মডারেট ও কাঠ মোল্লা - Sabbir Ahmed

SHARE

                         মডারেট ও কাঠ মোল্লা 



শুনেছি , পাকিস্তান আমলে বাংলা সিনেমার গোড়ার দিকে মোল্লা - মৌলভীগণ কিঞ্চিত্ আপত্তি - অনুযোগ করেছিলেন। আপত্তি তুললে ঐ সকল মোল্লাদের বেশ গঞ্জনা পোহাতে হয়েছে বৈকি। কথা শোনা লেগেছে ; ' সেকেলে ' ' কাঠ মোল্লা ' এই টাইপের আর কি। মোল্লা - মৌলভীদের কেন ' কাঠ মোল্লা ' বলে , তার হাকিকত বুঝেছি অনেক পরে। মানে , শুকনো কাঠের মতো রস কষ হীন ঐ মানুষগুলো - এ জন্য ' কাঠ মোল্লা ' !

যারা বলত , তারা আবার রসের ডিব্বা ! সারা দেহ রসে ভরা ! তো দেহের রস মারতে প্রেক্ষাগৃহের দিকে ছুটতে লাগল রসালো মানুষগুলো , আর মোল্লারা মুখ গোমরা করে থাকল সমাজে অনেকটা অপাংক্তেয় হয়ে।


আরো পড়ুনঃ তালিবান আমেরিকা শান্তি চুক্তি 

রুপালি পর্দায় তখনও ঝড় ওঠেনি , কেবল মৃদুমন্দ সমীরণ বয়ে চলছে। সুজাতা , শাবানা , কবরিরা ভাল মতো লজ্জা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তখনও। অভিমানী মোল্লাদের গোমড়া মুখ দেখে রসওয়ালাদের মায়া জাগে , মনটা কেমন কেমন করে। তাই মোল্লাদের মন ভেজানোর বাহানায় বলে ,
' ও আর এমনকী হুজুর ! ভদ্র পোশাক , ভদ্র অভিনয় ! আমাদের নায়িকারা ঐ হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মত নাচে না। আমাদের এরা হেব্বি ভদ্র ! '

রসওয়ালাদের কাছে কিন্তু খুব বেশি দিন ' ভদ্র ' পোশাক আর ' ভদ্র ' অভিনয় ভাল লাগেনি। অরুচি ধরতেই বোম্বে মুখী হওয়ার ফিকির করতে থাকে । ঢাকার ফিল্ম ইন্ডাস্টৃ প্রমাদ গুনে। পেটের দায়ে নায়িকারাও নড়াচড়ার কায়দা - কানুন রপ্ত করে বেশ। ' ওরে ও বাঁশিওয়ালা ... ' বলে যখনই অঞ্জু ঘোষ ভীমরুলের হুল আক্রান্তের মতো উদ্দাম ফাল পাড়ল , আর যায় কোথায় ! রসওয়ালারা দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটতে ছুটতে হামলে পড়ল রুপালি পর্দার সামনে। রুপালি পর্দায় তখন ঝড় বইছে।

হাঁটুর নীচের কাপড় হাঁটুতে গিয়ে ঠেকল। শুকনো কাপড় অসময়ের বৃষ্টিতে অকারণেই ভিজলো। রসিক দর্শকের দৃষ্টি লেপটে থাকল ভেজা কাপড়ে।
' ও আর এমনকী ! ' তখনও কেউ কেউ বলল।

তারপর ....
যমুনার পানি অনেক গড়ালো। রুপালি পর্দায় আরও অনেকেই কাঁপুনি ধরালো। সেই যে মৃদুমন্দ সমীরণে শুরু তারপর বাতাসের বেগ ক্রমেই বাড়ছে। রুপালি পর্দার উপর দিয়ে কালবৈশাখী , টর্নেডো , সাইক্লোন সবই বয়ে চলে। এখন কারা জানি , মাহি ফাহি না কি ও সবের নাম ধাম অত জানিনে , তারা নাকি বিকিনিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধকরছে !
দেখা যাক , রসওয়ালারা বিকিনিতে কতদিন তৃপ্ত থাকে। নাকি শয়তান স্পর্শিত মানুষগুলোর কলুষিত আত্মা চিরকালই অতৃপ্ত রয়ে যাবে ?

বছর দুয়েক আগে সউদদের ' মডারেট ইসলাম ' এর বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছিলাম তখন সউদ ভক্ত অনেকের গাত্র দাহ হয়েছিল। মডারেট ইসলামের পথে হাঁটবে সৌদী আরব - সৌদী যুবরাজ কর্তৃক এরকম ঘোষণার পর বলেছিলাম , আরব উপদ্বীপের অবশিষ্ট ভূমিটিও সব ধরনের অশ্লীলতার জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেল। এক্ষেত্রে আমার সমালোচক বন্ধুরা আবার রসওয়ালাদের মত ক্যারেক্টার ! আমাকেও ' কাঠ মোল্লা ' বলতে চেয়েছিলেন তারা। বলেছিলেন , ' শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকেই সব হবে। ' মানে ঐ ' ভদ্র ' পোশাকের মত আর কি !
শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে কি হবে জনাব ?
আরব নারীদের খেলাধুলা ?
আরব নারীদের নাচ ?
আরব নারী - পুরুষের অবাধ মেলামেশা ?
ব্যভিচার ?

এ সবই কি শরিয়তের সীমার মধ্যে থেকে হচ্ছে রে ভণ্ড মডারেটের দল ?

