বাংলা ছোট ছোট গল্প সমগ্র ২০২০

বাংলা ছোট ছোট গল্প সমগ্র ২০২০  - প্রেম ভালবাসা রোমান্টিক স্টোরি 




বইয়ের সাথে একদিন


টেস্ট পরিক্ষার মাত্র ১৪দিন বাকি।দীর্ঘদিনপর পড়তে বসেছি।প্রথমে সাহিত্যপাঠ খুলে সূচিপত্র দেখলাম।'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতাটা সিলেক্ট করে প্রথম লাইন পড়েছি।অমনি বই আমার জমে থাকা একরাশ অভিমান নিয়ে বলে উঠল,"ওরে,এতদিনে তোর মনে পড়ে এই কাঙালিনীর কথা?কোথায় ছিলে কার তরে দিয়ে মোরে এত ব্যাথা?" আমি ফিক করে হেসে প্রতিদিন আসার আশ্বাস দিয়ে তার অভিমান ভাঙালাম।এরপর অনেক কথা,অনেকদিনের জমে থাকা গল্প যেন ফুরোতেই চায় না।
__
ইংরেজী বই বের খুলতেই সে মুখের উপর ঝামটা দিয়ে বলল,"হোয়াট ননসেন্স ইউ আর!হাউ ডেয়ার ইউ ?don't touch?নাউ গো টু হেল!" বুঝলাম না এভাবে সাদা চামড়ার ইংরেজ লাটের মত বিহেভ হোয়াই করছে হি/শি!অনেক অনুসন্ধানে টের পেলাম এতদিন খোঁজ না নেওয়াতে সে রাগন্বিত।অনেক হাতজোর করে,কত দোহাই দিয়ে অবশেষে তার রাগ ভাঙাতে সক্ষম হলাম।
__
এবার ফিজিক্সের পালা।ভয়ে ভয়ে বই খুললাম।বাহ এ যে কিছুই বলছে না!নিউটনিয়ান বলবিদ্যার চ্যাপ্টার খুলে পড়তে লাগলাম।হঠাৎ অনুভব করলাম মাথায় ভারী কিছু পড়েছে!নিউটনের মাথায় তো আপেল পড়েছিল,তবে কি আমার মাথায় তাল পড়ল!বাসার ভেতরে তালগাছই বা কোথেকে এলো।উঠে আম্মুকে জিজ্ঞেস করতে যাব,এসময় ফিজিক্স বই কথা বলল,বসো। মাথা ঠান্ডা করো।ওটা ছিল তোমার মনোযোগ আকর্ষনের জন্য।হিপনোটাইজ ধরে নিতে পারো!তোমার মাথায় আসলে কিছুই পরে নি।" আমি অবাক হয়ে গেলাম।
বই আবার বলে উঠল,'তুমি আমাকে ত্যাগ করেছ বহুদিন হলো।অবেলায় কেন তবে আবার ফিরলে?'
আমি কি বলব বুঝলাম না।ছলছল চোখে বললাম,'একেবারে নিঃস্ব আমি।খালি হাতে ফিরিয়ে দিও না।' সে আমায় গ্রহণ করল।কিছুক্ষণের জন্য একেঅপরে একাত্ম হয়ে গেলাম।
___
রসায়ন বই খুলে দেখলাম ভেতর থেকে ঝাঁঝালো গন্ধ বের হচ্ছে।বইয়ের ভেতরটা অপরিচিত মনে হলো।ভাবলাম এটা হয়ত উপরের ক্লাসের বই।বইটা আগের মত তাকে রাখতে যাব!হঠাৎ একটা তেজষ্ক্রিয় আলো আমার চোখ ধাঁধিয়ে দিল!কিসের যেন বিকর্ষণ আমাকে বই থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলো।আমি ছিটকে নিচে পড়ে গেলাম।
গম্ভীর শান্ত অথচ বিরস-আকর্ষণহীন একটা কন্ঠ আমাকে বলল,'এই বাসায় আপনার বড় কোন ভাইবোন আছে?'
আমি বললাম,'নাহ নেই তো।'
-'তাহলে বড় ক্লাসের বই এই তাকে আসলো কিভাবে?'
-'আমি আসলে বুঝতে পারছি না কে বা কারা আপনাকে বিভ্রান্ত করে আমার তাকে এনে রেখেছে!'
এবার যেন সে একটু রেগে গেলো!
-'অধাতু কোথাকার!বইয়ের সাথে যোগাযোগ নেই কতদিন?গতবছর তুমি আমাকে সংকলন লাইব্রেরী থেকে কিনে এনে ২য় তাকের তিন নম্বর সারিতে রেখেছো।তারপর থেকে এই জায়গায় আছি।আজ প্রথম আমার শুভ উদ্বোধন হলো তোমার হাতে।'
-'ওও শিট!আমার একদমই খেয়াল ছিল না।আই'ম এক্সট্রিমলি স্যরি।এক্সচুয়ালি অন্য রাইটারের বই পড়া..
' -'শাট আপ!তুমি কোন রাইটারের বই পড়ো না।এসবের খবর আমার ভালোই জানা।'
ধরা পরে মাথা নিচু করে ফেললাম।সযত্নে বইটা তাকে রেখে দিলাম। আজ আপাতত থাক।কাল থেকে ভালো ভাবে পড়া শুরু করব।
Written by:Radia
12.10.18





কলিংবেল বাজাতেই শ্রাবণী দরজা খুললো। আমাকে দেখেই হাসতে হাসতে বললো,
-জানো পিয়াস, আজকে না পাশের বাসার ভাবী তেলাপোকা দেখে এত জোরে চিৎকার করেছিলো আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,
-- তোমার কি কোন কমনসেন্স নাই? আমি এখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি আর তুমি এইসব ফালতু কথা শুরু করে দিলে...
শ্রাবণী মুখটা গম্ভীর করে বললো,
- সরি, তুমি ভিতরে আসো...
আজকাল আমার স্ত্রী শ্রাবণীকে আমার খুব অসহ্য লাগে। একটা মেয়ে এতটা বাচাল কিভাবে হতে পারে সেটা শ্রাবণীকে বিয়ে না করলে বুঝতেই পারতাম না।
রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বিছানায় একটু শুয়েছি অমনি শ্রাবণী পাশে বসে বলতে লাগলো,
- জানো পিয়াস, আজকে উপরে ফ্ল্যাটের ভাই গেইট দিয়ে ঢুকার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলো। ভাই পড়ে গিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখছিলো কেউ দেখেছে কি না কিন্তু আমি যে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সব দেখেছি সেটা উনি বুঝতেই পারে নি...
এই কথা বলে শ্রাবণী হি হি হি করে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। ওর হাসি দেখে মনে হচ্ছে পা পিছলে পড়ে যাওয়া হলো পৃথিবীর সবচেয়ে হাস্যকর জিনিস৷ ইচ্ছে করছে এই মুহুর্তে ওর কান বরাবর একটা থাপ্পড় মারি কিন্তু মেয়েদের গায়ে হাত তুলা ঠিক না তাই দাঁতের সাথে দাঁত চেপে নিজের রাগটা কন্ট্রোল করে শ্রাবণীকে বললাম,
-- তোমার কি কোন কাজ নেই সারাদিন এইসব দেখা ছাড়া? কে পা পিছলে পড়ে গেলো, কে তেলাপোকা দেখে ভয় পেলো এইসব তোমায় কে দেখতে বলেছে? অবশ্য তোমার তো কোন কাজও নেই বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া। কিন্তু আমার অনেক কাজ করতে হয়। আমি সারাদিন অফিসে কাজ করে খুব ক্লান্ত হয়ে বাসায় আসি তোমার এই ফালতু বকবক শুনার জন্য না। দয়া করে মুখটা বন্ধ রেখে আমায় একটু একা থাকতে দাও...
শ্রাবণী কিছু না বলে মুখটা গম্ভীর করে অন্যরুমে চলে গেলো। আর আমি বিরক্ত হয়ে মনে মনে বলতে লাগলাম,
কি ফালতু মেয়েরে বাবা এত অপমান করি তবুও ঠিক হয় না। সারাদিন কোন কাজ তো করেই না আর আমি কাজ করে বাসায় ফিরলে বকবক করে আমার কান নষ্ট করে ফেলে...
রাতে যখন খেতে বসি তখন শ্রাবণী আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
- পিয়াস, একটা কথা বললে রাগ করবে?
আমি বললাম,
-- কি কথা?
শ্রাবণী নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,
--অনেকদিন হলো বাসার টিভিটা নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। একটু ঠিক করে এনে দিবে...
কথাটা শুনে আমার মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। আমি ধমক দিয়ে বললাম,
-- এইসব ফালতু কাজ করার মত সময় আমার নেই। আর টিভি ঠিক করে দিলে কি হবে? কোন কাজ যেহেতু নেই তাই সারাদিন বসে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখবে আর স্বামীকে সন্দেহ করবে।
শ্রাবণী কিছু বললো না। মুখটা গম্ভীর করে রান্না ঘরে চলে গেলো। আর আমি মুরগীর গোশত দিয়ে ভাত খেতে খেতে ভাবতে লাগলাম, মেয়েটা আর কাজ করুক আর না করুক রান্নাটা ভালো পারে...
টিভিটা অবশ্য আমিই নষ্ট করেছিলাম। আমি যখন টিভিতে খেলা দেখছিলাম তখন শ্রাবণী কানের কাছে বকবক করছিলো আর সমানে বলছিলো এই প্লেয়ারের নাম কি ওর নাম কি। আমি কিছু বলছিলাম না দেখে ও বললো কি সব ফালতু খেলা এইগুলো। এই কথা শুনে রাগে আমি টিভে ফেলে দিয়েছিলাম..
অফিস থেকে ৫ দিন ছুটি পেয়েছি শুনে শ্রাবণী হাসতে হাসতে বললো,
-চলো না বাবার বাড়ি থেকে একটু ঘুরে আসি। অনেকদিন ধরে যাওয়া হয় না।
আমি শ্রাবণীকে বললাম,
-- তুমি কয়েকদিনের জন্য ঘুরে আসো। আমি এই কয়দিন একটু শান্তিতে একা থাকতে চাই...
বুঝতে পারছিলাম আমার কথাশুনে শ্রাবণী কষ্ট পেয়েছে কিন্তু কিছু করার নেই কারণ এই কয়দিন আমি একা নিজের মত থাকতে চাই। শ্রাবণীর এই অসহ্য বকবকানি আমার শুনতে আর ইচ্ছে হচ্ছে না...
বিকালে শ্রাবণী চলে যায়। রাতে বন্ধুদের ডেকে এনে খুব আড্ডা দিলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার ফলে সারাবাসা অপরিষ্কার হয়ে আছে। মনে মনে ভাবলাম আগে এককাপ চা করে খাই পরে সব পরিষ্কার করি। রান্নাঘরে কোথায় চা পাতি আছে, কোথায় চিনি, কোথায় আদা আছে আমি এইসব কিছুই জানি না। এককাপ চা বানাতে গিয়ে শ্রাবণীকে আমার ৪ বার ফোন দিতে হয়েছে। কোথায় কি আছে শ্রাবণী আমাকে বলে দিয়েছে। সব কিছু খুঁজে পাওয়ার পরেও সামান্য এককাপ চা বানাতে গিয়ে আমার ২০ মিনিট সময় লাগলো অথচ শ্রাবণী চা দিতে ৫ মিনিট দেরি করলে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো। রাগে চায়ের কাপ ভেঙে ফেলতাম...

