ ব্যবহার করছেন: সৃষ্টিকর্তা, প্রার্থনা। যাতে ধর্মনিরপেক্ষতার মা'বুদেরা (অমুসলিমদের সন্তুষ্টি, গ্রহণযোগ্যতা, জনপ্রিয়তা) নারাজ না হয়। তাও মানলাম। কিন্তু মুসলিমরা যে 'আল্লাহর গযব' কী, কেমন, কেন তা সম্পর্কে কোনো ধারণা রাখেনা, এটা দুঃখজনক। যারা রাখে তারাও মুখ ফুটে স্বীকার করছে না সেক্যুলারিতা অপবিত্র হবে বলে। বস্তুবাদী পাশ্চাত্য মনোবৃত্তি আমাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে এতোটাই। আল্লাহর ক্রোধ যদি আপনি টেরই না পান, তা থেকে পরিত্রাণ পেতে কী করণীয় তাও বুঝব আমরা কীভাবে। কী আশ্চর্য অবস্থা আমাদের 'মুসলিমতা'র? একজন নাস্তিক 'প্রকৃতির প্রতিশোধ'-এ যতটুকু ঈমান রাখে, আমার কী 'আল্লাহর গযব' এ অতটুকু ঈমানও নেই? 

একজন মুসলিম (আত্মসমর্পিত) হিসেবে আমাদের আল্লাহর গযব চেনার কথা ছিল। এটা ছিল ঈমানের একটা আলামত। 'আর যখন তাদের সামনে কুরআনের আয়াত তিলওয়াত করা হয়, তখন আপনি তাদেরকে দেখবেন অশ্রুবিগলিত, এটা এজন্য যে তারা তাদের রাব্ব-কে চিনতে পেরেছে'। এই মহামারীর ভিতর দিয়ে কথা ছিল আমরা আমাদের রাব্ব-কে চিনে নেব, নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হব। তাহলে কি পবিত্র রসূলের কথার বিপরীতে পশ্চিমের বস্তুবাদী ব্যাখ্যাকেই আমরা দীন হিসেবে নিলাম? মহামারী থেকে বাঁচার জন্য পশ্চিমের বস্তুবাদী রিসার্চের অপেক্ষাতেই আমরা থাকব, সেগুলোর কথাই আলোচনা করব, সেগুলোর মধ্যেই মুক্তি খুঁজব। তাহলে আমার ঈমান কোনটা? সেই ঈমানের চোখে কী দেখার কথা ছিল? মহামারী থেকে মুক্তির জন্য কী করার কথা ছিল? 

এখানে খুব সূক্ষ্ম একটা ডিমার্কেশন আছে। বর্তমান 'আধুনিক' বস্তুবাদী বিশ্বে এই সীমাটা প্রত্যেক মুসলিমের বুঝা দরকার। বিজ্ঞান একটা টুল (tool)। এই টুল-টা ব্যবহার করছে পুঁজিবাদী বস্তুবাদী পশ্চিমা সভ্যতা। একটা সময় এই টুলটা আকরিক থেকে ইসলাম বানিয়েছে, শান দিয়েছে, ধারালো করেছে। সেটা দিয়ে সবজি কেটেছে, গোশত কেটেছে। নিজে খেয়েছে, অন্যকে খাইয়েছে। সেই টুলটা পশ্চিমা সভ্যতা নিয়েছে। সেটা দিয়ে ইসলামকে কাটছে, মুসলিমদের কাটছে, তৃতীয় বিশ্বকে কাটছে, পুঁজিবাদের জিভ দিয়ে রক্ত চুষে ফুলছে ফাঁপছে। যখন ইসলাম টুলটা ইউয করেছে, পরতে পরতে স্রষ্টাকে চিনেছে। আর ইউরোপ যখন ইউয করছে, তখন স্রষ্টাকে অস্বীকার করছে। তাই টুল-টার সাথে ইসলামের বিরোধ নেই। বিরোধ টুল-টা যেভাবে ব্যবহার হচ্ছে, এবং ঐভাবে ব্যবহার করে যা বের করা হচ্ছে তার সাথে। পশ্চিমা সভ্যতা বিজ্ঞানের ঘোড়ার উপর সওয়ার। আর বিজ্ঞানের ঘোড়াটার চোখে পরানো ঠুলি (blinders) , ঠুলির নাম 'প্রকৃতিবাদ'। জগতের প্রতিটি ঘটনাকে জাগতিক ব্যাখ্যা করা। বস্তু দিয়ে ব্যাখ্যা করা। যেমন ধরেন, মন কী? বিজ্ঞানের চোখে মন জাস্ট কিছু কেমিক্যাল ক্রিয়াবিক্রিয়া।কারণ ওটুকুই বিজ্ঞান মাপতে পারে। যা মাপা যায় না, সেক্ষেত্রে বিজ্ঞান যতটুকু পারে বস্তুগত সম্ভাবনা কথা বলবে, নয়তো চুপ হয়ে যাবে। এজন্য আত্মা, স্রষ্টা এসব বিষয়ে বিজ্ঞানের চুপ থাকার কথা। কিন্তু বাড়াবাড়িটা যে করে তার নাম 'বিজ্ঞানবাদ' (scientism)। বিজ্ঞান আর বিজ্ঞানবাদের মধ্যে পার্থক্য কী? 