ও হ্যাঁ। গত বৃহস্পতিবার সৌদিতে নারী রেসলাররা কুস্তাকুস্তি করেছে। তারা নাকি ' পর্দার ' সাথেই এগুলো করেছে।

জনৈক বুজুর্গ বলেছিলেন, " শয়তান শুরুতে পাপকে মাকড়সার সূক্ষ্ম তন্তুর মত দেখতে কুমন্ত্রণা দেয়। তারপর ক্রমে ঐ তন্তু জাহাজ বাঁধার দড়িতে পরিণত হয়। "

এ কথাটি খুবই সত্যি। কি ব্যক্তির ক্ষেত্রে , কি সমষ্টির ক্ষেত্রে।




ক্লিষ্ট হাসি কষ্টের জানান দেয়। হাসিতেও কষ্ট ঝরে। কখনো ঋজুতার সাথে সহজ ও সরলভাবে সত্য উচ্চারণ প্রতিবন্ধকতার কাঁটাতারে রক্তাক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কবি - সাহিত্যিকদের কেউ কেউ অসংগতি, অনিয়ম , অন্যায় - অনাচার , অমানবিকতার প্রতিবাদে আশ্রয় নেন হাস্য - শ্লেষাত্মক সাহিত্যের। বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক জর্জ বার্নাড শ' একবার বলেছিলেন , আমার আর টোয়েনের ( বিখ্যাত মার্কিন সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন ) অবস্থা একই। লোকেরা যদি মনে না করত যে , আমরা মানুষকে শুধু হাসানোর জন্য লিখি, তাহলে তারা আমাদের ফাঁসিতে লটকে দিত।
আজকাল মানুষ হারানোর খবর শোনা যাচ্ছে। একেবারে জলজ্যান্ত তাগড়া - জোয়ান মানুষগুলো কোন চিহৃ না রেখেই নিখোঁজ হচ্ছেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন , কোথায় থাকছেন , কেমন আছেন, কী খাচ্ছেন কিছুই জানা যাচ্ছে না। মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে নাকি কোন কৃষ্ণগহ্বর গিলে খাচ্ছে বুঝা যাচ্ছে না কিছুই। টুপটাপ করে হারাচ্ছে। তাদের খোঁজ - তালাশ করবারও যেন কেউ নেই , কোন সংগঠন - সংস্থা নেই। অজানা, অচেনা, অপরিচিত মানুষগুলোর জন্য কষ্ট লাগে। আরও কষ্ট লাগে অজানা আশঙ্কায় দিনাতিপাত করা হারানো ব্যক্তির উদ্বিগ্ন স্বজনদের কথা ভেবে। আশঙ্কা সংক্রামিত হয় ... কষ্টের ভেতরই একটা হাসির কথা মনে পড়ে ..... বহু আগে হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে দেখা একটা ভিডিও কৌতুক পরিবেশন করছি নিজের মত করে -
প্রত্যন্ত গ্রাম হতে ঢাকা এসেছে একজন আলাভোলা কিসিমের যুবক। উঠেছে শহরতলীর বোনের বাসায়। দুলাভাই চাকুরীজীবী। দুলাভাই মানুষটি কয়েকদিন যাবত বাসায় ফিরছে না। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এ কদিন অফিসেও যায়নি। উদ্বিগ্ন স্ত্রী ছোট ভাইকে হারানো সংবাদ প্রচারের দায়িত্ব দিলো। শহুরে পরিবেশে অনভ্যস্ত যুবকটি অচেনা জায়গায় রিকসায় মাইক বেধে হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচারে রাস্তায় নেমে পড়ে। কাঁপা কাঁপা গলায় প্রায় তোতলাতে তোতলাতে কোনমতে বলে চলে , ভাই সব ! একটি হারানো সংবাদ ! ....
এভাবে অনেকক্ষণ চলার পর যুবক রিকশাচালককে বাসায় ফেরার পথ ধরতে নির্দেশ দেয় । রিকশাচালক বাসার ঠিকানা জানতে চাইলে যুবক কিছুতেই ঠিকানা মনে করতে পারেনা। ভয়ে - আতঙ্কে তার গা ঘামতে থাকে। কিছুক্ষণ পর যুবকটি রিকশাচালককে বলে , ভাই ! মাথায় একটা বুদ্ধি খেলেছে। আপনি যেদিক ইচ্ছা সেদিকে রিকশা চালান। চালক প্যাডেলে চাপ দেয় । যুবক হারানো বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা শুরু করে , ভাই সব ! আমি হারাইয়া গিয়াছি ! আমার নাম অমুক । আমার গায়ে সাদা জামা ও পরনে কালো প্যান্ট আছে । আমার গায়ের রঙ ......

নিজ দায়িত্বে নিজের হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করার আইডিয়াটা মন্দ নয়। কেউ হারিয়ে গেলে বলবেন , ভাই সব ! আমি হারাইয়া গিয়াছি। আমার আত্মীয় - স্বজন , বন্ধু - বান্ধব , শুভাকাঙ্ক্ষীরা কেউ জানেনা আমি কোথায় আছি। আমার নাম .... আমার গায়ে জোব্বা /পাঞ্জাবী আছে , মাথায় টুপি ছিল এখন নাই , কোথাও পড়িয়া গিয়াছে , আমার মুখে দাড়ি আছে ....
অবশ্য এরকম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করতে পারবেন যদি হারানো হতভাগার জবানে কথা বলার শক্তি ও স্বাধিনতা অবশিষ্ট থাকে।
SHARE

Author: verified_user