ছোট গল্প


ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো। মেঝে যখন পরিষ্কার করি তখন দেখি কোমড় নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি না। ভেজা মেঝের উপর চলাচলের ফলে মেঝে শুকানোর পর খেয়াল করে দেখলাম পুরো মেঝেতে পায়ের ছাপ লেগে আছে। বাধ্য হয়ে আবারও মেঝে পরিষ্কার করলাম...
রান্না করার সময় অবস্থা আরো খারাপ হয়ে গেলো আমার। এই মরিচের গুড়া আনো, হলুদের গুড়া, ফ্রিজ থেকে এটা আনো ওটা আনো। এইভাবে রান্নাঘর আর ডাইনিং রুম চক্কর দিতে দিতে আমার মাথা ঘুরতে লাগলো।
কষ্টকরে রান্না শেষ করে যখন কাপড় ধুতে গেলাম।তখন সাদা কপড়ের সাথে রঙিন কাপড় ভিজেয়ে ফেলেছি। ফলে সাদা শার্টে রঙ লেগে পুরো শার্ট নষ্ট হয়ে গেলো। অনেকক্ষণ চেষ্টার পরেও দাগ উঠলো না...
দুপুরে খাওয়ার পর শরীরটা আর কাজ করছিলো না। তারপরও কষ্ট করে থালা বাসন গুলো পরিষ্কার করলাম। তারপর বিছানায় এসে দিলাম ঘুম। ঘুম থেকে উঠার পর কিছু ভালো লাগছিলো না। ভাবলাম একটু টিভিতে খেলা দেখি কিন্তু টিভিটা যে নষ্ট আমার খেয়াল ছিলো না।
সন্ধ্যার পর মেনের ভিতর কেমন জানি হাহাকার সৃষ্টি হলো। নিজেকে খুব অসহায় আর একা মনে হতে লাগলো। একবেলা রান্না আর একদিন ঘর গুছিয়ে আমার যতটা কষ্ট হয়েছে টানা ৭ দিন যদি অফিসের কাজ করতাম তারপরও আমার এতটা কষ্ট হতো না। অথচ আমি সব সময় শ্রাবণীকে বলতাম তোমার তো কোন কাজ নেই।
একা একা সময় কাটানো যে কতটা কষ্টের সেটা আমি একদিন থেকেই বুঝতে পেরেছি। ঘরের টিভিটা পর্যন্ত ঠিক ছিলো না যে শ্রাবণী কাজ শেষে একটু টিভি দেখে সময় পার করবে।
আমি সারাদিন অফিস করতাম। কগিলদের সাথে কত কথা বলতাম। অথচ শ্রাবণীর একটা কথা বলার মানুষ ছিলো না। সারাদিন হয়তো কথাগুলো জমাতো আমাকে বলার জন্য অথচ আমি ওর কোন কথা শুনতাম না।
এই রকম অবস্থায় আমি একদিন থেকেই হাঁপিয়ে উঠেছি অথচ শ্রাবণী দিনের পর দিন এই রকম ভাবে পার করেছে...
রাত ১২ টা বেজে ৪৭ মিনিট। আমি শ্রাবণীদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। শ্রাবণীকে ফোন দিয়ে নিচে আসতে বলতেই তাড়াহুড়ো করে নিচে নামলো। আমাকে দেখে হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,
- কি হয়েছে পিয়াস, তুমি ঠিক আছো তো?
এত রাতে এলে যে?
আমি শ্রাবণীকে বললাম,
-- তোমায় একটা মজার জিনিস বলতে এসেছি..
শ্রাবণী অবাক হয়ে বললো,
- কি?
আমি হাসতে হাসতে বললাম,
-- উপরের ফ্ল্যাটের ভাই আজকেও গেইট দিয়ে ঢুকার সময় পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলো।
শ্রাবণী আমার কথা শুনে বিরক্ত হয়ে বললো,
- এই ফালতু জিনিস শুনানোর জন্য আমায় এত রাতে নিচে নামালে। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে জুতা গুলো পর্যন্ত পড়ে আসি নি..
এমন সময় শ্বশুর শ্বাশুড়িও নিচে নামলো। শ্বশুর আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
~বাবা, কি হয়েছে? এত রাতে এলে যে?
আমি বললাম,
-- বাবা, শ্রাবণীকে নিতে এসেছি।
শ্বশুর অবাক হয়ে বললো,
- তাই বলে এত রাতে?
শ্বাশুড়ি তখন শ্বশুরের কানে কানে কি যেন বললো।
শ্বশুর শ্বাশুড়ির কথা শুনে মুচকি হেসে বললো,
~আচ্ছা বাবা নিয়ে যাও। তবে চাইলে আমাদের বাসাতেও থাকতে পারো। আমরা বুড়ো মানুষ ঘরের এককোণে নাক ডেকে ঘুমাবো। তোমাদের কোন সমস্যা হবে না...
আমি বললাম,
-- না বাবা, আমি কাল আসবো। আজ শ্রাবণীকে নিয়ে গেলাম...
এখন মাঝরাত । আকাঁশে পূর্ণ জোছনা। মেয়েটি পিচঢালা পথে খালি পায়ে হাটতে পারছিলো না দেখে ছেলেটি মেয়েটিকে কোলে নিলো। বাবা মা কি না কি মনে করেছে এই কথাটি ভেবে মেয়েটি এখনো রাগে লাল হয়ে আছে। আর ছেলেটি মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভাবছে, আজ থেকে তোমার ঐ ফালতু কথাগুলোই আমি খুব আগ্রহ নিয়ে শুনবো, তোমার হাসির সাথে তাল মিলিয়ে আমিও জোরে জোরে হাসবো। আর হে আজ থেকে তুমি যখন সিরিয়াল দেখবে তখন কানের কাছে বকবক করবো আর বললো, এইসব ফালতু জিনিস কিভাবে দেখো..

একদিন
আবুল_বাশার_পিয়াস




দোকানিকে শাড়ির ৩০০০ টাকা দিতে দিতে মনে মনে ছোট্ট একটা যোগ-বিয়োগ করে ফেললাম।আম্মু আর মায়ের জন্য একই রঙের দুটো শাড়ি নিলাম।
তারপর বাবা আর আব্বুর পাঞ্জাবি দুটো কিনতে যেয়েও আবারো অংক কষলাম।আব্বু আবার পোশাকের ক্ষেত্রে খুবই রুচিশীল মানুষ। তাই বাজেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আর আব্বুর রুচির কথা মাথায় রেখে আব্বু আর বাবার জন্যও একই পাঞ্জাবি কিনলাম।
নিজের আব্বু- আম্মু আর ফারহানের বাবা- মাকে আলাদা করে ভাবি না তাই তাদের জন্য একই পোশাক কিনলাম।
বিয়ের আগে ফারহানের একটাই চাওয়া ছিলো আমার কাছে, -যদি সৎ মানুষকে ভালোবাসতে পারি তাহলে বিয়ের পরে কম উপার্জন যেনো ভালোবাসার ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় !
আমি যেমন ওর সততা দেখে তাকে ভালোবেসেছি ঠিক তেমনি ভালোবাসা যেন বিয়ের পরেও থাকে। আর ওর মা- বাবা আর আমার মা- বাবার মধ্যে কখনো যেনো পার্থক্য না করি।
বিয়ের ছয় মাসে অন্তত এতোটুকু বুঝতে পেরেছি যে, অল্পের মধ্যেও কিভাবে সন্তুষ্ট থাকা যায়।বাবা- মাও কখনো বুঝতে দেয়নি যে আমি ঘরের বউ।নিজের মেয়ের মতোই সব সময় আদর-স্নেহে কোনো কমতি রাখে না।
ফারিয়া আমার একমাত্র ননদ।তবে আমাদের মধ্যে ননদ ভাবির সম্পর্কের চেয়ে বান্ধবীর সম্পর্কটাই বেশি।কেনাকাটা বা কোথাও ঘুরতে গেলে একসাথেই যাই কিন্তু জ্বরের কারনে আজ আমার সাথে শপিংয়ে আসতে পারে নি।তাই বাজেটের সাথে কেনাকাটা করতে একটু অসুবিধেই হচ্ছে আমার।আর ফারহান তো তার চাকরি নিয়েই খুব ব্যস্ত! তাই আমাকে পনেরো হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে সবার জন্য শপিং করতে বললো।সাথে এটাও বলে দিলো যেন ওর জন্য কিছু না কিনি।বিয়ের পাঞ্জাবি পরেই ঈদের নামাজ পরবে নাকি সে !
ফারিয়ার দুইটা ড্রেস, জুতা, কিছু কসমেটিক কিনে ছোটো ভাইয়ের প্যান্ট-টি শার্ট কিনলাম।ওদের জন্য কেনাকাটা শেষে দেখলাম হাতে ফারহানের দেয়া ৯০০ টাকা আর আমার দুই মাসের টিউশানির ৩০০০ টাকা আছে।তা দিয়েই ফারহানের জন্য একটা পাঞ্জাবি আর ওর পছন্দের কালো রঙের একটা শার্ট কিনলাম।
জানি ফারহান বলবে কেনো কিনলে আমার জন্য। তারপর আমার হাত দুটো ধরে আমাকে শান্ত ধীর গলায় বুঝাবে, অন্তি তুমি তো জানো আমি অল্পতেই খুশি, তারপরেও কেনো? আমি তখন ফারহানের বুকে মুখ লুকিয়ে বলবো ভালোবাসি তোমাকে তাই ।
কেনাকাটা শেষে একটু ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসেছি। বিয়ের আগে প্রায়ই সেখানে যাওয়া হতো ফারহান আর আমার।নিয়ম করে দশ টাকার বাদামই ছিলো আমাদের জন্য ধরাবাধা।আর মাঝে মাঝে তুলি নামের মেয়েটির কাছ থেকে কাঠগোলাপের মালা কিনে আমার চুলে পরিয়ে দেয়া ছিলো ফারহানের অভ্যাস।আজও তুলিকে দেখতে পেলাম।আমাকে দেখেই ছোট্ট মেয়েটি দৌড়ে এসে কাঠগোলাপের একটা মালা এগিয়ে দিলো।আমিও মালাটা হাতে নিয়ে ওর গালে চুমু দিয়ে পাঁচশ টাকা দিলাম।পিচ্চিটা টাকাটা নিতে না চাইলেও জোর করে দিলাম ঈদের সেলামি হিসাবে। তুলির ছোট্ট মুখের হাসির রেখায় যেনো আমার ঈদ তখনই পূর্ন হয়ে গেলো।
বাসায় এসে বাবা-মা,ফারিয়াকে সবার ওদের জন্য কেনা পোশাক দেখালাম।সবার পছন্দ হয়েছে দেখে আমারও যেনো খুশিতে আর ধরে না! তবে ফারহানের পোশাকগুলো লুকিয়ে রাখলাম ঈদের দিন ওকে চমকে দিবো বলে।আর আব্বু-আম্মু, ছোটো ভাইয়ের পোশাক রেখে দিলাম পরেরদিন বাসায় যেয়ে আমি আর ফারহান দিয়ে আসবো বলে।ফারহান বাসায় এসে সবারটা দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করলো আমার ড্রেস কোথায়?আমি মুচকি হেসে বললাম বিয়ের সময় তো অনেক ড্রেস উপহার পেয়েছি যেগুলোর ভাজও খোলা হয়নি কখনো।ফারহান আর কিছু বললো না শুধু আমার হাতদুটো ধরে বললো, আমার ছোট্ট লক্ষী বউটা দেখি সংসারের হাল ভালো করেই ধরেছে,,,,
ঈদের সকালে ফারহান গোসলে ঢুকলে নতুন পাঞ্জাবিটা খাটের উপর রেখে একটা চিরকুটে তিনবার লিখলাম,
ভালোবাসি তোমাকে ফারহান
থুর থুরে বুড়ী হয়েও যেনো পাশে পাই তোমাকে।
ফারহান বের হবার আগেই চলে গেলাম রান্নাঘরে। সেমাই খেয়ে বাবা আর ফারহান চলে গেলো নামাজে।আমি মাকে রান্নার কাজে সাহায্য করছি আর ফারিয়া ঘর গুছাতে ব্যস্ত।আমার কাজ শেষ হলে গোসলে ঢুকলাম তাড়াতাড়ি। গোসল শেষে বের হয়েই দেখি বিছানার উপরে একটা প্যাকেট, পাশে একটা চিরকুট।সেখানে লিখা,
ভালোবাসি তোমাকে অন্তি
থুর থুরে বুড়ো হয়েও যেনো পাশে থাকতে পারি তোমার।
শাড়িটা আমার ছোট্ট বউয়ের জন্য,ঘিয়ে রঙয়ের সোনালি পাড়ের শাড়িতে তোমাকে বড্ড মানাবে অন্তি !
আনন্দে চোখ বেয়ে পানি পরছে। ঘাড়ের উপর কারো নিঃশ্বাস টের পাচ্ছি! ঘুরে দাঁড়াতেই ফারহানের আলতো ছোঁয়া কপালে পরলো।মনে হলো যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী আমি। মধ্যবিত্তের ঘরেও যেনো ভালোবাসা আকাশের এক ফালি চাঁদ!
--মধ্যবিত্ত ভালোবাসা
~প্রিয়ন্তি মুনা
১৭/১০/১৯