চলুক নাকি?
ইনশাআল্লাহ




বরিষে 'করোনা'ধারা (শুধু মুসলিমদের জন্য)
পর্ব ৩
বিজ্ঞানের কাছেই সবকিছুর জবাব। বিজ্ঞান সবকিছু আমাদের জানিয়ে দেবে। সব সমাধান করে দেবে। যা বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পারে না তার অস্তিত্বই নেই। যার জবাব বিজ্ঞানের কাছে নেই, তা কুসংস্কার। এই অগাধ বিশ্বাসকে বলে বিজ্ঞানবাদ। বিজ্ঞান একটা টুল, আর বিজ্ঞানবাদ একটা ধর্মবিশ্বাস: বিজ্ঞান পারবেই। বিজ্ঞান যেখানে চুপ, বিজ্ঞানবাদ সেখানেও সরব। যেমন পীর চুপ, কিন্তু মুরিদ লাফায়, সেরকম। যার বস্তুগত ব্যাখ্যা করা যায় না, সেখানে বিজ্ঞান বলছে এটা আমার ফিল্ড না। আর বিজ্ঞানবাদ বলছে, বিজ্ঞানের নীরবতা মানে ওটা আসলে নেই, ওটা কুসংস্কার। এই জায়গাটা মুসলিম বিজ্ঞানপড়ুয়াদের বুঝতে হবে।
কখনোই বিজ্ঞান বলবে না, আল্লাহ আছেন কিংবা করোনা আল্লাহর গযব। আধুনিক বিজ্ঞান সব কিছুর একটা বস্তুগত ব্যাখ্যা দাঁড় করাবে। যেমন, নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করার ঘটনা। কুরআনে সূরা ক্বমারে রয়েছে। সুতরাং ধর্মীয়ভাবে অকাট্য। প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা.এর বর্ণনা আছে যিনি ঐ সময় নবীজীর সাথে বসা ছিলেন। সে হাদিস শুদ্ধতার ফিল্টারে উত্তীর্ণ। এই শুদ্ধতার ফিল্টার সম্পর্কেও আমাদের আইডিয়া ভয়ংকর রকম হতাশাজনক। সেসময় কাফিররা বহিরাগত নন-আরবদের থেকে যাচাইও করে নিয়েছিল যে তারাও দেখেছে কি না। নন-আরব সোর্সও রয়েছে। ভারতের মালাবার রাজ্যের রাজা চেরুমান পেরুমল সেটা দেখেন এবং জ্যোতিষীর কাছে এর কারণ জেনে নিজে মক্কা এসে মুসলিম হন, তাঁর নাম হয় তাজউদ্দীন। আনাস রা. এর হাদিসে তিনি এক 'মালিকুল হিন্দ' মানে ভারতীয় রাজার কথা বলেছেন, যে নবীজীর জন্য আদার আচার এনেছিলেন। মানে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে সুনিশ্চিত, যে এটা ঘটেছিল। এখন আজকের যুগে হলে কী হত?
চন্দ্রে ভূমিকম্প বা কোনো বড় গ্রহাণুর আকর্ষণে এমনটা হয়েছে। পরে আবার মহাকর্ষের কারণে জোড়া লেগে গেছে। এরকমই একটা ব্যাখ্যা দেয়া হত। ব্যাখ্যা দিয়ে আল্লাহ, রাসূলের আগমন, মুজিযা এগুলো বাইপাস করে ফেলা হত। সেই যাদুবিদ্যা তুকতাকের যুগে 'যাদুকর' বলে যাদের বাইপাস করার করেছিল। এই বিজ্ঞানের যুগে আমরা বিজ্ঞানের নামে বাইপাস করতাম। একই হলো। ঈমানের শুধু দাবি? যত মিল সব বেঈমানের সাথে? হলো? আজকের এই করোনা যে 'আল্লাহর গযব' এটা একজন মুসলিম হিসেবে আপনাকে চিনে নিতে হবে, এবং সেটা 'পশ্চিমা বস্তুবাদী বিজ্ঞান' (নট বিজ্ঞান টুল) আপনাকে চেনাবে না। চেনাবে আপনার ঈমানের 'ইন্দ্রিয়'। ঈমানের ইন্দ্রিয় আপনাকে বিজ্ঞানের ফাইণ্ডিং আর ওয়াহীকে (কুরআন-হাদিস) কোরিলেট করিয়ে দেবে। আর যদি কোরিলেট না করতে পারেন, ডাক্তারদের গ্রুপে কেন মধু-কালোজিরার পোস্ট দেয়া হল, সেজন্য হা হা রিয়্যাক্ট আসে। তাহলে ধরে নেবেন কেবল নামটাই আরবি, ঈমানের ইন্দ্রিয় অন্ধ। 'তাদের অন্তরে মোহর পড়ে গেছে'... 'দেখেও তারা দেখেনা, শুনেও তারা শোনেনা'... 'অন্ধ, বধির, মূক... তারা ফিরবেনা'। মুসলিমের সন্তান হলেও আল্লাহর খাতায় হয়ত মুসলিমের তালিকায় আপনি নেই। অবশ্য না থাকলেই কী আসে যায়, এমনটা মনে হলে, নিশ্চিত থাকতে পারেন আপনি আসলেই নেই।
এই প্রত্যেকটা নিউয ও রিসার্চের রেফারেন্স আমি দিতে পারব। এগুলো সব রিসার্চ। প্যারাডক্সগুলো দেখেন। কীভাবে গত ৫ মাসে তথ্যগুলো বদলে গেছে খেয়াল করেন।
১ক: ফ্লু ভাইরাসগুলো এনভেলপড (আবরণযুক্ত)। উচ্চতাপমাত্রায় আবরণ নষ্ট হয়ে ভাইরাস অকেজো হয়। ফ্লু-ভাইরাসেরই জাত করোনা। ফলে গরম পড়লে সব ঠিক হয়ে যাবে। ভৌগোলিকভাবে এত থেকে এত অক্ষাংশের শীতপ্রধান দেশগুলোই আক্রান্ত।
১খ: কয়েকদিন পর সৌদি-ইরান-মালয়-ইণ্ডিয়া সব গরমের দেশগুলোআক্রান্ত। ল্যাবে ৯২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তক গরমে ভাইরাসটা কর্মক্ষম।
২ক: শুধু ম্যান-টু-ম্যান কনটাক্টে ছড়ায়।
২খ: বাতাসে ৩ ফুট পর্যন্ত যায়, এরপর মাটিতে পড়ে যায়।
২গ: বাতাসে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ভাসে।
৩ক: সার্ফেসে (বস্তুর উপর) ৭২ ঘন্টা বাঁচে। এর মধ্যে মানবদেহে ঢুকতে না পারলে অকেজো হয়
৩খ: সার্ফেসে ৭-১০ দিন পর্যন্ত বাঁচে।
৪ক: শুধু বয়স্করা মরছে। যুবকরা লক্ষণই প্রকাশ করে না। করলেও সামান্য, ঠিক হয়ে যায়। শিশুরা তো একেবারেই সেফ।
৪খ: আমেরিকা হাসপাতাল ভর্তি ২৯% এর বয়স ১৮-৪৪। নিউইয়র্কে ৫০%। আইসিইউ লেগেছে যাদের, তাদের ১২% এর বয়স ১৯-৪৪। বাংলাদেশে ২১-৪৬ রোগী ৪৬%।
৫ক: হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন (HCQ) আমাদের আশা। সব মার্কেট আউট
৫খ: HCQ এর খুব একটা উপকার নেই। বরং আইসিইউতে মরেছে বেশি।
৬. ভ্যাক্সিন তৈরি করতে ১-২ বছর সময় তো লাগবে।
৭. ভ্যাক্সিন তৈরি না-ও হতে পারে। (WHO)। বহু ভাইরাসের ভ্যাক্সিন হয়নি (ইবোলা, এইডস)
৮. জাপানি ওষুধটা কার্যকর। দাম ফুল কোর্স ৬ লাখ টাকা।
৯. যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ Remdesivir মানব পরীক্ষায় ব্যর্থ।
১০. ভাইরাসটা নতুন, আমরা এখনও এটা সম্পর্কে সব জানিনা, জানছি।
১১. ভাইরাস বার বার জিন মিউটেশন করছে। চরিত্র বদলাচ্ছে।
এই সিরিয়ালটা আর কতদূর গেলে আমার সোকল্ড 'মুসলিম মন' স্বীকার করবে এটা 'আল্লাহর গযব'। মানবজাতির অহংকার, দ্য গ্রেট 'সায়েন্স' বিগত ৫ মাস ধরে এটা-ওটা-সেটা বলছে। আশায় বুক বেঁধে সামনে যা পাচ্ছে আঁকড়ে ধরছে। কখনও বয়স, কখনও তাপমাত্রা, কখনও ভূগোল, কখনও বিসিজি ভ্যাকসিন, কখনও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন। ফী নারি জাহান্নাম খলিদীনা ফিহা অভিজিৎ রায় লিখেছিল: বিজ্ঞান এতদূর এগিয়েছে, এতদূর এগিয়েছে, যদি স্রষ্টা থাকতোই, তাহলে এতদিনে আবিষ্কার হয়ে যেত। পিকোমিটার, ফেমটোমিটারের একটা ভাইরাস এখনও অচেনা। উনি বেঁচে থেকে দেখে গেলে ভালো হত। বস্তুবাদী সভ্যতা বস্তুর বাইরে কিছু ভাবতে পারেনা। আমি আপনিও কি তাই? তাহলে যা পার্থক্য গড়ে দেবে সেটা কই? ঈমান কোথায়? ঈমানের অস্তিত্ব, উপযোগিতা, ব্যবহার, কার্যক্ষমতা কোথায়? নাকি শুধু মুখে, শুধু নামে, শুধু দাবিতে। একটা রূপকথার মতো, যার কোনো অস্তিত্ব নাই। 'অস্তিত্বহীন ঈমান'কে কী বলে? এত অস্পষ্ট কেন আমার পরিচয়?
(ছবি দিয়ে কিছুই দাবি করছি না। এমনি দেখালাম আর কি। ছবি যা-ই হোক, কুরআনের আয়াত সত্য। আমাদের ঈমান কুরআনের আয়াতে। সেখানে এসব ছবির কোনো জায়গা নেই)