বাংলা ছোট কাহিনি  



বউ
পর্বঃ৪৪
writerঃঅন্না
,
শুভ তিশাকে খাইয়ে দিচ্ছে আর তিশা চুপটি করে খাচ্ছে। এর মধ্যে ইরা কোথ থেকে এসে খাবার প্লেট টা টেনে নিয়ে ফ্লোরে ছুরে ফেলে দেয়,,,,
শুভঃ তুমি? তুমি আবার এখানে এসেছো?
ইরাঃ আমি বিষ খেয়েছি শুভ,,,,
শুভঃ what!!!!!!!!
ইরা শুভর গায়ে ঢলে পরে,,,,,
শুভঃইরা, ইরা,,,
শুভর বাবাঃ কি হলো।ইরা , ইরা
শষীঃ হায় হায় কি হয়েছে ওর?
শুভর মাঃ কি রে বাবা ও এখানে কেনো? আর,
শুভঃ ও নাকি বিষ খেয়েছে। ওকে এখনি হসপিটালে,
তিশাঃআমাকে একটু রুমে নিয়ে যাবে শুভ?
শুভঃ কিন্তুু এখন ওকে,,,
তিশাঃপ্লিজ,,,,
শুভঃবারাবারি করছো তুমি।
শুভ ইরাকে সোফায় শুইয়ে দেয়, তারপর তিশাকে কোলে নিয়ে রুমে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে বের হতে লাগে,
তিশাঃ শুভ,,,
শুভঃ হুম,,,
তিশাঃ ইরাপু বিষ খায়নি,,,
শুভঃ হোয়াট ননসেন্স।তুমি দেখলে না ওর সেন্স নেই। অজ্ঞান হয়ে আছে ও।এখনই যদি ওকে হসপিটালে না নিয়ে যাওয়া যায় তো,,,আমি জানি তুমি ওকে পছন্দ করো না।কিন্তুু তুমি,,,
তিশাঃ আমায় বিশ্বাস করো না ভালো কথা। নিজেই পরিক্ষা করে দেখো, দারাও ( কথাটা বলেই তিশা উঠে দারায়। তিশাকে নিজের পায়ে দারানো দেখে শুভর চোখ কপালে উঠলো।)
ওভাবে তাকানোর কি আছে? এলিয়েন নাকি আমি? পা একদম ভালো হয় নি। হাটতে পারতাম।কিন্তুু কোলে উঠতে আমার খুব ভালো লাগতো।কিন্তুু আমি আমার বর এর কোলে উঠেছি।তোমার কি? যাই হোক চলো আমার সাথে। তোমার ইরার কি অবস্থা করি দেখি,,,
তিশাঃ হায় হায় আম্মু মেয়েটা এভাবে মরে গেলো?(চোখ মেরে)
শুভর মাঃ আহা রে মেয়েটা বড্ড বাজে ছিলো। এখন শান্তি পাবো একটু।
শুভ চুপচাপ ওদের দিকে তাকিয়ে বোকার মতো তাকিয়ে আছে।
তিশাঃ এমন ভাবে বলতে নাই আম্মু।বল এটা একটা ডাইনি,রাক্ষসী,পেঁচিমুখী,বান্দরনী,শাকচুন্নি, ছিলো।মরে গেছে বেঁচে গেছি। নয়তো আমার শুভকে কেরে নিতো,হুহ
শুভঃ হয়েছে অনেক।এখন ওকে ডাক্তারের কাছে,,,
তিশাঃ ওই চুপ ব্যাটা। আম্মু চলো আমরা দুজন মিলে ওকে গার্ডেনে নিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দেই।আহ্ তাহলেই আমার পথের কাটা দুর হবে। যদি বাই চান্স বেচে থাকে তো মাটির নিচে এমনি মরে যাবে ।তুমি বস্তা টা নাও।আগে ওকে বস্তায় ভরে নেই।
কথাটা বলেই তিশা ইরার পা ধরে টেনে ফ্লোরে ঠাস করে নামিয়ে জোরে টানতে শুরু করে
ইরাঃআউচ্ ও মা গো, কেউ বাঁচাও আমায়। আমায় মেরে ফেললো।
কথাটা বলেই ইরা ছুটে বাসা থেকে দৌড় দিয়ে বের হয়ে গেলো।
,
শুভ তো হা হয়ে ইরা যাবার দিকে তাকিয়ে আছে। তিশা হাহাহাহ্ করে হাসতে হাসতে সোফায় বসে নিজের পা দুটো ধরে আফসোস করতে থাকে,
তিশাঃ ইস্ শাকচুন্নি টাকে টানতে গিয়ে আমার পায়ে লেগেছে।
শুভর মাঃ কোথায় লেগেছে দেখি।
তিশাঃ তেমন লাগেনি তো। এক্টু।।।
শুভঃ এটা কি হলো?
তিশাঃ কি আর তোমার জানু পালিয়ে গেলো দেখলে না?
শুভঃ ও,,,,,,
তিশাঃতোমাকে কে কলেজে টিচারগিরি করার জন্য ঠিক করেছে বলো তো।আস্ত একটা গাধা। ও কি বিষ তোমার বাসার গেট এর সামনে এসে খেয়েছে? নাকি তোমার সামনে? আগে থেকে বিষ খেলে ও বেছে বেছে তোমার কোলে কেনো পরলো? আর চোখ দুটো কেনো টিপিস টিপিস করছিলো? চোখে দেখোনা? চোখে এটা দেখো শুধু আমি ওকে পছন্দ করি না।আমি জানি আপনি ওকে ভালোবাসেন। তাই ওর কোনো কিছু তোমার চোখে পড়ে না।
শুভঃ চোখে তো অনেক কিছুই পরে। তুমি হাঁটতে পারছো আগে বলোনি কেনো?
তিশাঃ কেনো বলবো?
শুভ ঃ কেনো বলবেনা?
তিশাঃ আমার ইচ্ছা। তুমি যাও। তোমার জানুর কাছে। দেখো গিয়ে আবার রাস্তায় উল্টে পরে মারা গেলো নাকি।ড্রামাবাজ
,
ইরাঃ এটা আমার ড্রামা না শুভ
।আমার এটার জন্য দায়ি থাকবে তিশা। আমার মৃত্যুর জন্য শুধু ও দায়ি। আমি লিখিত প্রমান রেখে এসেছি।
শুভ,তিশা তাকিয়ে দেখে ইরা একটা ছুরি হাতে নিয়ে ওর হাতের ওপর ধরে আছে। আর ইরার হাত বেয়ে টপটপ করে রক্ত পরছে সবাই হন্তদন্ত করে দৌড়ে ইরার সামনে আসে, কেউ কিছু বলতে যাবে তার আগেই ইরা ঠাস করো ফ্লোরে পড়ে যায় । শুভ দৌড়ে গিয়ে ইরাকে কোলে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে বের হয়ে যায়। তিশা ধপ করে ফ্লোরে বসে পড়ে,,,,
,
রাতে তিশা দারিয়ে আছে হসপিটাল এর সামনে। ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। ও আজ দেখেছে ইরার জন্য শুভর দৌড়াদৌড়ি। ওর দিকে ভালো করে তাকায়নি একবার।
আশাঃ ভাবি , ভালোবাসার মানুষগুলো এমনই হয়। তাকে কাছে পেলেও পুরোপুরি কাছে পাওয়া যায় না। হারিয়ে যায়। তুমি মন খারাপ করো না। উপরে একজন আছে, তিনি সব দেখছেন। একটা কথা মনে রেখো সে যদি তোমার হয় তবে তোমার কাছে ফিরে আসবেই। আর সে যদি তোমার না হয় তবে হাজার চেষ্টা করেও তুমি তাকে তোমার কাছে রাখতে পারবে না। আমি জানি জোর করে কিছু পাওয়া যায় না।কিন্তু একটা কথা কি জানো?নিজের ভালোবাসা আদায় করার জন্য সব করা যায়। সব ঠিক হয়ে যাবে। চলো ভেতরে চলো।
,
তিশা কোনো কথা না বলে আশার সাথে ভেতরে যায় গিয়ে দেখে শুভ বেড এর পাশে রাখা চেয়ারে বসে আর সব থেকে বড় কথা ইরা শুভর কোলে বসে দুহাতে শুভর গলা জরীয়ে ধরে রেখে কিছু বলছে। তিশা নিজেকে কন্ট্রোল করতে টেবিলে টা মুঠো করে ধরে। হাত লেগে টেবিলের ওপর থাকা কিছু জিনিস ধপ করে নিচে পরে যায়। শুভ আর ইরা দুজনেই সামনে তাকিয়ে আশা,তিশাকে দেখে।
আশাঃ ভাই তুই কি করছিস এটা?
শুভঃ আমি,,,,,কিছু,,,,,আসলে,,,, ও,,,,,
শুভ ইরাকে তুলতে গেলে ইরা শুভকে আরও জেঁকে ধরে,,
তিশাঃ আহ্ আশু থাকনা। ওদের বিরক্ত করোনা। চলো।
আশাঃ ভাবি তুমি কিভাবে,,,,একি তোমার হাত,,,,,
তিশা কিছু না বলে আশাকে টেনে নিয়ে বের হয়ে আসে। আশা ওষুধের বক্স নিতে দৌড় দিলেই তিশা দৌড়ে হসপিটাল থেকে বের হয়ে আসে। মুষল হারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আশা বক্স এনে তিশাকে দেখতে না পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে তিশাকে খুজতে থাকে।আশা বুঝতে পারলো তিশাকে ও এখানে খুজে পাবে না। আসা ধপ করে হসপিটাল এর সামনে বৃষ্টির মধ্যেই সিঁড়ি তে বসে পরলো। মুখ তুলে দেখে শুভ
শুভঃ তিশা কই? খুজে পাচ্ছি না ওকে,,,
ইরাঃ কেনো? কি করবি তুই ওকে নিয়ে? তোদের রঙ্গলীলা দেখাবি? চলে গেছে ও। আমিও পাচ্ছি না। তুই এমন কি করে হতে পারলি? মানুষ কিন্তু দু নৌকাতে পা দিয়ে চলতে পারে না, সেদিন তোর চোখের পানি দেখে আমি ধরেই নিয়েছিলাম তুই ভাবিকে ভালোবাসিস। কিন্তুু আজ।ছিঃ
কোথায় গেলো ও। কোথায় খুজবো আমি। তুই যা তোর ইরার কাছে। তিশা মরে যাক। তোর,,,
শুভ আশার গালে ঠাস করে চড় মেরে দেয় আশা গালে হাত দিয়ে চুপ করে দারিয়ে কান্না করতে থাকে। শুভ দৌড় দেয় তিশাকে খুজতে।
,
তিশা রাস্তার মাঝখানে হাটুগেরে বসে আছে, মাথা টা নিচু করে হাটুর সাথে লাগিয়ে আছে। হুট করে শুভ এসে তিশাকে জরীয়ে ধরে।
শুভঃ এই মেয়ে এভাবে রাস্তার মাঝখানে বসে আছো কেনো? আর বৃষ্টির মধ্যে ভিজছো কেনো? জানোনা তুমি অসুস্থ। কিছু হয়ে গেলে,,,,,
,
তিশা শুভকে আঁকরে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে,তিশার কান্নার বেগ আরও বেরে যায়। তিশা মুখ ফুটে কিছু না বললেও শুভ তিশার কষ্টাটা অনুভব করে। শুভ তিশাকে বুকের সাথে শক্ত করে জরীয়ে ধরে।
,
তিশাঃ আম্মু নাস্তা কই?
শুভর মাঃ এই তো মা খেয়ে নে। ক্ষুদা লেগেছে না?
তিশাঃ না আম্মু আমার না। আসলে ইরা আপুর ওষুধ খাবার সময় হয়ে গেছে তো।
শুভর মাঃ থাপরিয়ে তোর গাল ফাটিয়ে দিবো।কি করতে চাইছিস তুই? নিজের হাতে নিজের সংসার ভাঙছিস। কাল নিজের বাড়িতে এনে তুললি ওকে। আর এখন ওকে নিয়ে আদিক্ষেতা।
ইরাঃ আমি চলে যাবো ফুপি। আমার জন্য ওকে বকা দিও না।
তিশাঃ আপু।তুমি দারিয়ে থেকো না।বসো বসো। শুভ তুমি দারিয়ে আছো কেনো? ইরা আপুর সাথে বসো,।আম্মু ওদের খেতে দাও।
শুভর মা তিশার হাত টেনে বসিয়ে দেয়।
শুভর মাঃ তুই অসুস্হ তিশু। নিজের চিন্তা কর। তোর ওষুধ খেতে হবে।
তিশাঃ একদিন ওষুধ না খেলে মরে যাবো না। তুমি ইরা আপু,,,,আশু তুমি উঠছো কেনো?
আশাঃ তোমার ন্যাকামো আর আমার সহ্য হচ্ছে না ভাবি। তুমি তোমার বর এর প্রেমিকা কে খাওয়াও।।।
,
তিশাঃ আমি খাবো আসলে,,,
শুভ তিশার দিকে চুপ করে তাকিয়ে আছে। কাল বৃষ্টির মধ্যে শুভকে ধাক্কা দিয়ে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ইরাকে এ বাসায় আনার সব ব্যবস্থা করেছে। কাল থেকে শুভর সাথে একটু ও কথা বলেনি। তিশার সব ব্যবহার নরমাল।তিশার এ ব্যবহার শুভ নিতে পারছে না। বুকের ভেতর কেউ ছুরি চালাচ্ছে।
তিশার হাতটা জোর করে ব্যান্ডেচ করে দেয়।কিন্তু তিশা সাথে সাথেই সেটা খুলে রুম থেকে বের হয়ে অন্য রুমে গিয়ে দরজা লক করে দেয়। এখন খাবার কথা শুনে শুভর মনে হয় তিশার হাত কাটা। শুভ তারাতারি খাবার তিশার মুখের সামনে তুলে ধরলে তিশা শুভর হাত টেনে নিয়ে ইরার সামনে ধরে,,,
তিশাঃ খেয়ে নাও আপু। তোমার ভালোবাসার মানুষ ভালোবেসে তোমায় নিজের হাতে খাইয়ে দিচ্ছে।


বা‌জি
লেখা: শার‌মিন আক্তার সাথী।
পর্ব:৩
••আয়াতঃ কে‌নো? আমি কি জান‌তে পা‌রি না?
তনয়াঃ অবশ্যই পা‌রেন! কিন্তু আমার ম‌নে হয়না আপনার অজানা?
আয়াতঃ কারনটা হয়‌তো জা‌নি? কিন্তু আপ‌নি কেন মে‌নে নি‌লেন সেটা জা‌নি না?
তনয়াঃ মে‌নে নিলাম ! (একটা দীর্ঘ‌ নিশ্বাস) মে‌য়েরা বাবা মা‌য়ের চো‌খের জ‌লের কা‌ছে যে বড়ই অসহায়।
আয়াতঃ মা‌নে?
তনয়াঃ আপ‌নি এত মা‌নে মা‌নে ক‌রেন কে‌নো? বললাম না কিছু কথা অজানা থাকাই ভা‌লো। আচ্ছা আপ‌নি কেন হুট ক‌রে আমা‌কে বি‌য়ে কর‌তে রা‌জি হ‌লেন?
আয়াতঃ আপনার কা‌ছে য‌দি কিছু কথা অজানা রাখ‌তে ভা‌লো লা‌গে তাহ‌লে আমার কা‌ছেও কিছু কথা অজানা রাখ‌তে বেশ ভা‌লো লা‌গে।
তনয়াঃ ওহ আমার কথা আমা‌কেই ফি‌রি‌য়ে দি‌লেন।
আয়াতঃ হয়‌তো বা? আচ্ছা তনয়া তু‌মি কি স‌ত্যিই সিয়াম‌কে ভা‌লোবাস‌তে?
তনয়াঃ কে‌নো?
আয়াতঃ না মা‌নে অনেক দিন ধ‌রে তোমা‌কে চি‌নি জা‌নি। কিন্তু কখ‌নো তোমার কোন কথায় কা‌জে ম‌নে হয়‌নি তু‌মি সিয়াম‌কে ভা‌লোবা‌সো ? সবসময়ই ম‌নে হ‌য়েছে তু‌মি হয়‌তো ওকে বন্ধু ভা‌বো নয়‌তো পছন্দ ক‌রো। তাই ম‌নে হ‌লো তোমার ম‌নে কি সিয়াম‌কে নি‌য়ে কোন ফি‌লিংস তৈরী হ‌য়ে‌ছি‌লো? না‌কি হয়‌নি? না‌কি এখ‌নো সেটা আছে?
তনয়াঃ (কিছুক্ষন ভে‌বে) আমি সিয়াম‌কে খুব পছন্দ করতাম। তা‌কে আমার ভিষন ভা‌লো লাগ‌তো। তার চলা‌ফেরা কথা বলার ধরন এসব জি‌নিস আমার খুব বে‌শি ভা‌লো লাগ‌তো। কিন্তু ভা‌লো লাগাটা কখ‌নো ভা‌লোবাসায় রূপান্তরীত হয়েছি‌লো কিনা? সেটা আমি আজও বুঝ‌তে পা‌রি‌নি? কিন্তু তবুও কেমন যে‌নো লাগ‌ছে? খুব অসহ্য একটা অনুভু‌তি হ‌চ্ছে।
আয়াতঃ হুমম বুঝলাম। সময় নেও ভা‌বো। সব ঠিক হ‌য়ে যা‌বে। হয়‌তো জে‌নে যা‌বে তোমার মন কি চায়?
তনয়াঃ হয়‌তোবা? কে জা‌নে? আমি কি জানতাম আপনার সা‌থে আমার বি‌য়ে হ‌বে? তবুও হ‌লোতো ? জন্ম, মৃত্যু, বি‌য়ে তিনটা জি‌নিস না‌কি উপরওয়ালার সৃ‌ষ্টি। সেখা‌নে মানু‌ষের ম‌র্জি চ‌লে না। জা‌নি না তি‌নি আমা‌দের নি‌য়ে কি কর‌তে চাই‌ছে? হয়‌তো প্রকৃ‌তি নতুন কোন গল্প রচনা কর‌তে চাই‌ছে। আর সে গ‌ল্পে আমা‌দের তিন জন‌কে বেঁছে নি‌য়ে‌ছে। আমরা তো প্রকৃ‌তির সা‌থে পে‌রে উঠ‌বো না। সেটা সম্ভব না। তাই প্রকৃ‌তির বানা‌নো নিয়মটাই আমা‌দের মে‌নে চল‌তে হ‌বে! আচ্ছা আপ‌নি আমার একটা প্র‌শ্নের উত্তর দিন?
আয়াতঃ হুমম ব‌লো?
তনয়াঃ অনেক দিন আগে আপ‌নি আমায় এক‌দিন কথায় কথায় ব‌লে‌ছি‌লেন আপ‌নি একটা মে‌য়ে‌কে খুব ভা‌লোবা‌সেন এবং বি‌য়ে কর‌লে তাকেই কর‌বেন!
আয়াতঃ হুমমম তো?
তনয়াঃ তাহ‌লে তা‌কে ছে‌ড়ে আমা‌কে বি‌য়ে করার মা‌নে কি? আর বি‌য়ে কর‌লেন তো কর‌লেন প্রথম রা‌তেই ভা‌লোবা‌সি কথাটা বলে দি‌লেন? একবারও কি সেই মে‌য়েটার কথা ম‌নে হয়‌নি?
আয়াত কিছুক্ষন নীরব ব‌সে রই‌লো। তারপর বল‌লো?
আয়াতঃ দে‌খো তনয়া তোমা‌কে আগেই ব‌লেছি। ঘু‌রি‌য়ে পে‌চি‌য়ে কথা বলা আমার অভ্যাস না। আমি সব কথা সবসময় সোজাসু‌জি ব‌লি। কারন ছোট বেলা থে‌কে আমি যে প‌রি‌বে‌শে বড় হ‌য়ে‌ছি সেখা‌নে বাংলা‌দে‌শীদের মত এত কথা প্যাচায় না।
হ্যাঁ আমি একজন‌কে ভা‌লোবাসতাম! নাহ ঠিক বাসতাম বল‌লে ভুল হ‌বে এখ‌নো বা‌সি আর ভ‌বিষ্য‌তেও বাস‌বো।
তনয়াঃ তাহ‌লে আমা‌কে ভা‌লোবা‌সি কথাটা বল‌লেন কেন?
আয়াতঃ কারন আমি তোমা‌কে ভা‌লোবা‌সি!
তনয়াঃ আপনার কথার আগা মাথা আমি কিছু বুঝ‌তে পার‌ছি না? ক্লি‌য়ার ক‌রে ব‌লেন?
আয়াতঃ তনয়া তু‌মি কি এখ‌নো বুঝ‌তে পা‌রো‌নি আমি কা‌কে ভা‌লোবা‌সি?
তনয়াঃ কিছুক্ষন চুপ থে‌কে মা‌নে? আপনি?
আয়াতঃ হ্যাঁ তনয়া আমি সবসময় শুধু তোমা‌কেই ভা‌লোবে‌সে‌ছি। হয়‌তো কখ‌নো বলা হয়‌নি। আর যখন বল‌তে চে‌য়ে‌ছিলাম তখন অনেক দে‌রি হয়ে গে‌ছি‌লো। কিন্তু কথায় আছে না আল্লাহ চাই‌লে কি না হয়? তাই হয়‌তো তোমা‌কে পে‌য়ে গেলাম।
দুজ‌নেই নীরব । কারন কথা বলার মত কোন কারন খুঁজে পা‌চ্ছে না। তনয়া ভাব‌ছে আয়াতকে এত দিন ধ‌রে চি‌নি অথচ তার ম‌নের কথাটা কখ‌নো টের পেলাম না। আর আয়াত ভাব‌ছে কি ক‌রে টের পা‌বে তোমার ম‌নের উপর যে সিয়া‌মের কথার জাদু বিছা‌নো ছি‌লো।
দূরের মসজিদ থে‌কে আযা‌নের ধ্ব‌নি ভে‌সে আস‌ছে। মোয়া‌জ্জে‌নের মধুর ক‌ন্ঠে ভে‌সে আস‌ছে আযা‌নের সুর।
তনয়াঃ মাই গড। সকাল হ‌য়ে গে‌ছে? আর আজ রাতটা কখন পে‌রি‌য়ে গে‌লো তা তো টেরই পেলাম না। আয়াত স‌ত্যিই আপনার সা‌থে গল্প করে তো ভিষন মজা? তনয় (তনয়ার ছোট ভাই) ঠিক বল‌ছি‌লো।
আয়াতঃ আচ্ছা! চ‌লো নামাজ পড়‌বে। আমিও নামাজ প‌ড়ে আসি।
তনয়াঃ ঠিক আছে।
তনয়া ওযু ক‌রে নামাজ প‌ড়ে নি‌লো। তারপর রু‌মের বাইরে বে‌রি‌য়ে রান্না ঘ‌রের দি‌কে যা‌চ্ছে। এ বা‌ড়ি‌তে তনয়া আগেও ক‌য়েক বার এসে‌ছি‌লো। কিন্তু তখন বা‌ড়িটা এত সুন্দর ক‌রে সাজা‌নো ছি‌লো না। বা‌ড়ির সব রুম মোটামু‌টি চে‌নে। কিন্তু কাল রা‌তে একা বের হ‌তে সং‌কোচ বোধ কর‌ছি‌লো তাই আয়াত‌কে ব‌লে‌ছি‌লো রান্না ঘর দে‌খি‌য়ে দি‌তে চা কর‌বে।
রান্না ঘ‌রে ঢুকে তনয়া চা বানা‌লো। সু‌জি আর বাদা‌মের হালুয়া বানা‌তে নি‌বে তখন শ্বাশু‌ড়ির রুম থে‌কে কোরআনের মধুর ধ্ব‌নি সুর ভে‌সে আস‌ছে। তনয়া চুলাটা নি‌ভি‌য়ে চা‌য়ের ট্রে নি‌য়ে শ্বাশু‌ড়ির রু‌মে গে‌লো। শ্বশুর ব‌সে ব‌সে কোরআন তেলাওয়াত শুন‌ছে। তনয়া রু‌মে ডু‌কে চা‌য়ের ট্রে রে‌খে শ্বাশু‌ড়ির কা‌ছে গি‌য়ে ব‌সলো। কিছুক্ষন পর তি‌নি তনয়া‌কে দে‌খে আয়াত শেষ ক‌রে কোরআন বন্ধ ক‌রে বল‌লেন-----
আয়া‌তের মাঃ কি রে এত জল‌দি ঘুম ভাঙ‌লো?
তনয়াঃ রা‌গি চো‌খে তা‌কি‌য়ে ফু‌পি তু‌মি জা‌নো না আমি ফজ‌রের নামাজ প‌ড়ে ঘুমাই না।
আয়া‌তের মাঃ ভুল হ‌য়ে গে‌ছে মা জননী। এবার ব‌লো কি কাজ?
তনয়াঃ কি কাজ মা‌নে? তোমার ছে‌লের রু‌মে একটা কোরআন শরীফ নাই। সকাল বেলা একটু তেলাওয়াত কর‌বো তাও পারলাম না। কেন তোমার ছে‌লে কি কোরআন তেলাওয়াত ক‌রে না?
আয়া‌তের মাঃ ক‌রে ত‌বে রোজ না। তুই বরং আমারটা নি‌য়ে নিস।
তনয়াঃ ঠিক আছে। এখন চা খা‌বে চলো।
আয়া‌তের মাঃ চা ক‌রে‌ছিস?
তনয়াঃ হুমমম। হালুয়া কর‌তে নি‌য়ে ছিলাম কিন্তু তোমার তেলাওয়‌াতের মধুর সুর শু‌নে থাক‌তে পারলাম না।
আয়া‌তের বাবা হালুয়ার কথা শু‌নে বল‌ল,
আয়া‌তের বাবাঃ হালুয়া! তনয়া আমায় একটু দি‌বি মা? তোর ফু‌পি আমা‌কে দেয় না।
আয়া‌তের মাঃ কি বললা তু‌মি? একটুও পাবে না। নি‌জের শরীরের খেয়াল আছে। আর তনয়া এখন থে‌কে ফুপা ফু‌পি ডাকা বন্ধ বাবা মা ব‌লে ডাক‌বি।
তনয়াঃ ঠিক আছে! হ‌বে বড় মা আর বড় আব্বু ব‌লে ডাক‌বো।
আয়া‌তের মাঃ ঠিক আছে। এবার চল রান্না ঘ‌রে।
তনয়া আয়া‌তের বাবার কা‌ছে এসে বল‌ল
তনয়াঃ বড় আব্বু চিন্তা কর‌বেন না। হালুয়া রান্না করা হ‌য়ে গে‌লে সবার আগে আপ‌নি পাবেন। আমি চ‌ু‌পি চু‌পি দিয়ে যা‌বো।
আয়া‌তের বাবাঃ ল‌ক্ষি মা আমার।