চলবে ইনশাআল্লাহ
#বরিষে_করোনা_ধার






বরিষে 'করোনা'-ধারা (শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য)
পর্ব ৪
গযব/ গদ্বব শব্দের অর্থ ক্রোধ, রাগ, Wrath, Anger. আল্লাহ আবার রাগেন? জি। ক্রোধ আল্লাহর সিফাত। আল্লাহ স্বয়ং নিজের জন্য যেসব সিফাত/গুণ সাব্যস্ত করেছেন। আমরাও সেগুলো সাব্যস্ত করি। কিন্তু এগুলোর ধরণ জানি না। এবং এগুলো আমাদের সদৃশ নয়। যেমন কালাম, আল্লাহ কথা বলেন। তিনি জানিয়েছেন তিনি কথা বলেন, আমরাও মেনে নেব তিনি কথা বলেন। কিন্তু কীভাবে বলেন তা জানিনা, সেটা সৃষ্টির ধরনের না। আমাদের যেমন ফুসফুসের বাতাস বেরোতে থাকে আর দাঁত জিহ্বা ঠোঁটে ধ্বনি উচ্চারণ করে কথা বলি, তাঁর কথা এমন না। কেমন, আমরা জানি না। তবে আমাদের সদৃশ না। ওয়ালাম ইয়াকু্ল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। তাঁর কেন সদৃশ নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী, কথা বলার জন্য তিনি ফুসফুস-জিহ্বা এগুলোর মুখাপেক্ষী নন। এগুলো সৃষ্টির লাগে, স্রষ্টার লাগে না।
- আমাদের আল্লাহ জড়বস্তু নন। তিনি জীবিত, চিরঞ্জীব (আল হাইয়্যু)
- তিনি সৃষ্টিজগতের প্রতি উদাসীন নন। তিনি কেয়ারিং। তিনি সব দেখছেন (বাছীর), সব শুনছেন (সামিউ), সব খবর রাখছেন (খাবীর)
- তিনি সৃষ্টিকে ভালোবাসেন (রউফ), স্নেহ করেন (ওয়াদুদ) মাতৃপেক্ষা বেশি।
- তিনি রহম করেন জালেম-মজলুম সবাইকে (রাহমান), জালেমের উপর ধৈর্য ধারণ করতেই থাকেন (হালীম/সবুর)
- মাফ করেন (গফুর), সর্বোচ্চ পর্যায় অব্দি মাফ করতে থাকেন (গাফফার)
- আবার তিনি প্রতিশোধ নেন (যুনতিক্বাম), ক্রোধান্বিত হন (কাহহার)। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে জালেমের উপর তিনি প্রতিশোধ নেন। মজলুমের পক্ষে।
- তবে তাঁর রহম তাঁর ক্রোধের উপর বিজয়ী।
- তিনি ইনসাফ করেন (আদল), ক্রোধে তিনি সৃষ্টির মত ন্যায়হরণ করে বসেন না।
- তিনি চান আমরা ভালো থাকি, সুখে থাকি। ন্যায় করি। অন্যায় করে তাঁর গযব ডেকে না আনি। এজন্য তিনি আমাদের সাথে কমিউনিকেট করেন। নবীদের মাধ্যমে কিতাব পাঠিয়ে সতর্ক করেন। কীভাবে চলতে হবে জানান। আমার জমিনে আমার দেখানো নিয়মে চলো, তোমরাও ভালো থাকো, আমার সৃষ্টিকেও ভালো থাকতে দাও। আমার অবাধ্য হয়ো না। 'আমার ক্রোধ তোমরা সহ্য করতে পারবে না, তারপরও তোমরা অবাধ্য হচ্ছো?'
- তিনি স্বত্বাধিকারী (মালিক), শাসক (হাকাম), অধিকারী (রাব্ব)
সুতরাং ক্রোধ আল্লাহর সিফত/গুণ। তিনি জড় নন, নির্জীব নন, বেখেয়াল নন। বান্দারা সীমা অতিক্রম করে ফেললে তিনি গযব পাঠান। কেন? 'বড় আযাব (পরকালে)-এর আগে আমি তাদেরকে ছোট কিঞ্চিৎ শাস্তি (দুনিয়াতে) আস্বাদন করাই, যাতে তারা ফিরে আসে'। ফেরানোর জন্য। মুমিনদের আল্লাহ আযাব পাঠান ফেরানোর জন্য। আর কাফিরদের পাঠান ধ্বংসের জন্য। কাফিরদের জন্য কখন পাঠান? সুযোগের পর সুযোগ দেন। তাদের কুফরের জন্যও দেন না, শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ। এজন্যও আযাব পাঠান না। কাফেরের কুফর, মুশরিকের শিরকের শাস্তি জাহান্নামে অনন্তকাল চলবে। দুনিয়ায় আল্লাহ তাদের আরাম-আয়েশের সুযোগ দেন। বেশি করে দেন। তাহলে দুনিয়ায় গযব কখন আসে? দেখেন:
★ নূহ আ. এর জাতিকে সাড়ে ৯০০ বছর সুযোগ দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তারা নূহ আ. কে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। চূড়ান্ত স্পর্ধা। দূতকে হত্যার হুমকি?
★ আদ জাতিকে ধরেছেন যখন তারা স্পর্ধা দেখিয়েছে: আমাদের চে' শক্তিশালী আবার কেডায়?
★ সামুদ জাতির দাবিমত পাথরের ভিতর থেকে উট বের করে দেখিয়েছেন আল্লাহ। সেই উটের স্পেশাল নাম দিয়েছেন 'নাক্বতুল্লাহ' (আল্লাহর উট)। এতকিছু চোখের সামনে দেখেও সেই উটকে তারা হত্যা করেছে। কতবড় স্পর্ধা।
★ ফিরআউন কতশত বছর বনী ইসরাঈলকে জুলম করেছে। মায়ের কোল থেকে ছেলে বাচ্চাকে নিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করেছে। আল্লাহ শাস্তি দেননি। অবশেষে চূড়ান্ত স্পর্ধা দেখিয়েছে ফিরাউন: 'আমি তোমাদের সবচে' বড় রাব্ব নই?'
★ কওমে লূত শিরক করেছে, সমকাম করেছে শত শত বছর। আল্লাহ ধরেননি। কখন ধরেছেন? যখন তারা স্পর্ধা দেখিয়েছে: লূত, তোমাকে আমরা বের করে দেব, বেশি সুশীল হয়েছো, খুব পবিত্র হয়েছো, না? তারা জানতো তারা নাপাক কুৎসিত একটা কাজ করছে। সেটা জেনেই তারা করছে ও করবে। পারলে লূত কিছু কইরো।
★ কারুন তো মুসলিমই ছিল। যাকাতের হুকুম হয়েছে। সে দিলো তো না-ই, স্পর্ধা দেখালো: এগুলো আল্লাহ দিয়েছেন নাকি, এগুলো তো আমি নিজ যোগ্যতায় কামিয়েছি।
আল্লাহর গযবের একটা কমন প্যাটার্ন দেখেন: স্পর্ধা, অহংকার। শিরক-কুফর-জুলম সব আল্লাহ ছাড় দিয়েছেন দুনিয়াতে। গযবের এপিসেন্টার হল এই ঔদ্ধত্য, স্পর্ধা, অহংকার, বড়াই। সভ্যতার চূড়ায় থাকা জাতিগুলো যখন আল্লাহর যমীনে আল্লাহর সাথে স্পর্ধা দেখিয়েছে, আল্লাহর ক্রোধ আপতিত হয়েছে। আমি জানি আপনাদের মনে অনেক প্রশ্ন জাগছে। যদি আল্লাহর গযব-ই হয়, তাহলে মোছলমান মরে কেন রে ব্যাটা?
চলবে ইনশাআল্লাহ
#বরিষে_করোনা_ধার


বরিষে 'করোনা'ধারা
পর্ব ৫
আল্লাহর আযাবে মুসলমান কেন মরে?
তিনটা পয়েন্টে আলোচনাটা শেষ করব।
প্রথমত,
আমরা দেখলাম আল্লাহর আযাব-গযবের এপিসেন্টার হল স্পর্ধা। কাফির চিরকালই স্পর্ধা দেখিয়েছে, দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ সে আল্লাহকে চেনে না। কিন্তু কাফিরদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা মুসলিমরা গত এক শতক পুরো উম্মাহ মিলে যে স্পর্ধা দেখিয়েছি, আগের ১৩০০ বছরে এতখানি ঔদ্ধত্য মুসলিমরা দেখায়নি। ইজতিমায়ীভাবে, সমষ্টিগতভাবে। আমি তো মনে করি, কাফিরদের তুলনায় আমরাই আল্লাহর গযবের বেশি উপযুক্ত। কী সে স্পর্ধা, সেটা একটু পরে একসাথে আলোচনা করছি।
দ্বিতীয়ত,
আল্লাহর আযাবের কিছু নিয়ম আছে। যখন দুনিয়ায় আযাব আসে, সেটা সবার জন্যই আসে। ইমাম মাহদীর বিরুদ্ধে প্রেরিত বাহিনীকে বাইদা নামক জায়গায় ধ্বসিয়ে দেয়া হবে, শুনে আম্মাজান আইশা রা. জিগ্যেস করেন: বাইদা এলাকায় এমন অনেক লোকও তো থাকতে পারে, যারা বাহিনীর লোক না। বাজার এলাকার আম পাবলিক। তারাও এই আযাব ভোগ করবে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: হ্যাঁ, যখন কোনো এলাকায় আল্লাহর আযাব আসে, তখন সবার উপরই আসে। পরে হাশরের মাঠে যার যার নিয়ত অনুসারে আলাদা হয়ে যাবে।
বিশেষ করে মহামারি সম্পর্কে নবীজী স্পষ্ট করেই বলেছেন: "মহামারি হল রিজয (গযব বা শাস্তি) বা আযাব, যা আল্লাহ বনী ইসরাঈল বা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের উপর দিয়েছিলেন। কতক জাতিকে এর দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছে। কিছু এখনও বাকি রয়ে গেছে, তাই কখনও তা আসে, কখনও চলে যায়। তবে মুমিনদের জন্য আল্লাহ একে রহমত বানিয়েছেন। যদি মুমিন ধৈর্য সহকারে নিজ শহরে অবস্থান করে, মৃত্যু হলে সে শহীদের সমান সওয়াব পাবে"।
তৃতীয়ত,
মুসলিমদের উপর একটা বিশেষ দায়িত্ব ছিল। মানুষকে আল্লাহ জমিনে তাঁর খলীফা/প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। ফেরেশতাদের কাছে এভাবেই তিনি ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন: 'আমি জমিনে প্রতিনিধি সৃষ্টি করব'। মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধি। তার দায়িত্ব আল্লাহর ক্যানভাস করা (যেভাবে রাষ্ট্রদূত তার দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন) এবং আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর বিধানমাফিক দুনিয়া শাসন করা। মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহর পরিচয় ভুলে 'ভুল উপাস্য' নিয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব, সৃষ্টির উদ্দেশ্য জানে না। আর যারা আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত পরিচয়ে চিনেছে তারা হলাম আমরা, মুসলিম। সুতরাং প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব এককভাবে আমাদের। দায়িত্ব কী ছিল? আল্লাহর দাওয়াহ এবং আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ। আল্লাহর বিধানের দিকে আহ্বান ও আল্লাহর বিধান লংঘনকারীদের রোধ। যার স্তর তিনটি:
- হাত দ্বারা (জি.হাদ বলে একে। এর কনসেপ্ট নিয়ে মুসলিমদের মাঝে বহু ভুল ধারণা আছে। এটাও আমরা পরে আলোচনায় আনবো ইনশাআল্লাহ)। না পারলে...
- জবান দ্বারা (দাওয়াহ)। না পারলে...
- অন্তর দ্বারা (বুগদ ফিল্লাহ/ঘৃণা)। নবীজী বলেছেন, এটা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর। জোর করে বা মৌখিক বাধা দিচ্ছেন না, ওকে ফাইন।আল্লাহর বিধান লংঘনকে যদি কমপক্ষে ঘৃণাও করতে না পারেন, তাহলে খুব সম্ভব আল্লাহর খাতায় মুসলিম তালিকায় আপনার নাম আর নেই।
এই 'আদি দায়িত্ব'-এ অবহেলার কারণে মুমিনদের প্রতিই আল্লাহর আযাব আসে।
এক জনপদের উপর আযাব পাঠানো হল। ফেরেশতারা ফিরে এসে জানাল: সেখানে এমন এক বুজুর্গ আছেন, যে এক মুহূর্তও আপনাকে ভোলেনা। আল্লাহ বললেন: তাকে আগে উল্টে দাও, এরপর জনপদ উল্টাও। কারণ কি? কারণ হল, তার চারিপাশে পাপ-জুলমে সয়লাব, আর তার ভ্রুও কুঞ্চিত হয়নি। তার অন্তরে খারাপও লাগেনি। সর্বনিম্ন স্তরের দায়িত্বও সে পালন করেনি।
আমাদের দায়িত্ব ছিল ইসলামের এই বার্তা, ইসলামের এই সুশাসনের আওতায় সকল মজলুমকে নিয়ে আসা। যাতে মানবতার মুক্তি ঘটে। সব সামাজিক (দলিত/নিগ্রো/হিজড়া/হিন্দু বিধবা প্রথা/পেশাগত হীনম্মন্যতা) মজলুম, সব অর্থনৈতিক মজলুম, রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের মজলুম, পুঁজিবাদের মজলুম, ক্যারিয়ারিজমের মজলুম সবার কাছে ইসলামের সমাধান পৌঁছে দেয়া এবং ইসলামের সিস্টেমের ভিতর এনে এই নিগৃহীত মানবতাকে স্বস্তি দেয়া ছিল আমাদের কাজ। জালেম নিজেও জুলুমের মধ্য দিয়ে নিজের উপরেও জুলুম করে। জালেমকে জুলম থেকে ফিরানো মানে খোদ তার উপরও এহসান। পুরো উম্মাহ আমরা একসাথে সেই 'আদি দায়িত্ব' ছেড়ে দিয়েছি।
গুনাহকে ঘৃণা করা তো দূর কি বাত। ঘৃণা করবার আগে সেটাকে গুনাহ তো মনে করতে হবে আগে। গুনাহকে গুনাহ মনে করাই ছেড়ে দিয়েছি মুসলিমরা। বহু মুসলিম আমরা মিউজিককে গুনাহ মনে করি না, অথচ নবীজী মিউজিক শুনলে কানে আঙুল দিয়ে সে জায়গা পার হতেন। বলেও গেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন দল বের হবে যারা ব্যভিচার-রেশম-মদ-বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে [বুখারী]। বলেছেন: আল্লাহ আমার উম্মতের উপর মদ-জুয়া-বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন [মিশকাত সহীহ]। অথচ বহু মুসলিমকে আপনি বোঝাতে পারবেন না। তারা একে ঘৃণা তো দূরের কথা, হারামই মনে করবে না। নিষেধ করাকে উগ্রতা মনে করবে। তার মানে নবীজী 'উগ্র' ছিলেন? নাউযুবিল্লাহ।
বহু মুসলিম ঘুষ-সুদকে 'ও-কিছু-না' মনে করে। বহু মুসলিমা পর্দা করাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে, মাহরাম- ননমাহরাম মেনে চলাকে বাড়াবাড়ি মনে করে। ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকানোকে গুনাহ মনে করে না, অথচ তা সূরা নূরে আল্লাহ নিজে আদেশ করেছেন। বহু দীনদার পর্দানশীন মুসলিমা পুরুষের দিকে তাকানোকে তেমন কিছু গণ্য করে না, অথচ তা আল্লাহর আদেশ।
আল্লাহর কসম, ইসলামের ইতিহাসে এমন সময় কোনোদিন আসেনি যে, এতো বেশি সংখ্যক মুসলিম কুরআন-হাদিসে বর্ণিত স্পষ্ট অকাট্য সব হুকুমকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহর আদেশকে অদরকারি মনে করেছে। আল্লাহর আদেশকে ইনিয়ে বিনিয়ে অজুহাতসহ বা স্পষ্টভাবে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমন ঔদ্ধত্য সামষ্টিকভাবে মুসলিমরা আগে কোনোদিন দেখায়নি। ক্যারিয়ার, আধুনিকতা, সামাজিকতা, মধ্যপন্থা- ইত্যাদির অজুহাতে আর-রাজ্জাক আল-মালিকের আদেশের প্রতি এতোটা তাচ্ছিল্য আমরা আগে কখনও দেখাইনি। এমনকি এই পোস্ট পড়তে পড়তেও অনেক মুসলিম ভাইয়ের মনে নেগেটিভ অনুভূতি হচ্ছে। কী ভয়ংকর স্পর্ধা আমরা দেখাচ্ছি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর সাথে। সামনে আরও বিস্তারিত আসবে বিষয়গুলো। মোদ্দাকথা সৎকাজে আদেশ আর অসৎকাজে নিষেধ করার 'আদি-কর্তব্য'তে অবহেলা আল্লাহর গযবের আরেকটি কারণ।
সমঝদারোঁ কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যায়।
"বলে দিন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যা কে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না"। [ সুরা তাওবা ৯:২৪ ]
যদি ৮টা জিনিস বেশি প্রিয় হয় ৩টা জিনিসের চেয়ে, তাহলে অপেক্ষা কর আযাবের। আমাদের মুসলিমদেরই উদ্দেশ্যে আয়াতটা।
উপরের তিনটির প্রতিটি আমরা মুসলিমরা পূর্ণ করেছি। আযাব যখন আসে, সেটা ব্যাপকভাবে আসে। সবার জন্য আসে। কারও জন্য পাকড়াও, আর কারও জন্য সতর্কবাণী। আশ্চর্য আমরা আযাবকে আযাব বলতেই লজ্জা পাই, তাহলে সতর্ক হব কীভাবে। আর আযাবে যদি সতর্ক না হতে পারি তাহলে? 'বড় আযাবের আগে আমি তাদের ছোট আযাব আস্বাদন করাই, যাতে তারা ফিরে আসে' (আয়াত)। ছোট আযাব টের পেতে ব্যর্থ হলে, আমার জন্য এরপরের আপ্যায়ন কেমন হবে? বড় আযাব। জাহান্নাম।
আফসোস, মুসলিমসন্তানের কাছে আজ জাহান্নামও মামুলি ব্যাপার। মুসলিম হয়ে যেহেতু জন্মেছি, সাজা খেটে একদিন তো জান্নাতে যাবোই। আল্লাহর খাতায় আমি এখনও মুসলিম আছি, সিওর? আল্লাহর অকাট্য হুকুম অস্বীকার করলে ঈমান থাকে না, মানতে পারছি না, ভিন্ন বিষয়। দেখেন তো ভেবে আল্লাহর কী কী হুকুম আমার পছন্দ হয় না। কী দরকার ছিল এই বিধানের। কোন কোন বিধান মনে হয় 'এ যুগে কী আর ওসব চলে'। এমন না হয়ে ওমন হলে ভালো হত। ওযুভঙ্গের কারণ যেমন আছে, ঈমানভঙ্গেরও কারণ আছে। ক'জন জানি? আমার অজান্তেই ঈমান হারিয়ে বসে নেই তো আমি? ইয়া আল্লাহ, আমি জানতাম না, তাই ওমন বলে ফেলেছি। 'না জানা' -কে আল্লাহ কাল হাশরে কোনো ওজর হিসেবে গ্রহণ করবেন না। আমার কাছে আলেম ছিল, মসজিদে ইমাম ছিল, নেট ছিল, হাজারও পিডিএফ ছিল, দীনী বন্ধু ছিল। আমার জানতে ইচ্ছে হয়নি, তাই জানিনি। জানা প্রয়োজন মনে করিনি, তাই জানিনি। না জানাটা আরেকটা ফরজ হুকুমের তোয়াক্কা না করা। জানাও ফরজ ছিল আমার উপর। সেদিন আর কাকে দোষ দেব, যেদিন খোদ শয়তানও বলবে: "খবরদার আমাকে দুষবে না, আমি কিচ্ছু করিনি। আমি কেবল রাস্তা দেখিয়েছি। গুনাহের রাস্তায় তুমি নিজেই হেঁটেছো"। (আয়াত)
আল্লাহর এই গযব আমি মনে করি আমাদের উদ্দেশ্যে। আমাদেরকে সতর্ক করতে। আমাদের পাপের ভারা পূর্ণ। আমাদের উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা, স্পর্ধা আর কাফিরপ্রেম চূড়ায় পৌঁছে গেছে। ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছি আমরা।
চলবে ইনশাআল্লাহ
#বরিষে_করোনা_ধার