তনয়া আর ওর শ্বাশুড়ি আর আয়া‌তের বড় বোন তিন জন মি‌লে অনেক রকম নাস্তা তৈরী কর‌লো। ‌কিন্তু আয়াত এখ‌নো আস‌ছে না।
তনয়াঃ আন্নি আপু তোমার ভাই কোথায়?
আ‌ন্নিঃ সে কি‌রে? এক রা‌তেই এত ভা‌লোবাসা?
তনয়াঃ হ‌ুমমম। তোমার গো‌বেট মার্কা গামবাট হনুমান ভাইটা‌কে ভা‌লোবাস‌তে আমার ব‌য়েই গে‌ছে। আমি তো এম‌নিই জি‌জ্ঞেস কর‌ছিলাম।
আন্নিঃ তাহ‌লে চল গামবাটটাকে দে‌খি‌য়ে দি?
আ‌ন্নি তনয়ার হাত ধ‌রে বা‌ড়ির বাই‌রে নি‌য়ে গেলো। সেখা‌নে বিশাল বাগান করা। বাগা‌নের একটা অং‌শে তা‌কি‌য়ে তনয়ার চোখ ধা‌ঁধি‌য়ে গে‌লো। চার রক‌মের অর্কিড ফুল গাছ। সাধা, গোলা‌পি ,হলুদ, আর বেগু‌নি রং এর অর্কিড। অনেকটা অং‌শে অর্কিড গাছ গু‌লো লাগা‌নো। আয়াত সেগু‌লোর যত্ন নি‌চ্ছে। আয়া‌তের ফু‌লের প্র‌তি এমন আকর্ষন দে‌খে তনয়ার ভিষন ভা‌লো লাগ‌লো। তনয়া ফুল গু‌লোর কা‌ছে গি‌য়ে হাত দি‌য়ে ছু‌য়ে নি‌চ্ছে। ক‌য়েকটা ফুল‌কে ঠোঁট দি‌য়ে চু‌মো দি‌চ্ছে। আর আয়াত মুগ্ধ নয়‌নে দেখ‌ছে তনয়া‌কে। ফু‌লের সৌন্দ‌র্য্যের সা‌থে একদম মি‌শে গে‌ছে ও।
তনয়াঃ আচ্ছা আয়াত শেষ বার যখন আপনা‌দের বা‌ড়ি এসে‌ছিলাম তখন‌তো আপনা‌দের বাগা‌নে অার্কিড ছি‌লো না।
আয়াতঃ মি‌সেস তনয়া! আপ‌নি শেষ বার ক‌বে আমা‌দের বা‌ড়ি এসে‌ছি‌লেন?
তনয়াঃ প্রায় চার মা‌সের বে‌শি সময় আগে!
আয়াতঃ আপ‌নি কি জা‌নেন অর্কিড কত দি‌নের মাথায় ফুল দেয়?
তনয়াঃ হুমম ৭৫ - ৯০ দি‌নের মাথায়।
আয়াতঃ বাহ। ম্যাডাম আপ‌নি যখন এসে‌ছি‌লেন তখন গাছ রোপ‌নের জন্য মা‌টি তৈরীর কাজ প্রায় শেষ হ‌য়ে গে‌ছি‌লো। তারপর গাছ লাগালাম। আর এখন ফু‌লে ফু‌লে ভরা।
তনয়াঃ গুড। এবার নাস্তা খে‌তে আসেন আয়াত ভাইয়া।
আয়াতঃ কি? আবার? প্লিজ তনয়া নট এগেইন?
তনয়াঃ আই উইল ট্রাই।
সবাই নাস্তা ক‌রে কা‌জে লে‌গে পড়লো। কারন কাল আয়াত‌দের বৌ-ভাত। যে‌হেতু বি‌য়ে‌তে লোকজন তেমন আস‌তে পা‌রে‌নি। তাই বৌ-ভা‌তে অনেক লো‌কের আয়োজন করা হ‌য়ে‌ছে। বা‌ড়ি ঘর সুন্দর ক‌রে সাজা‌নো হ‌চ্ছে। অনেক লোকজন এসে তনয়া‌কে দেখ‌ছে কথা বল‌ছে। তনয়ার ভিষন অস‌স্তি লাগ‌ছে। এত গু‌লো মানু‌ষের ভিতর পুতু‌লের মত নিশ্চুপ হ‌য়ে ব‌সে থাক‌তে। সন্ধ্যার অনেক পর বা‌ড়ির লোকজন অনে‌কে চ‌লে গে‌লো। কিছু কা‌ছের নিকট আত্মীয় থে‌কে গে‌লো। রা‌তের খাবার খে‌য়ে তনয়া শু‌তে গে‌লো। ভিষন ক্লান্ত হ‌য়ে প‌রে‌ছে। তার ওপর কাল সারা রাত একটুও ঘুমায়‌নি। তনয়া রু‌মে গি‌য়ে শু‌য়ে পর‌লো। আয়াত এসে বিছানার অপর পা‌শে শুয়ে পর‌লো। তনয়া বিছানা থে‌কে লাফ দি‌য়ে নে‌মে বল‌লো------
তনয়াঃ আপ‌নিও কি এই বিছানায় শো‌বেন বা‌কি?
আয়াতঃ তাহ‌লে কোথায় শোব?
তনয়াঃ তার আমি কি জা‌নি? এ বা‌ড়ি‌তে রু‌মের অভাব নাই । যান সেখা‌নে যান।
আয়াতঃ তনয়া প্রথমত এটা কোন মু‌ভি না। যে তু‌মি খা‌টে আমি সোফায় বা অন্য রু‌মে ঘুমা‌বো। দ্বিতীয়ত বা‌ড়ি‌তে অনেক আত্মীয় স্বজন আছে। তারা দেখ‌লে কি বল‌বে?
তনয়াঃ আমি আপনার সা‌থে ঘুমা‌বো না!
আয়াতঃ দে‌খো তনয়া। বি‌য়েটা যখন হ‌য়ে‌ছে তখন আমা‌দেরও উচিৎ সম্পর্কটা‌কে গোছা‌তে সাহায্য করা। হয়‌তো সময় লাগ‌বে । ঠিক আছে নাও। তোমার যত খু‌শি ততসময় নাও। কিন্তু তনয়া এক বিছানায় ঘুমা‌লেই যে তা‌দের ভিতর কিছু হ‌বে তা কিন্তু ভুল। দে‌খো বৈবা‌হিক জীবনটা বিশ্বাস থে‌কে চ‌লে। আর সম্প‌র্কে বিশ্বাস না থাক‌লে সে সম্প‌র্কের কোন মা‌নেই হয়। আমার ওপর বিশ্বাস রাখ‌তে পা‌রো। আমি ভু‌লেও তোমার বিশ্বাস ভাঙ‌বো না। যত‌ দিননা তু‌মি আমায় মন থে‌কে মান‌তে পার‌ছো তত‌দিন তোমার সা‌থে উল্টা পাল্টা কিছু করার চেষ্টা কর‌বো না।
দে‌খো তনয়া বিবা‌হিত জীবন মা‌নেই শা‌রীরিক ‌মিলন না? সব থে‌কে বে‌শি জরু‌রি হ‌চ্ছে ম‌নের মিল। দে‌খো ম‌নের মিল থাক‌লে অন্য কিছু নি‌য়ে কোন কিন্তু থা‌কে না। তাই চুপচাপ বিছানায় শু‌য়ে প‌ড়ো। আমি মাঝখা‌নে কোলবা‌লিশ রে‌খে দিচ্ছি।
তনয়া আর কিছু বল‌লো না। চুপচাপ গু‌টিসু‌টি মে‌রে বিছানায় শু‌য়ে পড়লো। কিন্তু আয়াত আসন্ন বিপ‌দের থে‌কে অজ্ঞাত। কেন?
‌ম‌ধ্যে রা‌তে ও মা গো ব‌লে আয়াত চিৎকার দি‌য়ে উঠ‌লো। আয়াত খাট থে‌কে প‌রে গে‌লো। আয়া‌তের চিৎকা‌রে তনয়ার ঘুম ভে‌ঙে গে‌লো। তনয়া ধরপ‌রি‌য়ে উঠে বস‌লো। তারপর বল‌ল,
তনয়াঃ কি হ‌য়ে‌ছে আয়াত? চিৎকার দি‌চ্ছেন কেন?
আয়াতঃ এ্যাঁ । তনয়া আমি জা‌নি তু‌মি আমা‌কে পছন্দ ক‌রো না। কিন্তু তাই ব‌লে এভা‌বে ফুটব‌লের মত লা‌থি মার‌বে?
তনয়াঃ এ্যাঁ। আমি আপনা‌কে কখন লা‌থি মারলাম? আজব?
আয়াতঃ আজবই তো! রা‌তে ‌বেলায় মে‌য়েরা ঘু‌মের মা‌ঝে ফুটবল খে‌লে। আজব মে‌য়ে।
তনয়ার এবার ম‌নে প‌ড়ে‌ছে যে ও ঘু‌মের অবস্থায় মা‌ঝে মা‌ঝে লা‌থি মা‌রে। ওর মা বা নীশা ব‌লেছি‌লো। এবার তনয়া ঠিক হাস‌বে না কাঁদ‌বে ভে‌বে পা‌চ্ছে না। কারন আয়া‌তের এমন অবস্থা দেখ‌লে যে কেউ না হে‌সে পার‌বে না। তবুও হা‌সি চে‌পে। আয়াত‌কে ধ‌রে বিছানায় ব‌সি‌য়ে বল‌লো
তনয়াঃ সরি আয়াত! বে‌শি লে‌গে‌ছে?
আয়াতঃ নাহ তেমন না। তু‌মি হাত ধর‌ছো না ঠিক হ‌য়ে গে‌ছে। তনয়া এবার হে‌সে দি‌লো।
তনয়াঃ আয়াত আপ‌নি জা‌নেন আপ‌নি এত্তগুলা ভা‌লো। উমমমমম্মমমমাহ।
চু‌মোটা দি‌য়ে তনয়া নিজেও বোকা হ‌য়ে গে‌লো। লজ্জায় লাল হ‌য়ে উঠ‌লো। আয়াতও হা হ‌য়ে গে‌লো। তনয়া কিছু বুঝ‌তে না পে‌রে চুপচাপ বিছানার অপর পা‌শে ঘু‌রে শু‌য়ে পর‌লো। আয়া‌তের যে‌নো ঘোর লে‌গে গে‌লো। এখ‌নো গা‌লে হাত দি‌য়ে আছে। সকাল বেলা আয়া‌তের ঘুম ভে‌ঙে দে‌খে তনয়া আয়াত‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধ‌রে ঘু‌মিয়ে আছে। আয়াত তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে ভাব‌ছে, কি নিঃষ্পাপ মায়া‌বি মুখ? সারা জীবন দেখ‌লেও সাধ মে‌টে না। আই লাভ ইউ মাই সুইট লি‌টেল এ্যান‌জেল। তনয়া একটু ন‌ড়ে চ‌ড়ে উঠ‌লো। আয়াত তারাতা‌রি ঘু‌মের ভান ধ‌রে রই‌লো।
তনয়া ঘুম ভাঙ‌তেই নি‌জে‌কে আয়া‌তের বু‌কে আবিষ্কার ক‌রে ভিষন লজ্জা পে‌লো। ধী‌রে ধী‌রে আয়া‌তের থে‌কে দূ‌রে গি‌য়ে উঠে ভাব‌ছে ইস কি রকম কি হ‌লো? ভা‌গ্যিস আয়াতটা ঘু‌মে আছে। দেখ‌লে ভিষন লজ্জা পেতাম।
নাস্তা করার পর তনয়া কা‌ছে একটা ফোন আস‌লো। ফোনটা পে‌য়ে তনয়া রু‌মের এক কোনায় ব‌সে ভিষন কাঁদ‌ছে । আয়াত সেটা দে‌খে বার বার জান‌তে চাই‌ছে কি হ‌য়ে‌ছে?
তনয়াঃ আয়াত আমি কি কোন পন্য? যে আপ‌নি আর সিয়াম আমা‌কে নি‌য়ে বা‌জি ধর‌লেন?
তনয়ার মুখে বা‌জি কথাটা শু‌নে আয়া‌তের মুখটা শু‌কি‌য়ে গে‌লো।
তনয়াঃ কি এমন দোষ ক‌রে‌ছিলাম আমি? কি এমন চে‌য়ে‌ছিলাম আমি? যে আপনারা আমার জীবনটা‌কে এমন ক‌রে দি‌লেন? আমি‌তো সাধারন একটা জীবন চে‌য়ে‌ছিলাম। কিন্তু আপনারা তো আমার জীবনটা‌কে থ্রীল ক‌রে দি‌লেন। কেন আমার জীবনটা নি‌য়ে জুয়া খেল‌লেন? আচ্ছা কি বিষয় নি‌য়ে বা‌জি ধ‌রে‌ছি‌লেন? যার ফল আমায় ভোগ কর‌তে হ‌চ্ছে?