ঈমানভঙ্গের কারণগুলো এখানে সংক্ষেপে দেখে নিতে পারেন: উস্তাদ মুনীরুল ইসলাম ইবনে যাকির সংকলিত


বরিষে 'করোনা'ধারা (মুসলিম অনলি) 
পর্ব ৭

গত ৬ পর্বের আলোচনায় আমি এটুকু দেখাতে চেয়েছি, এই করোনা আল্লাহর গযব এবং আযাবুল আদনা (ছোট আযাব)। আল্লাহর সমস্ত গযবই বস্তু দিয়ে হয়, যার ফলে সবকিছুরই বস্তুবাদী ব্যাখ্যা হয়। কোনো কিছুর বস্তুবাদী ব্যাখ্যা জানি বলে তা আল্লাহর আযাব নয়, এই ধারণা ঠিক নয়। করোনা তো একটা জীবাণু, একটা ভাইরাস। এটা আল্লাহর আযাব হবে কেন? এটা অজ্ঞতাপ্রসূত প্রশ্ন। আল্লাহ তাঁর ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যেকোন কিছুকেই ব্যবহার করতে পারেন। মশা, পঙ্গপাল, উকুন, দাবানল, অনাবৃষ্টি, ভূমিকম্প যেকোনো কিছু। যেমন এক হাদিসে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: যখন ব্যভিচার ব্যাপক হবে, তখন আল্লাহ তোমাদের উপর এমন সব রোগ আপতিত করবেন, যা তোমাদের পূর্বে হতো না। অর্থাৎ এই যে নতুন নতুন রোগ, এগুলো আমাদের কৃতকর্মের দরুণ আল্লাহর ক্রোধের প্রকাশ। 

এবং আমরা আরও দেখলাম, আল্লাহর গযব একটা ব্যাপক বিষয়। তাঁর রহমত যেমন একটা ব্যাপক বিষয়। আল্লাহকে যে গালি দেয়, তাকেও আল্লাহ একটা নির্দিষ্ট সময় অব্দি অবকাশ দেন। তাকেও রিজক দেন, পায়খানা আটকে দেন না, সন্তান দেন। তেমনি তাঁর গযবও ব্যাপক। যে এলাকায় আসে সে এলাকায় কাফির-মুমিন সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আযাবে গ্রেপ্তার হয়। এই কমন আযাবটাই কাফিরের জন্য 'ফাইনাল ধরা' হয়, মুমিনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে যায়। 
মহামারিতে দুজন মরলো, কাফিরের জাহান্নামের জীবন শুরু হল। মুমিনের শহীদের মর্যাদা শুরু হল। আযাবটা মুমিনের জন্য পুরস্কার। 
আর জীবিত উদাসীন মুমিনদের জন্য ওয়ার্নিং। কেউ কেউ শুদ্ধ হল। 
আর কেউ কেউ গুনাহে হঠকারিতা করতেই থাকলো। ক্রমাগত গুনাহ করতে থাকা বা গুনাহের ব্যাপারে বেপরোয়া হয়ে যাওয়া এই মুমিনটির ঈমান চলে যাওয়ার কারণ হবে। যেমন 'সালাত হল পার্থক্য ঈমান ও কুফরের মাঝে' এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হানবালী আলিমগণ বলেন, বেনামাযী কাফির। আর অধিকাংশ উলামাগণ বলেন, বেনামাযী নগদে কাফির হবে না, তবে তার নামায ত্যাগ মৃত্যুর আগে তাকে কাফির বানাবে। 