লেখা: শার‌মিন আক্তার সাথী।
পর্ব:২,
••••••••আয়াতঃ আই লাভ ইউ।
তনয়া হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো আয়া‌তের কথায়। কারন যে প‌রি‌স্তি‌তি‌তে বি‌য়ে হ‌য়ে‌ছে তা‌তে আয়া‌তের মুখ থে‌কে এমন কথা শোনার জন্য তনয়া প্রস্তুত ছি‌লো না। তনয়া কিছুটা ন‌ড়েচ‌ড়ে ব‌সে বল‌লো
তনয়াঃ কি বল‌লেন?
আয়াতঃ কে‌নো শুন‌তে পাও‌নি? ব‌লে‌ছি আই------- লাভ------- ইউ-------। শু‌নে‌ছো এবার?
তনয়া হা হ‌য়ে আয়া‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। কি বল‌বে ঠিক ভে‌বে পা‌চ্ছে না? আয়াত বিষয়টা বুঝ‌তে পে‌রে বল‌লো----
আয়াতঃ জা‌নি তোমার খ‌ুব বিরক্ত লাগছে। কারন যে প‌রি‌স্থি‌তি‌তে আমা‌দের বি‌য়ে হ‌য়েছে তা‌তে আমার মুখ থে‌কে এমন কথা শোনার আশা তুমি ক‌রো নি। দে‌খো তনয়া তোমা‌কে আমি ভা‌লোবা‌সি কিন্তু এটা জরু‌রি না যে তু‌মিও আমায় ভা‌লোবাস‌বে? ভা‌লোবাসা ভা‌লোলাগাটা যার যার সম্পূর্ন ব্য‌ক্তিগত বিষয়। আমি জা‌নি তু‌মি আমায় ভা‌লোবা‌সো না। কিন্তু তুমি আমায় তোমা‌কে ভা‌লোবাসা থে‌কে আটকা‌তে পার‌বে না। ঐ যে বললাম ভা‌লোবাসা যার যার ব্য‌ক্তি গত বিষয়।
তনয়া তখ‌নো চোখ বড় বড় ক‌রে আয়া‌তের দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। আয়াত আবার বল‌তে শুরু কর‌লো।আমি জা‌নি আমার এ সোজা সাপ্টা কথা তোমার কা‌ছে তেমন ভা‌লো লাগ‌ছে না। আস‌লে আমি ততটা গু‌ছি‌য়ে কথা বল‌তে পা‌রি না। বা ভা‌লোবাসার প্রকাশ ঠিক কি ভা‌বে ক‌রে তাও জা‌নি না। আমি সবসময় যেটা ক‌রি সেটা পা‌রি যেমন ধ‌রো মানুষ‌কে দে‌খে তার রোগ ব‌লে দেয়া, চি‌কিৎসা দেয়া, মা‌ঝে মা‌ঝে শরী‌রের বি‌ভিন্ন অংশ কাটা ছেড়া করা যা‌কে তোমরা সাধারনত অপা‌রেশন ব‌লো। তু‌মি‌তো জা‌নোই আমি ডাক্তার। আর আমার নিত্য দি‌নের সঙ্গী বল‌তে সাদা এপ্রোন আর বি‌ভিন্ন ধর‌নের চিকিৎসার উপকরন। তাই এগু‌লো নি‌য়েই সবসময় থে‌কে‌ছি। কখ‌নো কাউ‌কে ভা‌লোবাসার সাহস বা সময় পায়‌নি। কিন্তু কেন যে‌নো তোমায় না চাই‌তেও ভা‌লো‌বে‌সে ফেললাম। মনের উপর কে‌নো যে‌নো কোন জোড় চালা‌তে পা‌রি‌নি? মে‌ডি‌কেল সাইন্সে এটার কোন ব্যাখ্যা নাই।
এক সা‌থে অনেক গু‌লো কথা আয়াত ব‌লে ফেল‌লো। তনয়া নীরব শ্রোতার মত তা শুন‌লো। কিছু বল‌লো না।
তনয়ার নীরবতা দে‌খে আয়াত বলল, কি হ‌লো চুপ ক‌রে আছো যে কিছু ব‌লো?
তনয়াঃ (একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছে‌ড়ে) আয়াত!
আয়াতঃ হুমমম
তনয়াঃ সিয়াম কোথায় আয়াত?
কথাটা শু‌নে আয়াত অনেকটা চম‌কে উঠ‌লো। ঠিক কি উত্তর দি‌বে ভে‌বে পা‌চ্ছে না? তাই চ‌ুপ ক‌রে তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে।
তনয়াঃ কি হ‌লো আয়াত বলুন? সিয়াম কোথায়? ও কেন এমন কর‌লো? কি সমস্যা ছি‌লো ওর?
আয়াত কিছুক্ষন চুপ ক‌রে ব‌সে থে‌কে তনয়ার প্র‌শ্নের কোন উত্তর না দিয়ে রু‌মের পা‌শের বারান্দায় চ‌লে গে‌লো। সেখা‌নে গি‌য়ে ফো‌নে কার সা‌থে যে‌নো কথা বল‌লো। তারপর রু‌মে এসে ফোনটা তনয়ার দি‌কে এগি‌য়ে বল‌লো
আয়াতঃ নাও কথা ব‌লো?
তনয়াঃ কে?
আয়াতঃ সিয়াম!
তনয়া কাঁপা কাঁপা হা‌তে ফোনটা ধরে কা‌নের কা‌ছে নি‌লো। তারপর কাঁপা গলায় বল‌লো
তনয়াঃ হ্যা হ্যা হ্যা‌লো! সিয়াম
‌সিয়ামঃ চুপ---------
তনয়াঃ সিয়াম প্লিজ কিছু বলুন? প্লিজ সিয়াম
‌সিয়ামঃ আই এ্যাম সরি তনয়া!
তনয়াঃ সরি! হুমমম! কত সহ‌জে সরি ব‌লে দি‌লেন? আপ‌নি জা‌নেন দুপুর থে‌কে আমার সা‌থে ঠিক কি কি হ‌য়ে‌ছে?
‌সিয়ামঃ আমি জা‌নি তনয়া! তার জন্য ক্ষমা চাইবার মতও মুখ আমার নাই। তবুও বল‌বো য‌দি পা‌রো ক্ষমা ক‌রে দি‌য়ো। আর হ্যাঁ আয়াত খুব ভা‌লো ছে‌লে। ওর সা‌থে মা‌নি‌য়ে নেয়ার চেষ্টা ক‌রো।
তনয়াঃ আমি আপনার কাছ থে‌কে আয়া‌তের ক্যা‌রেকটার সা‌র্টি‌ফি‌কেট চাই‌নি? আমি শুধু জান‌তে চাই আপ‌নি কেন এমনটা ক‌রে‌ছেন? বলুন?
‌সিয়ামঃ সরি তনয়া। আমি এখন সেটা তোমা‌কে বল‌তে পার‌বো না ত‌বে একদিন বল‌বো? যখন সময় হ‌বে তখন বল‌বো?
তনয়াঃ তাহ‌লে যখন সে সময় আস‌বে তখনই আমার সা‌থে কথা বল‌বেন। এর আগে আমায় ফোন করা‌বো আমার চো‌খের সাম‌নে আসারও চেষ্টা কর‌বেন না। বুঝ‌লেন? এটা ব‌লে রাগ ক‌রে তনয়া ফোনটা কে‌টে দি‌লো।
আয়াতঃ এভা‌বে রাগ ক‌রে কথা না বল‌লেও পার‌তে?
তনয়াঃ আমি কার সা‌থে কিভা‌বে কথা বলবো সেটা কি এখন আপ‌নি শি‌খি‌য়ে দি‌বেন? মহান হ‌তে এসে‌ছেন আমার কা‌ছে? আপ‌নি কি মহান হওয়ার জন্য মুভির ‌হি‌রোর মত নি‌জের বউ‌কে তার পু‌রো‌নো প্রে‌মি‌কের কা‌ছে দি‌য়ে দি‌বেন?
আয়াতঃ (মুচ‌কি হে‌সে) কখ‌নো না। প্রথমত আমি কোন মু‌ভির হিরো নই। আর দ্বিতীয়ত আমার মহান হবার কোন ইচ্ছা নাই। আর সবচে‌য়ে বড় কথা তোমায় কবুল ব‌লে বি‌য়ে ক‌রে‌ছি মা‌নে তো‌কে ইহকাল পরকা‌লের জন্য আমার নি‌জের ক‌রে নি‌য়েছি। আর এই দু কা‌লের এক কা‌লেও আমি তোমা‌কে আমার কাছ থে‌কে দূ‌রে কর‌বো না। তোমা‌কে ঐ উপরওয়ালা আমার ক‌রে লি‌খে দি‌য়ে‌ছে। তার কথা আমি অমান্য ক‌রি কী ক‌রে! তাহ‌লে তো উপর ওয়ালার ম‌র্জির খেলাপ কাজ করা হয়ে যা‌বে! আর আমি তা কখ‌নো কর‌বো না। আর না তোমা‌কে কর‌তে দি‌বো।
মা‌নে তু‌মি আমার কাছ থে‌কে যত দূ‌রেই যে‌তে চাই‌বে আমি তোমা‌কে তত আমার নি‌জের কা‌ছে টে‌নে নি‌বো। বিশ্বাস, ভা‌লোবাসার, মায়ার, আর বন্ধু‌ত্বের এক অটুট বন্ধ‌নের অদৃশ্য এক সুতা দি‌য়ে তোমায় বে‌ধেঁ রাখ‌বো ম‌নের মাঝা‌রে। যেখান থে‌কে শত চেষ্টা ক‌রেও তু‌মি পালা‌তে পার‌বে না। আমি তোমায় পালা‌তে দি‌বো না।
কারন আজ থে‌কে তু‌মি আমার ম‌নের কারাগা‌রে বন্দিনী।
তনয়াঃ (মুচ‌কি হে‌সে) আচ্ছা! এত আত্মবিশ্বাস? কথায় আছে ওভার কন‌ফি‌ডেন্ট অতি মাত্রায় হা‌নিকারক।
আয়াতঃ (মুচ‌কি হে‌সে) আত্মবিশ্বাস না আল্লাহর উপর ভরসা। আমি জা‌নি তি‌নি আমার সা‌থে উল্টা পাল্টা কিছু কর‌বে না। আর কন‌ফি‌ডেন্ট না লক্ষ্য । তোমার ভা‌লোবাসা অর্জন করা আমার লক্ষ্য। আর আমি জীব‌নে যেটা‌কে নি‌জের লক্ষ্য হিসা‌বে টা‌র্গেট ক‌রে‌ছি সেটা‌কে পূরন ক‌রে ছে‌ড়ে‌ছি।
তনয়াঃ আচ্ছা! য‌দি না পা‌ড়েন?
আয়াতঃ তু‌মি যা চাই‌বে তাই হ‌বে। তু‌মি আমায় যা কর‌তে বল‌বে তাই কর‌বো।
তনয়াঃ #বা‌জি
#বা‌জি কথাটা শু‌নে আয়া‌তের মুখটা শু‌কি‌য়ে গে‌লো। আনম‌নে ভাব‌ছে আবারো বাজি ? এক বা‌জি‌তে যে কান্ড হ‌লো তারপর আবার ? এবার কি হ‌বে কে জা‌নে? সব আল্লাহর হা‌তে!
তনয়াঃ (আয়াতের চো‌খের সাম‌নে তু‌রি মে‌রে) হ্যালো আয়াত ভাইয়া কোথায় হা‌রি‌য়ে গে‌লেন? না‌কি বা‌জি ধর‌তে ভয় পা‌চ্ছেন?
আয়াতঃ এই তু‌মি কি বললা?
তনয়াঃ বা‌জি ধর‌তে ভয় পা‌চ্ছেন?
আয়াতঃ না না! তার আগে?
তনয়াঃ কোথায় হা‌রি‌য়ে গে‌লেন?
আয়াতঃ না না। এই তু‌মি আমায় ভাইয়া বললা কেন? আমি তোমার কোন জ‌ন্মের ভাই লা‌গি? দূর দূর পর্যন্ত তোমার আমার ম‌ধ্যে ভাই বো‌নের কোন সম্পর্ক নাই। তাহ‌লে ভাইয়া কেন বললা?
তনয়াঃ কেন আয়াত ভাইয়া? কি সমস্যা আয়াত ভাইয়া? আপনাকে ভাইয়া ডাক‌বো না‌তো কি আঙ্কেল ডাক‌বো? (দুষ্ট‌মি ক‌রে)
আয়াতঃ হোয়াট? আঙ্কেল? আর ইউ ক্রে‌জি তনয়া? নি‌জের বর‌কে কেউ ভাইয়া বা আঙ্কেল ডাকে?
তনয়াঃ তাহ‌লে কি ডা‌কে? মামা , কাকা, দাদা , না‌কি নানা?
আয়াতঃ তোমার পা‌য়ে প‌ড়ি। তু‌মি আমায় নাম ধ‌রে ডা‌কো তুই তুকা‌রি ক‌রে ডা‌কো তবুও এগু‌লো ডে‌কো না। নাহ‌লে আমার হার্ট এ্যাটাক ক‌রে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হ‌তে হ‌বে। তারপর মানুষ এটা ওটা বলাব‌লি কর‌বে। বি‌য়ের রা‌তে ডাঃ আয়াত হ্যার্ট এ্যাটাক ক‌রে‌ছে। কি লজ্জা ? কি লজ্জা? এ থে‌কে তো ম‌রে যাওয়া ভা‌লো।
তনয়াঃ বা‌জে কথা বাদ দি‌য়ে আগে বল‌ুন বা‌জি ধর‌বেন কিনা?
আয়াতঃ ওকে ডান! বা‌জি
তনয়াঃ সময়?
আয়াতঃ মা‌নে ?
তনয়াঃ মা‌নে বা‌জি পূরন কর‌তে আপ‌নি কত সময় নি‌বেন?
আয়াতঃ বে‌শি নি‌বোনা এই মাত্র পাঁচ বছর।
তনয়াঃ ওহ মাই গড! এত কম! আপ‌নি এক কাজ করুন বিশ বছর নি‌য়ে নিন। না না তার থে‌কে বেটার হয় সারাজীব‌নের সময় নি‌য়ে নিন। যা‌কে ব‌লে লাইফ টাইম।
আয়াতঃ রি‌য়ে‌লি?
তনয়াঃ আলু পাইছেন না‌কি। যে বিশ টাকা কি‌লো। সস্তায় পে‌য়ে যা‌বেন? মাত্র তিন মাস সময় দিলাম। এর বে‌শি এক‌দিনও না।
আয়াতঃ কি? তিন মাস?
তনয়াঃ বে‌শি হ‌য়ে গে‌ছে? ঠিক আছে দুই মাস!
আয়াতঃ এই না না তিন মাস। ডান।
তনয়াঃ আজ মা‌সের তিন তা‌রিখ। আগা‌মি ঠিক তিন মাস পর তিন তা‌রিখ। এর ফলাফল হ‌বে।
আয়াতঃ ওকে ডান।
আয়াত ঘ‌ড়ির দি‌কে তা‌কি‌য়ে দে‌খে রাত দু‌টো বা‌জে।
আয়াতঃ তনয়া অনেক রাত হ‌য়ে‌ছে তু‌মি চেঞ্জ ঘু‌মি‌য়ে পড়ো।
তনয়াঃ নো ওয়ে। আ‌মি এখন গোসল কর‌বো তারপর কড়া ক‌রে এক কাপ বে‌শি দুধ চি‌নি দি‌য়ে চা খা‌বো তারপর ঘুমা‌বো। আমা‌কে একটু রান্না ঘ‌রে নি‌য়ে চলুন। চা কর‌বো।
আয়াতঃ তু‌মি গোসল ক‌রো আমি চা ক‌রে নি‌য়ে আসছি।
তনয়াঃ আপ‌নি চা কর‌তে পা‌রেন?
আয়াতঃ কে‌নো পাড়বো না কেনো?
তনয়াঃ না! তেমন কিছু না? মা‌নে ডাক্তাররা ছু‌ড়ি কাঁ‌চি চালা‌নো ছাড়া কিছু জা‌নে?
আয়াতঃ আমি ঘ‌রের বাই‌রের সব কাজ জা‌নি। কালই তোমা‌কে রান্না ক‌রে খাওয়াবো দেখ‌বেন।
তনয়াঃ ওকে। অপেক্ষায় থাকলাম।
তারপর তনয়া ওয়াশরু‌মে গে‌লো আর আয়াত চা বা‌না‌তে গে‌লো। তনয়া গোসল করছে আর ভাব‌ছে ‌কি হ‌য়ে গেলো আমার সা‌থে? এমন তো হবার কথা ছি‌লো না? তাহ‌লে কেন হ‌লো? আচ্ছা আমার বি‌য়ে সিয়ামের সা‌থে হ‌লো না কিন্তু তা‌তে আমার খারাপ লাগ‌লেও ‌কেন যে‌নো কষ্ট হ‌চ্ছে না, আয়া‌তের ওপর রাগ কর‌তে চাই কিন্তু কেন যে‌নো রাগ কর‌তে পার‌ছি না? কেন?
চা নি‌য়ে এসে দে‌খে তনয়া গোসল সে‌রে বের হ‌লো। ভেজা চুল গুলো আনম‌নে মুছ‌তে মুছ‌তে বের হ‌লো। চুল থে‌কে চুই‌য়ে চুই‌য়ে পা‌নি পড়‌ছে। আয়া‌তের চা‌য়ের মগ দু‌টো টি টে‌বি‌লে রে‌খে তনয়ার দি‌কে এক ধ্যা‌নে তা‌কি‌য়ে আছে। তনয়া আয়াত‌কে খেয়াল ক‌রে‌নি। আর আয়াত পলকহীন চো‌থে তনয়ার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। বি‌য়ের শা‌ড়িটা পা‌ল্টে একটা সু‌তির থ্রি‌পিচ প‌ড়ে‌ছে। মু‌খের মেকাপ গু‌লো ধু‌য়ে যাবার পর তনয়া‌কে যে‌নো আরো অসম্ভব সুন্দর লাগ‌ছে। ম‌নে হ‌চ্ছে কোন মায়াবতী। তার মায়ায় আয়া‌তের চোখ দু‌টোকে ধা‌ঁধিয়ে দি‌য়ে‌ছে। আয়াত ভাব‌ছে মে‌য়েরা কে‌নো যে নি‌জের প্রকৃত সৌন্দর্য্য‌কে মেকাপ দি‌য়ে ঢে‌কে রা‌খে?
আয়াত যে‌নো তনয়ার ঘো‌রে প‌রে আছে। প্রবল ভা‌বে তনয়ার দি‌কে আর্ক‌ষিত হ‌চ্ছে। ‌কোন এক অজানা শ‌ক্তি আয়াত‌কে তনয়ার দি‌কে টান‌ছে। আয়াত নি‌জে‌কে তনয়ার থে‌কে দূ‌রে রাখ‌তে পার‌ছে না। ধী‌রে ধী‌রে আয়াত তনয়ার দি‌কে আগাতে লাগ‌লো। আয়াত তনয়ার পিছ‌নে গি‌য়ে তনয়াকে পিছন থে‌কে জ‌ড়ি‌য়ে ধর‌ে তনয়ার চু‌লে নাক ডু‌বি‌য়ে দি‌লো। হঠাৎ এমনটা করায় তনয়া হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো। তনয়া আয়াত‌কে বাধাঁ দি‌তে চাই‌ছে। কিন্তু কেন যে‌নো দি‌তে পার‌ছে না? প্রচন্ড রকম এক ভা‌লো লাগা কাজ কর‌ছে আয়া‌তের ছোঁয়ায়। তনয়া ভাব‌ছে এ কেমন মায়া ? কি নাম এ মায়ার? তনয়া ‌নি‌জের ভিতর অনেকটা সাহস সঞ্চয় ক‌রে বল‌ল,
তনয়াঃ কি কর‌ছেন কি আয়াত?
আয়াত যে‌নো নি‌জের চেতন‌া ফি‌রে পে‌লো। ল‌জ্জিত হ‌য়ে নি‌চের দি‌কে তা‌কি‌য়ে রই‌লো। আয়া‌তের চো‌খে একটা অপরাধ‌বোধ স্পষ্ট ফু‌টে উঠে‌ছে। তনয়া কিছু বল‌তে চে‌য়েও আবার থে‌মে গে‌লো। ভাব‌লো দোষটা তো আয়া‌তের না? আয়াতো নি‌জের স্ত্রী‌কে নিয়ে ম‌নের মা‌ঝে বু‌নে‌ছি‌লো হাজা‌রো স্ব‌প্নের মায়া। তা‌কে অনেক আদর কর‌বে ভা‌লোবাস‌বে আয়া‌তের স্ত্রীও আয়াত‌কে অনেক ভা‌লোবাস‌বে। কিন্তু পরি‌স্থি‌তি পু‌রো বিষয়টা‌কে উল্টো ক‌রে দি‌য়ে‌ছে। প‌রি‌স্থি‌তি যেমন আমার সাজা‌নো স্বপ্ন গু‌লো‌কে ভে‌ঙে‌ছে তেম‌নি আয়া‌তের ম‌নের গভী‌রে সাজা‌নো স্বপ্ন গু‌লো‌কেও তো ভে‌ঙে‌ছে। কিছুক্ষন চুপ থে‌কে তনয়া বল‌ল,
তনয়াঃ আমার চা কোথায়?


অনলাইন বাংলা গল্প 

আয়াত ভে‌বে‌ছি‌লো তনয়া ওকে অনেক কিছু বল‌বে? কিন্তু তনয়া ‌কিছু না বলায় আয়াতের কেমন যে‌নো লাগ‌লো।
চা নি‌য়ে দুজন বারান্দায় পাতা চেয়া‌রে বস‌লো। আজ বাই‌রেটা চাঁ‌দের আলোয় আলো‌কিত। চাঁদটা কিন্তু পূর্নভা‌বে উঠে‌নি? আবার একেবা‌রে অর্ধেকও না তার থে‌কে একটু বে‌শি। মা‌নে চাঁ‌দের পু‌রো অংশটা থে‌কে কিছু প‌রিমান নেই। ম‌নে হয় কেউ চা‌ঁদের একটা কোনা ভে‌ঙে দি‌য়ে‌ছে। তনয়া এ রকম চাঁদ‌কে দুষ্ট‌মি ক‌রে কোনাভাঙা চাঁদ ব‌লে। কিন্তু এ রকম চাঁদেও অনেক জোসৎনা থা‌কে। মায়বি একটা আলো আছে এমন চাঁ‌দে।
দুজন চা‌য়ের কা‌পে চুমুক দি‌লো। চা টা একে বা‌রে ঠান্ডাও না আবার গরমও না। দুজন চ‌ুপ ক‌রে আছে। নীরবতা ভে‌ঙে আয়াত বল‌ল
আয়াতঃ আচ্ছা তনয়া তোমার বাবা তোমাকে এমন কি বল‌লো যে তু‌মি আমার সা‌থে বি‌য়ে হ‌য়ে‌ছে জে‌নেও ‌কোন ধর‌নের সিন‌ক্রি‌য়েট কর‌লে না?
তনয়াঃ (একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছে‌ড়ে) কি দরকার তা জানার? কিছু কথা না হয় অজানাই থাক?

লেখা: শার‌মিন আক্তার সাথী
পর্ব:১
____হঠাৎ ক‌রে বি‌য়ে বা‌ড়ির মহলটা কেমন যে‌নো থমথ‌মে হ‌য়ে গে‌লো।
আধা ঘন্টা আগে‌ তো সব ঠিক ছি‌লো। বি‌য়ে বা‌ড়ির মতই হই হুল্লর চল‌তে ছি‌লো। তাহ‌লে কী এমন হ‌লো যে বি‌য়ে বা‌ড়ির পা‌রিবেশটা এমন থম‌ থ‌মে হ‌য়ে গেলো? নি‌জের রু‌মে বৌ সা‌জে ব‌সে কথা গু‌লো ভাব‌ছে তনয়া। বর এসে‌ছে ব‌লে সবাই সেখা‌নে গে‌ছে। তনয়া রু‌মে একা।
আজ তনয়ার বিয়ে। সবাই ভিষন খু‌শি। তনয়াও খুব খু‌শি। কারন যার সা‌থে তনয়ার বি‌য়ে হ‌চ্ছে তা‌কে তনয়া খুব পছন্দ ক‌রে। ভা‌লোবা‌সে কিনা ও নি‌জেও জা‌নেনা। কিন্তু এতটুকু জা‌নে ও সিয়াম‌কে খুব পছন্দ ক‌রে। আর সিয়াম তো তনয়া‌কে খুব ভা‌লোবা‌সে। ‌কিন্তু ‌বি‌য়েটা পা‌রিবা‌রিক ভা‌বেই হ‌চ্ছে।
তনয়া ভাব‌ছে, কী এমন হ‌লো যে পু‌রো বা‌ড়িটা এমন গ‌ম্ভির হ‌য়ে গে‌লো? নাহ ! আর এভা‌বে একা ব‌সে থাকা যায় না? গি‌য়ে দে‌খি বাই‌রে কী হ‌চ্ছে? তনয়া উঠে দরজা খুল‌তে যা‌বে ওম‌নি ওর মা এসে বল‌লো।
তনয়ার মাঃ কিরে মা? এরকম উঠে কোথায় যা‌চ্ছিস?
তনয়াঃ বাই‌রে কী হ‌য়ে‌ছো গো? প‌রি‌বেশটা কেমন থম‌কে গে‌লো।
তনয়ার মাঃ (কিছুটা তুতলি‌য়ে) আরে তেমন কিছু না। বরপক্ষ এসে‌ছে তো তাই তাদের স্বাগত জানো‌নো হ‌চ্ছে। বড়রা কথা বল‌ছে তাই সবাই চুপ ক‌রে আছে। তুই বস আমি তোর বান্ধ‌বি‌দের‌কে পা‌ঠি‌য়ে দি‌চ্ছি।
তনয়াঃ হুমমমম। ঠিক আছে।
তনয়ার বান্ধ‌বীরা তনয়ার সা‌থে বেশ হা‌সিমু‌খে কথা কথা বল‌তে ছি‌লো। কিন্তু সবার মু‌খে যে‌নো একটা বিষন্নতার ছাপ। সবাই কোন একটা বিষয় নি‌য়ে ভিষন চি‌ন্তিত আছে। তনয়া জি‌জ্ঞেস কর‌তেই কথা অন্য দি‌কে ঘু‌রি‌য়ে দেয়। এর ম‌ধ্যে তনয়ার একটা বান্ধবী (রিয়া) এসে ব‌লে,
‌রিয়াঃ তনয়া তোর বর-------
বা‌কিটুকু বলার আগেই নীশা কথা ঘু‌রি‌য়ে ব‌লে তোর বর হে‌ব্বি দেখ‌তে সেটাই বল‌তে চা‌চ্ছে রিয়া। তাইনা রিয়া তারপর রিয়ার দিকে তা‌কি‌য়ে চো‌খের ইশারায় চুপ কর‌তে বল‌লো।
‌রিয়াঃ হ্যাঁ ঠিক বল‌ছিস। দুলাভাই দেখ‌তে একেবা‌রে উমম্মাাাহ।
তনয়াঃ মুচ‌কি হে‌সে। আচ্ছা তা সিয়াম কি কর‌ছে?
‌নী‌শিঃ কিছুক্ষন পর‌তো সবসময়ের জন্য দুলাভাই‌য়ের কা‌ছে যা‌বি তাহ‌লে এখন এত উতলা কেন হ‌চ্ছিস?
তনয়াঃ উতলা কি সা‌ধে হ‌চ্ছি? গত কাল সকা‌লে কথা হয়ে‌ছে। তারপর দু‌টো মে‌সেস ক‌রে‌ছে। একবারও কথা বল‌তে পা‌রি‌নি।
মিমঃ আহা! এক‌দি‌নের দূরত্বও ম্যাডা‌মের কা‌ছে সহ্য হ‌চ্ছে না। আরে ভাইয়া হয়‌তো বি‌য়ের ঝা‌মেলায় আট‌কে পর‌ছে তাই কল দি‌তে পারে‌নি। টেনশন নিসনা রা‌তে সব হিসাব বরাবর ক‌রে দি‌বে।
তনয়াঃ যাহ! পা‌জি মে‌য়ে গুলা। সবাই হাস‌তে লাগ‌লো। তনয়া‌কে নি‌য়ে দুষ্ট‌মি কর‌তে লাগ‌লো।
‌কিছুক্ষন পর বি‌য়ে বা‌ড়ির পরিবেশটা আবার মুখরি‌তো হ‌তে লাগ‌লো। কিছুক্ষন পর তনয়ার বাবা, কাকা আর ওর মামা সা‌থে কাজী নি‌য়ে ডুক‌লো। কাজী রে‌জি‌ট্রি খাতায় তনয়া‌কে সাইন ক‌রা‌লো তারপর কবুল বল‌তে বল‌লো। তনয়া ছলছল চো‌খে বাবার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। তনয়ার বাবা তনয়ার পা‌শে ব‌সে ওর হাতটা ধ‌রে বল‌ল,
তনয়ার বাবাঃ কবুল বল মা!
তনয়া অনেকক্ষন চুপ থে‌কে কবুল বললো।
‌বি‌য়ে সম্পান্ন হ‌লো। সবাই মি‌লে মি‌ষ্টি মুখ কর‌লো।
মে‌য়ে বিদা‌য়ের কতক্ষন আগে তনয়ার বাবা আর মা তনয়ার রু‌মে আস‌লো। আর বল‌লো তারা তনয়ার সা‌থে কিছু কথা বল‌তে চায়। সবাই রুম থে‌কে বের হ‌য়ে গে‌লো।
তনয়ার বাবাঃ আচ্ছা মা ছোট বেলা থে‌কে তুই যত ভুল বা অন্যায় ক‌রে‌ছিস আমরা মাফ ক‌রে‌ছি না বল?
তনয়াঃ হ্যাঁ বাবা ক‌রে‌ছো।
তনয়ার বাবাঃ আচ্ছা তোর বাবা মা য‌দি একটা ভুল ক‌রে তাহ‌লে কি তুই মাফ কর‌তে পার‌বি?
তনয়াঃ বাবা তু‌মি এমন কথা কেন বল‌ছো?
তনয়ার বাবাঃ দেখ মা মানু‌ষের জীবনটা সহজ না। জীবনটা ঠিক আবহাওয়ার মত এই রোদ, এই মেঘ, এই বৃ‌ষ্টি। জীব‌নের মোড় যে‌ কো‌নো সময় যে কোন দিকে ঘু‌রে যে‌তে পা‌রে । আর মানুষ হিসা‌বে আমা‌দের উচিৎ সেই মো‌ড়েটা‌কে সহজ ভা‌বে নেয়া। দেখ মা যতই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকুক না কেন? যতই ঝড়বৃ‌ষ্টি আসুক না কেন? আমরা কিন্তু জা‌নি রোদ উঠ‌বেই। ঠিক তেম‌নি জীব‌নে হঠাৎ কোন ঝড় বা দুঃখ কষ্ট এলে আমা‌দের আল্লাহর উপর ভরশা রাখা উচিৎ আর এটা বিশ্বাস রাখা উচিৎ যে ঝড়টা থাম‌বেই আর সোনালী রোদ উঠ‌বেই।
তনয়াঃ বাবা এগুলো আ‌মি বুঝ‌তে পার‌ছি কিন্তু এগুলো এখন আমা‌কে বলার মা‌নে কি!
তনয়ার বাবাঃ তোর বাবা আজ তোর সা‌থে একটা অন্যায় ক‌রে‌ছে। আর সেটার জন্য আগে থে‌কেই মাফ চে‌য়ে নি‌চ্ছে। কিন্তু এটা জে‌নে রাখ মা। তোর বাবা মা তোর জন্য যাই কর‌বে সব তোর ভা‌লোর জন্যই কর‌বে। প্লিজ মা আমার ভু‌লের জন্য আমায় মাফ ক‌রে দিস।
তনয়াঃ বাবা প্লিজ এমন ব‌লো না। প্রথমত আমি জা‌নি তু‌মি আমার সা‌থে কোন অন্যায় কর‌তে পা‌রো না। আর দ্বিতীয়ত য‌দিও তেমন কিছু করো তাহ‌লে সেটা আমার ভা‌লোর জন্যই কর‌বে। আমি তোমা‌কে আর মা‌কে পৃ‌থিবী‌তে সব থে‌কে বেশি বিশ্বাস ক‌রি। এখন‌তো ব‌লো তোমরা কী করে‌ছো?
তনয়ার বাবাঃ তো‌কে না জা‌নি‌য়ে তোর সিদ্ধান্ত না জে‌নে আমরা একটা কাজ ক‌রে ফে‌লে‌ছি !
তনয়াঃ কি কাজ বাবা?
তনয়ার বাবাঃ (তনয়ার হাতদু‌টো ধ‌রে বল‌লো) মা তোর বি‌য়ে সিয়া‌মের সা‌থে হয়‌নি?
তনয়াঃ কি? বাবা তু‌মি কি বল‌ছো? তু‌মি কি আমার সা‌থে মজা কর‌ছো?
তনয়ার বাবাঃ না‌রে মা এখন মজা করার সময় না?
তনয়াঃ তাহ‌লে আমার যে বি‌য়ে হ‌লো?
তনয়ার বাবাঃ হ্যাঁ তোর বি‌য়ে হ‌য়ে‌ছে কিন্তু সিয়া‌মের সা‌থে না আয়া‌তের সা‌থে!
তনয়াঃ কী আয়াত? আয়াত এর মা‌ঝে কোথা থে‌কে এলো? আর সিয়ামই বা কোথায়? ও কেন এলো না? আয়াত কেন এলো? আর আমার বি‌য়ে আয়া‌তের সা‌থে কেন হ‌লো? আর তোমরা কেন রা‌জি হ‌লে? তোমরা কেন আমার বি‌য়ে আয়া‌তের সা‌থে দিলা? এক সা‌থে অনেক গু‌লো প্র‌শ্ন ক‌রে বস‌লো তনয়া। তনয়ার বাবা ঠিক কি উত্তর দি‌বে ভে‌বে পা‌চ্ছে না। তারপর বল‌লো
তনয়ার বাবাঃ সিয়াম নি‌জেই এমনটা কর‌তে বল‌ছে।
বাবার কথা শু‌নে তনয়া হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো। আরো কিছু কথা বল‌লো তনয়ার বাবা।
‌কিছুক্ষন পর -----
তনয়াকে বিদায় দেয়া হচ্ছে। তনয়ার বাবা মা, কাকারা, কা‌কিরা, আত্নীয় স্বজন সবাই প্রায় কাঁদ‌ছে। কারন তনয়া‌কে সবাই ভিষন ভা‌লোবাস‌তো। নিশী তনয়ার কা‌নের কা‌ছে গি‌য়ে কি যে‌নো বল‌লো। তনয়া নিশীর কথা শু‌নে কিছু বল‌লো না। এম‌নি‌তেও কতক্ষন ধ‌রে কাঁদ‌ছে। চোখ দু‌টো এখন জ্বল‌ছে তনয়ার। তনয়ার বাবা তনয়ার হাতটা আয়া‌তের হা‌তে রাখ‌লো। প্রথম বার তনয়া আয়া‌তের হা‌তের স্পর্শ পে‌লো। তনয়ার ভিষন অস‌স্তি লাগছে। আর আয়াত শক্ত ক‌রে তনয়ার হাতটা ধর‌লো। তনয়ার বাবা বল‌লো---------
তনয়ার বাবাঃ তোমা‌কে ঠিক কী বল‌বো ভে‌বে পা‌চ্ছি না? শুধু এটাই বল‌বো তনয়া‌কে ভা‌লো রাখার আর ভা‌লোবাসার চেষ্টা ক‌রো। আর নি‌জে‌দের সম্পর্কটা‌কে সম্মান ক‌রো। কারন স্বামী-স্ত্রী‌র সম্প‌র্কে সম্মান জি‌নিসটা ভা‌লোবাসার চে‌য়েও বড় ঔষ‌ধের কাজ ক‌রে। ভা‌লো থে‌কো।
আয়াতঃ ভরসা রাখ‌তে পা‌রেন। আপনার ভরসা ভাঙ‌বো না।
তনয়ার মাঃ মে‌য়েটার দি‌কে খেয়াল রে‌খো ?
আয়াতঃ চিন্তা কর‌বেন না মা! আপনা‌দের ভরসা ভাঙ‌বো না। আপনা‌দের ভা‌লোবাসার মান রাখার চেষ্টা কর‌বো।
তনয়া‌কে গা‌ড়ি‌তে উঠি‌য়ে সবাই আয়া‌তের বা‌ড়ির উদ্দে‌শ্যে রওনা দি‌লো। আয়াত আর তনয়া একটা গা‌ড়ি‌তে আর বা‌কি সবাই অন্য গা‌ড়ি‌তে যা‌চ্ছে। সারা রাস্তায় তনয়া একটা কথাও বল‌লো না। বাই‌রের দি‌কে তা‌কি‌য়ে শুধু কান্না কর‌েছে।
‌কিছুক্ষন পর গাড়ি রাস্তার এক‌টি মো‌ড়ের সাম‌নে থাম‌লো। ‌রাস্তার মোড়‌টির দি‌কে তা‌কি‌য়ে তনয়া ব‌ুকটা কেঁ‌পে উঠ‌লো। কারন সেই মোড় থে‌কে দু‌দি‌কে দু‌টো রাস্তা গে‌ছে। আর এক দিকের রাস্তা দি‌য়ে সিয়াম‌দের বা‌ড়ি যায় আর অন্য দি‌কের রাস্তা দি‌য়ে আয়াত‌দের বা‌ড়ি যায়। গা‌ড়ি আয়া‌তের রাস্তায় ঢুক‌লো কিন্তু তনয়ার চোখ দু‌টো সিয়াম‌দের বা‌ড়ি যাবার রাস্তাটার দি‌কে তা‌কি‌য়ে আছে। যতক্ষন পর্যন্ত রাস্তাটা দেখা যা‌চ্ছি‌লো ততক্ষন পর্যন্ত তা‌কি‌য়ে ছি‌লো । কিছুক্ষন পর গা‌ড়ি এসে আয়াত‌দের বা‌ড়ির সাম‌নে থাম‌লো। বা‌ড়ি‌টি বেশ সুন্দর। আর খুব ঝাকঝমক পূর্নভা‌বে সাজা‌নো। তনয়া তা দে‌খে অবাক হ‌লো। আর ভাব‌ছে বাবার যা ব‌লে‌ছে তা‌তে এত দ্রুত বা‌ড়ি এত সুন্দর ক‌রে সাজা‌নো সম্ভব না।
‌বধূ বরনের সকল নিয়ম কানুন শে‌ষে তনয়া‌কে আয়া‌তের বড় বোন আয়া‌তের রু‌মে নি‌য়ে আস‌লো। তনয়া রুমটার চার দি‌কে তা‌কি‌য়ে হতভম্ব হ‌য়ে গে‌লো। কারন রুমটা ঠিক তেমন ভা‌বে সাজা‌নো যেমটা তনয়া স্ব‌প্নে কল্পনা কর‌তো। ম‌নে হ‌চ্ছে তনয়ার স্বপ্ন গু‌লো‌কে চু‌রি ক‌রে এ ঘ‌র বা রুমটা সাজা‌নো হ‌য়ে‌ছে । তনয়া‌কে বিছানায় ব‌সি‌য়ে দি‌য়ে আয়া‌তের বোন চ‌লে গে‌লো।
তনয়া অবাক হ‌য়ে রুমটা দেখ‌তে লাগলো। কারন পু‌রো রু‌মে লি‌লি আর অর্কিড ফু‌লের সমা‌রোহ। সব রঙের অর্কিডই তনয়ার খুব পছন্দ। কিন্তু সাদা অর্কিডটা তনয়ার ভিষন পছন্দ। আর লি‌লি! প্র‌ত্যেকটা ফুল তনয়া ভিষন পছন্দ। তনয়া ভাব‌ছে এগু‌লো আয়াত কিভা‌বে জা‌নে ?
এর ম‌ধ্যে আয়াত রু‌মে এসে বল‌লো
আয়াতঃ কী ভাব‌ছো? তোমার পছ‌ন্দের কথা আমি কি ক‌রে জানলাম? আই লাভ ইউ তনয়া।