আমরা প্রত্যেকে মৃত্যুকালে শয়তানের চূড়ান্ত প্রচেষ্টার সম্মুখীন হব, ফিতনাতুল মামাত (মৃত্যুকালীন পরীক্ষা)। শয়তান তার সর্বশক্তি দিয়ে শেষ চেষ্টা করবে ঈমানহরণের। যে জীবিতকালে শয়তানের সামান্য ইন্ধনেই কাত হত, সে সর্বশক্তি নিয়োগে ঈমান ত্যাগ করবে। হয়ত সে মারা গেল, দাফন হল, জানাযা হল, কুরআন খতম হল। কিন্তু সে কাফির হয়ে মরেছে। মৃত্যুর মুহূর্তে সে ঈমান ত্যাগ করে মরেছে। সুতরাং 'মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া'টা আপনাকে জান্নাতের গ্যারান্টি দেয় না। বরং 'ঈমান নিয়ে মৃত্যু' আপনাকে জান্নাতে পৌঁছবে। আর ঈমান নিয়ে মৃত্যু তখনই গ্যারান্টেড যখন আপনি পুরোটা জীবন ঈমানের উপর চলে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক তৈরি করবেন, তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসবেন আল্লাহর দিকে। 
আল্লাহ বলছেন: যারা বলে আল্লাহ আমার রব্ব (প্রতিপালক+অধিকারী Master), এবং এই কথার উপরেই অটল থাকে, লেগে থাকে। তার জন্য (মৃত্যুকালে) নাযিল করব ফেরেশতা। যারা বলবে, ভয় পেওনা, দুঃখ করোনা, কাঙ্ক্ষিত জান্নাতের সুসংবাদ নাও। মৃত্যুকালে আল্লাহ ফেরেশতা পাঠিয়ে আপনার ঈমান নিশ্চিত করে, আপনাকে কমফোর্ট করে জান্নাত নিশ্চিত করবেন। শর্ত হল আল্লাহকে তাঁর অধিকার দিতে হবে, রব্ব হিসেবে, আপনার মালিক হিসেবে, আপনার পালনকর্তা হিসেবে তাঁর যে স্থান আপনার জীবনযাত্রায় তাঁর প্রাপ্য, সেটা তাঁকে দিতে হবে। এবং মৃত্যু তক সেই জীবনের উপর আপনাকে অটল থাকার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এটা আপনারই কাজ। নয়ত আল্লাহর নিজস্ব কোনো ঠেকা নেই যে, মুসলিম পরিবারে জন্ম বলে আমাকে জান্নাত দিতেই হবে। 

তো, করোনা আল্লাহর ক্রোধের প্রকাশ। আপনার ঈমানের এন্টেনায় এটুকু ধরা পড়তে হবে। নাহলে প্রবলেম। যদিও এই পোস্টগুলোতে শুরুতে লিখেই দিয়েছিলাম, এগুলো শুধু মুসলিমদের জন্য। এখানে কেবল মুসলিমদের জন্য কিছু বিশ্বাসের কথা হচ্ছে, কোনো যুক্তিতর্ক নয়। এরপরও আরবি নামের কিছু 'বাঙলা কথা বুঝেনা এমন' লোকেরা এবং কিছু দাদা-দিদিরা মন্তব্য করে গেছেন। একজন প্রশ্ন করেছেন: তাহলে আল্লাহর গজব ঠেকানোর জন্য এই যে মাস্ক-পিপিই-ভ্যাক্সিন এগুলো তো বেয়াদবি হচ্ছে, রাগকে কাউন্টার দেয়া কি ঠিক? দেখুন: 
- গযব এসেছে রোগের সুরতে
- নবীজী বলছেন: আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার আরোগ্য সৃষ্টি না করেছেন। এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে মুসলিম সভ্যতায় চিকিৎসাবিজ্ঞান সাধন করেছিল অভূতপূর্ব উন্নতি। বিভিন্ন সভ্যতার গ্রন্থ অনুবাদ- বিশ্লেষণ, নতুন ওষুধ সন্ধান, ফার্মাকোলজি ডেভলপ করেছিল, যার উপর ভিত্তি করে আধুনিক ইউরোপীয় মেডিসিন গড়ে উঠেছে। সার্জারি যন্ত্রপাতি ডেভলপ, সার্জারি প্রক্রিয়া গঠন হয়েছিল যার অনেককিছু আজও আমরা ব্যবহার করি। সুতরাং রোগ নিয়ে গবেষণা, এটাও ইসলামের বিধান থেকে উৎসারিত ও উৎসাহিত। 
- হাদিসের হুকুম মহামারি গযব। মহামারির সময় যথোচিত ব্যবস্থা নিতে আদেশ দিয়েছেন নবীজী। নিজেকে দূরে রাখো, ঐ স্থানে যেওনা, সেখান থেকে বের হয়ো না। সুস্থ উট অসুস্থ উট মিশিও না। পবিত্রতা মেইনটেইন করো (তাহারাত)। ক্ষতিকর প্রাণী হত্যা কর। 

সুতরাং বস্তুবাদ বলছে, মহামারি বস্তুগত কারণে হলো (ভাইরাস ইত্যাদি), বস্তু দিয়ে সমাধান করো (ভ্যাক্সিন ইত্যাদি)। আর ইসলাম বলছে, বস্তুগত মাধ্যমের (ভাইরাস) আড়ালে আসল উৎস আল্লাহর ক্রোধ (তোমাদের গুনাহের কারণে), ফলে আসল উৎস সামলাও (তওবা, আমল দ্বারা সন্তুষ্ট করো) এবং মাধ্যম সামলাও (ওষুধ, হাইজিন ইত্যাদি)। ইসলাম হলিস্টিক সিস্টেম, টোটাল (ইহজগত+পরজগত), উট বেঁধে তাওয়াক্কুল। শুধু বিশ্বাসে ভর করে হাত গুটিয়ে থাকা নয়, আবার বিশ্বাসহীন বস্তু-গোঁড়ামি নয়। এটাই ইসলাম আর অন্যান্য ধর্মের পার্থক্য। 

এবং ভ্যাক্সিন/ওষুধ তৈরি হল, করোনা চলে গেল; তবুও এটা প্রমাণ হয় না যে এটা আযাব না। কারণ "...কতক জাতিকে এর দ্বারা শাস্তি দেয়া হয়েছে। কিছু এখনও বাকি রয়ে গেছে, তাই কখনও তা আসে, কখনও চলে যায়। তবে মুমিনদের জন্য আল্লাহ একে রহমত বানিয়েছেন..."
হাদিস বলছে: মহামারি আসবে এবং চলেও যাবে। গযব যেমন আসে বস্তুগত মাধ্যম দিয়ে। গযব চলেও যেতে পারে বস্তুগত মাধ্যম দিয়ে (ভ্যাক্সিন/ওষুধ)। মাধ্যমের পর্দার আড়ালে আল্লাহর একচ্ছত্র রাজত্ব ও ক্ষমতার প্রকাশ বিশ্বাসীর বিশ্বাসের ইন্দ্রিয়ে ধরা পড়ে। গাছপালা, আকাশ, ফুল, বৃষ্টি সবকিছুর অন্তরালে সে মহাশিল্পীর নিপুণ কারিগরি দেখে, ফিজিক্সের সূত্রের খটমটে ধ্রুবক গুলোর মাঝে মহাপরিকল্পনা-প্রসূত হিসেবী টিউনিঙ অনুভব করে। জীবকোষের ভিতর এই মুহূর্তে হাজারো বিক্রিয়া একই সাথে আনইন্টেরাপ্টেড চলতে দেখে সে এক মহানিয়ন্ত্রকের অমোঘ নিয়মকে উপলব্ধি করে। বিশ্বাসী করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের পিছনে করুণাময়ের করুণা দেখে, নগণ্য মানুষকে দেয়া যোগ্যতার জন্য সে মহান দাতার বদান্যতার শোকর করে। আর বস্তুবাদী কেবল বস্তুর উপাসনা করে। বস্তুর সাফল্যে অহংকারী হয়ে ওঠে। বস্তুর ব্যর্থতায় আশাহত হয়। 
অন্ধ সূর্য দেখে না, তাই বলে কি সূর্য নেই? 

সামনের পর্বে আমরা আলোচনা করব, কেন আমাদের উপর করোনার আযাব এলো। কী করিনি আমরা। কী কী করতে বাকি রেখেছি আমরা। 

চলবে ইনশাআল্লাহ 
#বরিষে_করোনা_ধার
















বরিষে 'করোনা'-ধারা (মুসলিম অনলি)
|| পর্ব ৮ক ||

সুতরাং স্প্যানিশ ফ্লু, প্লেগ, ডেঙ্গু, করোনা, পঙ্গপাল, ইসরাইলের দাবানল, অস্ট্রেলিয়ার দাবানল, সুনামি, নান্দনিক নামের সব সাইক্লোন, ভূমিকম্প এমনকি মুসলিমদের অন্তর্কোন্দল, নেতৃত্বহীনতা, কাফির কর্তৃক নির্যাতন এ সবই আল্লাহর গযবের প্রকাশ ও সতর্কবার্তা। পিক-এ দেয়া সহীহ হাদিসটি দেখুন। 

প্রথমদিকে আলোচনায় আমরা দেখেছি আযাব আসার এপিসেন্টার হল স্পর্ধা। কাফির স্পর্ধা দেখাবে, স্বাভাবিক। আর মুসলিমরা আমরা আল্লাহকে চিনি, এরপরও স্পর্ধার সীমা অতিক্রম করেছি। কাফিরদের প্রতিটি ভঙ্গি অনুকরণ করেছি। যেমনটা বনী ইসরাঈল করত। আল্লাহর অলৌকিক কুদরত তারা স্বচক্ষে দেখত, লোহিত সাগরের পানি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রাস্তা করে দিয়েছে তারা দেখেছে, সেই রাস্তা ব্যবহার করেছে। তীহ এর ময়দানে ৪০ বছর মেঘ থেকে খাবার পড়েছে, সেটা তারা খেয়েছে। নেতারা মরে গিয়ে আবার জীবিত হয়েছে। এরপরও আল্লাহকে তাঁর প্রাপ্য স্থান দেয়নি। বাছুরের পূজা করেছে। আল্লাহ বলছেন, আমি তোমাদের অভিভাবক, সাহায্য করছি। এরপরও বলেছে, মূসা তুমি আর তোমার রব্ব গিয়ে যুদ্ধ করোগে, আমরা পারব না। আল্লাহ বলছেন, তোমরা বলো 'মাফ চাই'। তারা মুখ বেঁকিয়ে শব্দ বদলে বলেছে 'গম চাই'। বলেছে আল্লাহকে নিজ চোখে না দেখে আমরা তাওরাত মানবো না। আল্লাহ দুইবার কাফিরদের (পারসিক ও রোমান) ব্যবহার করে তাদেরকে আযাব দিয়েছেন। রাজ্য দুভাগ হয়ে গেছে। ৭২ দলে দলাদলি করেছে। মিলিয়ে নিন আজ আমাদের সাথে। কাফিরদের আল্লাহ আমাদের উপর প্রবল করেছেন। কতগুলো রাষ্ট্রে কতগুলো দলে উম্মাহ বিভক্ত। কী করেছি আমরা? কী স্পর্ধা দেখালাম যে বনী ইসরাঈলের পরিণতি হচ্ছে আমাদের হুবহু? 

★ ১ম স্পর্ধা: ধর্মনিরপেক্ষতা/সেক্যুলারিজম
---------------------------------------------------------------
খুব খারাপ শোনাবে কথাগুলো। দাঁত চেপে শুনবেন, আর নিজের জীবনের সাথে মেলাবেন। কসম আল্লাহর, আমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে আমাদের জীবন থেকে বের করে দিয়েছি। আল্লাহ বলছেন: লিল্লাহি মুলকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহর। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সকল রাষ্ট্রের রাষ্ট্রব্যবস্থাআমরা সেক্যুলার করে ছেড়েছি। আমি সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তাদেরকে দাওয়াহর নিয়তে নসীহত করছি। আপনারা তওবা করেন, আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করুন। 
'আল্লাহর উপর বিশ্বাস'-এর কোনো জায়গা আমাদের রাষ্ট্রনীতিতে নেই। কোনো পলিসিতে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে রাখা হয় না। আল্লাহ এই পলিসিতে কী করতে বলেছেন, তা বলার মত লোক আপনাদের পলিসি লেভেলে থাকেনা। 
কাফিরদের সন্তুষ্টি পেতে, কাফিরদের দেয়া উন্নয়ন সূচকে স্থান পেতে আমরা নারীনীতি করি কাফিরদের মত করে, আল্লাহ ও রাসূলের সেখানে জায়গা নেই। 
অসাম্প্রদায়িকতার নামে শিক্ষানীতি করি বিধর্মী-স্তুতি দিয়ে, যা আল্লাহ ও রাসূল থেকে নিয়ে যায় দূরে বহু দূরে। নারীবাদ, মানবতাবাদ, বিবর্তনবাদ প্রভৃতি কুফরকে ধ্রুবসত্য ও আধুনিকতার স্কেল হিসেবে শেখাই আমাদের সন্তানদের। 
এমনি করে আইনসভায় আইন করার সময় আল্লাহ ও রসূলের কথার কোনো স্থান নেই। মদ ও পতিতার লাইসেন্স দেবার সময় আল্লাহর সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা নেই। 
অর্থব্যবস্থায় 'আল্লাহ যে সুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন' তার কোনো পরওয়া নেই। 
পরিবার পরিকল্পনা নামে আমরা একটা মন্ত্রণালয়ই বানিয়ে নিয়েছি যাদের কাজ 'আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করা' (টিউবেকটোমি ও ভ্যাসেকটোমি)। 
দণ্ডবিধিতে আল্লাহ ও রাসূলকে রাখিনি। কুরআনে আইন বলে দিয়ে আল্লাহ বলছেন: এটা আল্লাহর নির্ধারণ। যে অস্বীকার করবে, তার জন্য আছে কঠোর শাস্তি [সূরা মুজাদালাহ]। মহারাজাধিরাজ আল্লাহর বেঁধে দেয়া দণ্ডকে 'অমানবিক' বলেছি, 'এ যুগে অচল' বলেছি। এতো বড় সাহস গত ১৪০০ বছর মুসলিমরা কখনও দেখায়নি। 

নামেমাত্র যেটুকু 'আল্লাহর উপর বিশ্বাস' রাষ্ট্রনীতিতে কথার-কথা হিসেবে ছিল, নাস্তিক-বাম মুরতাদ বুদ্ধিজীবী আর কাফির প্রতিবেশীকে পাশে পেতে সেটুকুও আমরা খেদিয়েছি। মুখে মুসলিম দাবি করে এতো বড় স্পর্ধা আমাদের। আল্লাহকে বের করে দেয়ার স্পর্ধা। আল্লাহর সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করার দম্ভ আর ঔদ্ধত্য আমাদের। দম্ভের সাথে ঘোষণা করছি 'আমরা ধর্মনিরপেক্ষ', মানে রাষ্ট্র চলবে ইউরোপীয় কায়দায়, এখানে আল্লাহর মতামতের মূল্য নেই। এগুলো কাফিরদের মুখে মানায়, একেকজন মুসলিম আমরা এই ঘোষণা দিচ্ছি আজ। 

মধ্যযুগে মুসলিম সাম্রাজ্য যখন জ্ঞানবিজ্ঞান, শিল্প সংস্কৃতি, আইনের শাসন, নিত্যনতুন ভূখণ্ডে মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা , নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান ইত্যাদির জন্য পরিবেশ তৈরি করছিল। ঠিক তখন মধ্যযুগে পোপ ও যাজকদের সমর্থিত জমিদার ও রাজতন্ত্র ইউরোপের জনজীবন দুঃসহ করে তুলেছিল। অত্যাচার, দুর্ভিক্ষ, মহামারি, ধর্মীয় দলাদলি, যুদ্ধ, মানবরচিত খৃষ্টধর্মের কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথায় অতিষ্ঠ ইউরোপ মুক্তি চাইল। ইউরোপের দার্শনিকরা জমিদারী ও রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে গণতন্ত্র আর খৃষ্টীয় যাজকতন্ত্রকে উৎখাত করে ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা করলো। নতুন রাষ্ট্রচিন্তায় ধর্ম বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো স্থান নেই। দুই অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই প্রেক্ষাপট। একদিকে ওহীভিত্তিক শাসনের ফলে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত। আরেকদিকে মানবরচিত ধর্মের কারণে স্বার্থান্বেষী যাজকশ্রেণী সমর্থিত শাসনের ফলে অন্যায় সয়লাব। দুটো দুই জিনিস। আজ ওরা গলা থেকে শেকল খুলে ফেলেছে বলে দেখাদেখি আমাকেও গলা থেকে ফুলের মালা খুলে ফেলতে হল? একটু ভাবার ফুরসত হলো না কী করছি? কাকে দেখাতে গিয়ে কাকে রাগাচ্ছি? কাকে সাথে নিয়ে কার সাথে লাগতেছি?