শাড়ী পাগলী
লেখকঃ টিটু
আচ্ছা এই দু”টো শাড়ি আমাকে প্যাক করে দিন।
-জ্বী আচ্ছা স্যার।
-আচ্ছা আরেকটা কাজ করুন নীল যে শাড়িটা দেখেছিলাম প্রথমে ওটাও দিন প্যাক করে। বিল হবে তিনটা শাড়ির।
-এই যে আমাকে নীল শাড়িটা দিন। এই শাড়িটা আমি নিবো।
কথাটা শুনে ঘুরে তাকালাম। ঘুরেই ধাক্কার মতো খেলাম। ঢাকার বিলাসবহুল কোন শপিং সেন্টারে কোন মেয়ে খোলা চুলে, কানে বেলি ফুল গুঁজে, টিয়া পাতা রঙ্গের শাড়ি পরে আসবে। বিষয়টা একটু অবাক হওয়ার মতো।
-সরি ম্যাম শাড়িটা সেল হয়ে গেছে।
সেলসম্যানের তড়িৎ জবাব।
আমি হাতের ইশারায় ওকে চুপ করতে বললাম।
-এক্সকিউজ মি আপু, আজ তো আপনার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন। অনেক শুভকামনা থাকলো।
এবার মেয়েটার অবাক হওয়ার পালা। মেয়েদের অবাক হওয়া বিষয়টা দারুণ। প্রথমে ভ্রু একটু উপরে উঠে কুঁচকে যায়। এরপর চোখে বিস্ময় খেলা করে। তা ঝরে পড়ে কথার শ্রাবণ হয়ে।
-আ..আপনি কি করে জানলেন?
মেয়েটির কন্ঠে নিখাদ বিস্ময়।
-আমি অনেক কিছু টের পাই। কিভাবে টের পাই বা বুঝতে পারি ঐ প্রসঙ্গ থাকুক। এনিওয়ে, আপনার চয়েজ করা নীল শাড়িটা আমি আপনাকে উপহার হিসেবে দিচ্ছি।
-অপরিচিত কারো থেকে উপহার কেন নিবো?
-আমরা সবাই একে অপরের অপরিচিত ছিলাম। একটা কারণ শাব্দিক পরিচিতি এনেছে। শাব্দিক বলছি কারণ পুরোটা পরিচয় কখনোই সম্ভব না। ধরুন, আমার আর আপনার মাঝখানে এই পরিচয়ের8 কারণ এই শাড়ি। আপনার উপহারটা কাউন্টারে থাকবে। চাইলে নিতে পারেন। আসি ভালো থাকবেন।
আমি কথা না বাড়িয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালাম।
পেছন থেকে মেয়েটা ডাক দিলো
-শুনুন না! এই যে!
আমি মুচকি হেসে বললাম;
-“বলুন”
-আমাকে উপহার দিয়ে কৃতজ্ঞ করে রাখলেন। অথচ নাম ধাম কিছুই বললেন না। পরে আপনাকে পাবো কোথায়?
-আমাকে পাওয়াটা খুব কি জরুরী? আচ্ছা একটা কথা বলি। আপনার সাথে আমার আবার দেখা হবে। এখন আপনি বলবেন কি করে শিওর হলাম তাই তো?
-জ্বী!
-বললাম না আমার অনেক কিছু মনে হয়। আর আমি আয়োজন করে দেখা করার চাইতে হঠাৎই দেখা পছন্দ করি। একই আকাশের নিচে হঠাৎ করে দেখা হওয়ার আবেগটা শুদ্ধ থাকে।
মেয়েটাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আমি বেরিয়ে গেলাম। অব্যক্ত অনুরণ থাকুক কিছু কথার।
এ ঘটনার ছয়মাস পার হয়ে গেলো। মেয়েটার সাথে আমার আর দেখা হয়নি। আমার তাতে ভাবান্তর নেই। আমার বিশ্বাস খুব শক্ত। দেখা হবেই। ভাগ্য আজকে আমাকে সেই সুযোগটা দিলো। মিরপুর ষ্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাচ্ছি। পেছন থেকে ডাক শুনলাম।
-এই যে হ্যালো দাঁড়ান…এই যে।
ঘুরে তাকিয়ে দেখি সেই শাড়িওয়ালী। কাকতালীয় ভাবে আমার তাকে দেওয়া সেই নীল শাড়িটা আজ সে পরে আছে।
-এই যে মিষ্টার আমায় চিনেছেন?
-আমি সাধারণত নীল শাড়ি কাউকে উপহার হিসেবে দেই না। তবে কাউকে দেওয়ার অর্থ সে আমার কাছে স্পেশাল।
-ঐ দিন কার জন্য কিনছিলেন তবে?
আমি হাসতে হাসতে বললাম;
-স্পেশাল আরেকজনের জন্য। পরে, ভাবলাম তার থেকে আপনিই স্পেশাল।
-সে কোথায়?
-আছে কোথাও। আপনার মতো তার সাথেও হতে পারে একদিন দেখা হবে।
-তখন কি আপনি তাকে শাড়ি দিবেন? নীল শাড়ি?
-বলতে পারছি না।
-আমি চাই তার সাথে আপনার আর না দেখা হোক। আমি খুব কেড়ে নিতে পারি। তার থেকেও আপনাকে কেড়ে নিবো। ছোটবেলায় আমি খুব দস্যি ছিলাম তো।
আমি হেসে দিলাম।
-আপনি কি সবসময়ে শাড়ি পরে থাকেন?
-হুমম!!সব সময়। শাড়ি আমার খুব পছন্দ।
আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম এক দৃষ্টিতে। জীবনের জোয়ারে ভেসে একটা ফুল যেনো। এই মেয়েটা থেকে দূরে যাওয়া যাবে না। এই মেয়েটার হাত যতনে ধরে রাখা দরকার। যত যাই হোক, এই মেয়ের কত শত পাগলামিকে আমায় প্রশ্রয় দিতে হবে। এই মেয়েকে ব্যথা দেওয়া যাবে না। এই মেয়ের সব বাড়াবাড়িকে আপন করে আগলে রাখতে হবে।
-চলুন রাস্তার ওপারে যাই।
মেয়েটা কথা না বাড়িয়ে ওর আঁচলটা আমার হাতে বেঁধে দিলো। ওপারে অনেকগুলি শাড়ির দোকান আছে। এই মেয়ের শাড়ি পরা অভ্যাস। আমার অভ্যাস ওর শাড়ির মায়াতে থেকে যাওয়া। না হয় হলো বেহিসেবী অভ্যাস।
সত্যি তোকে ছাড়া থাকা যাবে না পাগলী।
গল্পটা শুধু একজনের উদ্দেশ্য জানি না সে শাড়ি পড়তে ভালোবাসে কিনা কিন্তু তোমাকে শাড়িতে অনেক সুন্দর লাগে। কথায় আছে শাড়ীতে নারী তোমাকে না দেখলে বুঝতাম না।
Powered by Blogger.