ইউরোপ তাদের 'এনলাইটেনমেন্ট'-এ এসে আলোকিত হয়েছে। আর আমরা তো আলোকিতই ছিলাম। 
১৭০০ সালে বৃটিশ আসার আগে আমরা তো বিশ্বে ১ নম্বর অর্থনীতির দেশই ছিলাম, চীনকে টপকে। আজ ১৯০ বছরের বৃটিশ শাসনের পর কেন আমরা বনেবাদাড়ে হাগি, বুঝতে এত কষ্ট? 
১৭৫৭ সালে পলাশী জয়, আর ১৭৬০ এ শিল্পবিপ্লব। এতো এতো কারখানার পুঁজি কোথা থেকে কোথায় গেল, বুঝতে এতো কষ্ট। 
বৃটিশের দুনিয়াজোড়া সাম্রাজ্য কারা গড়ে দিল, কারা তাদের সব যুদ্ধের ব্যয় মেটালো, তাদের যুদ্ধব্যয় মেটাতে গিয়ে ১ম অর্থনীতির দেশটায় ১০০ বছরে ৫২ বার দুর্ভিক্ষে ৫ কোটি লোক কীভাবে মরে গেল না খেয়ে, বুঝতে এত কষ্ট? 
ইউরোপের তকতকে পাথরের পথঘাট, ঝলমলে শহর-বন্দর, এতো এতো গবেষণার ফান্ডিং কোথা থেকে গেল? 

আমি বলদ এখানে বসে ভাবছি: আাাাারে কত বিজ্ঞান করে উন্নত হয়েছে, কত নারীবাদ করে উন্নত হইসে, হিউম্যানিজম করে উন্নত হইসে। আমরাও এগলা করে মধ্য আয়ের দেশ হব। মুক্তবাজার অর্থনীতি করে উন্নত বিশ্ব একদিন হবোই হবো। অথচ তারা উন্নত হয়েছে নিজেদের বাজার বদ্ধ করে, আমাদের শিল্প শেষ করে, শিল্পোন্নত ভারতবর্ষকে কৃষির দেশ বানিয়ে, নারী শ্রমিকদের অর্ধেক বেতন দিয়ে। নীলকুঠির সাহেব দাদনের অত্যাচার করে, মসলিন শিল্পীদের আঙুল কেটে, কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে ৫ কোটি লোক না খাইয়ে মেরে এখন এসেছে হিউম্যানিজমের কটকটি নিয়ে। আর তাই কিনতে 'আবাল'বৃদ্ধবণিতা ছুটছি তো ছুটছিই। জাতিসংঘ নামের একটা কাকতাড়ুয়া বানিয়ে পিছন থেকে বাধ্য করছে ওদের এসব আইডিয়া দিয়ে পলিসি বানাতে, যাতে সম্পদের সাপ্লাইটা ইউরোপমুখী থাকে। উপনিবেশ ছাড়লেও আয়টা যেন না ছোটে। গণতন্ত্র নামক লুডুখেলা জিনিস শিখিয়ে দিয়ে গেছে, যে তাদের মনমত পলিসি করবে না, তাকে যেন বদলে দেয়া যায় পরের দফায়। 

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন ১৪০০ বছর আগে:' আমার উম্মত আহলে কিতাবদের (ইহুদী-খৃষ্টান) কদমে কদম অনুসরণ করবে। তারা গোসাপের গর্তে ঢুকলে এরাও সেধোঁবে'। আর বৃটিশ আইন আমাদের আইন, বৃটিশ বিচারব্যবস্থা আমাদের বিচারব্যবস্থা, বৃটিশ এন্ট্রান্স-এফএ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, বৃটিশ অর্গানোগ্রাম আমাদের শাসনব্যবস্থা। ওদের গণতন্ত্র আমাদের কেন নিতে হল। ওদের সেক্যুলারিজম কেন নিতে হল। ওদের মিথ্যা উপাস্য মনুষ্যপুত্র যীশুকে ওরা বের করেছে। আমার প্রবল পরাক্রমশালী একক সৃষ্টিকর্তা, সত্বাধিকারী, আল-কাহহার, প্রতিশোধ গ্রহণকারী (আল-যুনতিক্বাম) সর্বশক্তিমান আল্লাহকে আমি কেন বের করে দিলাম আমার সংবিধান থেকে, আমার কোর্ট থেকে, আমার টেক্সটবুক থেকে, আমার অর্থনীতি থেকে, আমার পলিসি থেকে। কোন আক্কেলে, কোন কলিজায়? কে দিল আমাকে এতবড় সাহস? প্রশ্ন করেন নিজেকে। বুক একটুও কাঁপল না মদের লাইসেন্স দেবার সময়। কলিজা একটু কাঁপল না পতিতালয়ের লাইসেন্স, সুদকে বৈধতা দেবার সময়। কার সাথে লাগতে যাচ্ছি? কে সে? "তুমি আমার ক্রোধ সহ্য করতে পারবে না, এরপরও আমার অবাধ্য হচ্ছো, বান্দা আমার?" (আয়াত)

দেশ পরিচালনায় যারা রয়েছেন, সকলের প্রতি অধমের দিল-চেরা আহ্বান। দুহাত জোড় করছি, আপনারা তওবা করেন। সংসদে তওবা করে দুআ হয়েছে। কিন্তু আসল ভুলটা কোথায়, স্পর্ধাটা কোথায়, সীমা ছাড়িয়েছি কোথায়, তা দেখানোই আমার পোস্টের উদ্দেশ্য। রাষ্ট্রীয়ভাবে তওবা করুন। সকল পলিসি রিচেক করুন। আল্লাহ-দ্রোহী আইন, পলিসি সব বাদ দিন। ভয় করুন। ঐ আল্লাহকে ভয় করুন যার কাছে অসহায় অবস্থায় খালি হাতে আপনাকে যেতে হবে। তিনি লক্ষবার আপনার জ্যান্ত চামড়া তুলে লক্ষবার নতুন চামড়া দিতে পারেন, প্রতিবার আপনি ছাল-ছিলার স্বাদ অনুভব করবেন। তাঁর ক্রোধকে ভয় করুন। আপনার অফিস, আপনার সংসদ, আপনার গোপন শলাপরামর্শ কিছুই তাঁর আওতা, তাঁর কাউন্টের বাইরে নয়। 

লিখতে লিখতে আমার লোম দাঁড়িয়ে গেছে। কেন তাঁর ক্রোধ আমাদের উপর আসবে না, আমাকে বলেন। স্পর্ধার কী বাকি রেখেছি আমরা গত ১০০ বছর?

চলবে ইনশাআল্লাহ 
#বরিষে_করোনা_ধার
বাংলা ইসলামিক পোস্ট | বরিষে করোনা-ধারা | লেখক Shamsul Arefin Shakti বাংলা ইসলামিক পোস্ট | বরিষে করোনা-ধারা | লেখক Shamsul Arefin Shakti Reviewed by Dr.Mira Hasan on April 24, 2020 Rating: 5
Powered by Blogger.